ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি: Tarique Rahman

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • / 124
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠানে মুসলিম ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের পুরোহিত, সেবায়েত এবং বিহার অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত আছেন। সমাজে এসব মানুষ এমন এক শ্রেণির প্রতিনিধি, যাদের কাছে মানুষ কঠিন সময়ে দিকনির্দেশনা ও উপদেশের প্রত্যাশা করে।

তিনি জানান, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের সহায়তা এবং আর্থিক বৈষম্য কমাতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে দরিদ্র ও অসচ্ছল নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিতরণ করা হবে। আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ চালু হবে। এছাড়া ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে।

এদিন থেকেই ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে যাদের প্রয়োজন, তাদের সবাইকে এই সহায়তার আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায় সরকার, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচার বা অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে। তিনি বলেন, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র কেবল আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যই নয়, বরং ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও জরুরি। এসব মানবিক গুণ অর্জনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদকে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি স্মরণ করেন যে, Ziaur Rahman সরকারের সময় দেশে প্রথম ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু করা হয়েছিল এবং ১৯৯৩ সালে Khaleda Zia সরকারের আমলে ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম শুরু হয়।

সরকারের নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৪৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কেউ যদি সামাজিক বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে চান, তবে সরকার তাদের সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। এছাড়া প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় একজন করে ইমাম বা ধর্মীয় প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভোটের কালি মোছার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি: Tarique Rahman

আপডেট সময় : ০৯:৩৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অনুষ্ঠানে মুসলিম ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের পাশাপাশি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মের পুরোহিত, সেবায়েত এবং বিহার অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত আছেন। সমাজে এসব মানুষ এমন এক শ্রেণির প্রতিনিধি, যাদের কাছে মানুষ কঠিন সময়ে দিকনির্দেশনা ও উপদেশের প্রত্যাশা করে।

তিনি জানান, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের সহায়তা এবং আর্থিক বৈষম্য কমাতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে দরিদ্র ও অসচ্ছল নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিতরণ করা হবে। আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ চালু হবে। এছাড়া ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে।

এদিন থেকেই ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে যাদের প্রয়োজন, তাদের সবাইকে এই সহায়তার আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চায় সরকার, যাতে ভবিষ্যতে কোনো স্বৈরাচার বা অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে। তিনি বলেন, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র কেবল আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যই নয়, বরং ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও জরুরি। এসব মানবিক গুণ অর্জনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে। এসব মসজিদকে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি স্মরণ করেন যে, Ziaur Rahman সরকারের সময় দেশে প্রথম ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু করা হয়েছিল এবং ১৯৯৩ সালে Khaleda Zia সরকারের আমলে ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম শুরু হয়।

সরকারের নতুন কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে ৪৯০৮টি মসজিদ, ৯৯০টি মন্দির এবং ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের মোট ১৬ হাজার ৯৯২ জন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কেউ যদি সামাজিক বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে চান, তবে সরকার তাদের সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। এছাড়া প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় একজন করে ইমাম বা ধর্মীয় প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।