বৈধ ভিসায় গ্রিসে গিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন বাংলাদেশিরা
- আপডেট সময় : ০৩:২০:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
- / 50
বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ভিসা থাকলেও গ্রিসে পৌঁছে নির্ধারিত কাজ না পেয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন শতাধিক বাংলাদেশি। প্রতিশ্রুত নিয়োগকর্তার হদিস না পাওয়ায় এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই ইতিমধ্যেই অবৈধ প্রবাসী হয়ে পড়েছেন। অসাধু মালিক ও দালালদের প্রতারণায় বিপাকে পড়ে তারা বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বারস্থ হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালালরা ১০–১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে গ্রিসের বিভিন্ন কোম্পানিতে ভালো বেতনে কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু গ্রিসে পৌঁছালে দেখা যায়, সেই নিয়োগকর্তার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই।
তদন্তে জানা গেছে, দালালরা গ্রিসের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু কৃষি জমির মালিকদের কাছে ৫০০–১০০০ ইউরো দিয়ে কাগজের ওপর ভিত্তি করে ‘ওয়ার্ক পারমিট’ সংগ্রহ করে। এরপর সেই পারমিট দেখিয়ে দেশে ভিসার আবেদন করা হয়। কিন্তু প্রবাসীরা গ্রিসে পৌঁছালে চাকরির কোনো হদিস মেলে না। চুক্তি অনুযায়ী ভিসা নবায়ন করার সুযোগ থাকলেও, বাস্তব নিয়োগকর্তার অনুপস্থিতিতে সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে, নির্ধারিত সময়ের পর বৈধ প্রবাসীরাও অবৈধ হয়ে যাচ্ছেন, এবং অনেকে ইউরোপের অন্য দেশে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী আসিফ মিয়া বলেন, “দালালকে ১৩ লাখ টাকা দিয়ে কৃষি খামারে কাজের আশায় এসেছিলাম। এখানে এসে দেখি মালিকের কোনো খোঁজ নেই। এখন কাজও নেই, কাগজও নেই।”
অন্য ভুক্তভোগী ইব্রাহিম হোসেন জানান, “মাসে ১২০০ ইউরো বেতনের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু যে কোম্পানির নামে ভিসা হয়েছে, বাস্তবে তার কোনো অফিসই পাওয়া যায়নি।”
প্রবাসী নাসিম হোসেন বলেন, “১১ মাস পার হয়ে গেছে, দালালরা ফোন ধরছে না। ১ মাস পর আমি অবৈধ হয়ে যাবো। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।”
এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন ভুক্তভোগী এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং আইনি সহায়তা চেয়েছেন। এ বিষয়ে এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মার্জিয়া সুলতানা বলেন, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও অনেকে প্রতিশ্রুত নিয়োগকর্তাকে পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রদূত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং সমস্যা সমাধানের জন্য দূতাবাসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়োগকর্তার বৈধতা যাচাই করা অপরিহার্য। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মানিক হোসেন বলেন, কাগজের ওপর ভিত্তি করে ভিসা না করে নিয়োগকর্তা, চুক্তিপত্র ও কাজের ধরণ ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে বাংলাদেশ ও গ্রিসের মধ্যে শ্রমিক নেওয়ার সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছিল। তবে বাংলাদেশে গ্রিক দূতাবাস না থাকায় সাধারণ কর্মীরা এর পূর্ণ সুবিধা পাচ্ছেন না। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দালাল চক্র বৈধ কর্মসংস্থানের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।




















