ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতুল বসাকের মতবিনিময়, রামরাই বিনোদন পার্কের প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে আলোচনা

বেইলি ব্রিজ ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, পরিদর্শনে জেলা পরিষদ প্রশাসক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / 91
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা বাজার এলাকায় ভেঙে পড়া বেইলি ব্রিজ পরিদর্শন করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

সোমবার (৮ জুন) সকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি সরেজমিনে খোঁজখবর নেন। গতকাল ভোর রাতে বালুবোঝাই একটি ট্রাকসহ প্রায় ১০ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা গোয়াতলা বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইন্দু ভূষণ বিশ্বাস, গোয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম তালুকদার টোটন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মানিক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পরিদর্শন শেষে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ধোবাউড়া-তারাকান্দা সড়কের গোয়াতলা বেইলি ব্রিজ ভেঙে পড়ায় এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন যাতায়াতে ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। এই সড়কটি এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, গোয়াতলা বেইলি ব্রিজ ভেঙে পড়ার সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, এলজিইডি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ময়মনসিংহ জেলা প্রকৌশলী এবং ধোবাউড়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জনদুর্ভোগ নিরসনে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ, দ্রুত বেইলি ব্রিজ সংস্কার এবং স্থায়ী নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছি।

প্রিন্স জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে একটি ডিও পত্রও দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ভেঙে পড়া বেইলি ব্রিজটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে এই ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও একটি স্থায়ী নতুন সেতু নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর জনগণ অনিশ্চয়তার মধ্যে চলাচল করেছে। আমরা বিগত নির্বাচনে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার আগেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আরও বলেন, ধোবাউড়া-তারাকান্দা সড়ক এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত অস্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি স্থায়ী নতুন সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আমি আশা করি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এলজিইডি বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করবে।

স্থানীয় জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, সচিব, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং জেলা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ীভাবে ব্রিজ পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি।

পরিদর্শন শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজের বিষয়ে দ্রুত কারিগরি প্রতিবেদন প্রস্তুতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বেইলি ব্রিজ ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, পরিদর্শনে জেলা পরিষদ প্রশাসক

আপডেট সময় : ০২:১৫:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা বাজার এলাকায় ভেঙে পড়া বেইলি ব্রিজ পরিদর্শন করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

সোমবার (৮ জুন) সকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি সরেজমিনে খোঁজখবর নেন। গতকাল ভোর রাতে বালুবোঝাই একটি ট্রাকসহ প্রায় ১০ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা গোয়াতলা বেইলি ব্রিজটি ভেঙে পড়ে।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইন্দু ভূষণ বিশ্বাস, গোয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম তালুকদার টোটন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম কাজল, সদস্য সচিব আনিসুর রহমান মানিক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটনসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পরিদর্শন শেষে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ধোবাউড়া-তারাকান্দা সড়কের গোয়াতলা বেইলি ব্রিজ ভেঙে পড়ায় এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষ প্রতিদিন যাতায়াতে ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। এই সড়কটি এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, গোয়াতলা বেইলি ব্রিজ ভেঙে পড়ার সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, এলজিইডি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ময়মনসিংহ জেলা প্রকৌশলী এবং ধোবাউড়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জনদুর্ভোগ নিরসনে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ, দ্রুত বেইলি ব্রিজ সংস্কার এবং স্থায়ী নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছি।

প্রিন্স জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কাছে একটি ডিও পত্রও দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ভেঙে পড়া বেইলি ব্রিজটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে।

তিনি বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে এই ব্রিজটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও একটি স্থায়ী নতুন সেতু নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর জনগণ অনিশ্চয়তার মধ্যে চলাচল করেছে। আমরা বিগত নির্বাচনে এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার আগেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স আরও বলেন, ধোবাউড়া-তারাকান্দা সড়ক এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত অস্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি স্থায়ী নতুন সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আমি আশা করি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এলজিইডি বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করবে।

স্থানীয় জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, সচিব, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং জেলা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ীভাবে ব্রিজ পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি।

পরিদর্শন শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজের বিষয়ে দ্রুত কারিগরি প্রতিবেদন প্রস্তুতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।