ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহে জ্বালানি সংকট: পাম্পে তেল নেই, খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • / 143
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:

ঈদুল ফিতরের ছুটিকে ঘিরে ময়মনসিংহ জেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। কোথাও “স্টক শেষ” বা “তেল নেই” সাইনবোর্ড ঝুলছে, আবার কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে চালকদের।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নগরীর পুলিশ লাইন, বাইপাস মোড়সহ নান্দাইল, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ত্রিশাল ও ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঈদের ছুটিতে নতুন করে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের আগে মজুত করা তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন করে তেল আনতে ডিপোতে গাড়ি পাঠানো হয়েছে; সরবরাহ পেলেই আবার বিক্রি শুরু হবে।

এদিকে জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও পরিবহন শ্রমিকরা। হাজারীবাগ এলাকার ট্রাকচালক রিয়াজ জানান, পটুয়াখালী থেকে তরমুজ নিয়ে ভালুকায় আসার পথে প্রায় ৩৫টি পাম্প ঘুরেও তিনি তেল পাননি। কোথাও পাওয়া গেলেও ৫ লিটারের বেশি দেওয়া হচ্ছে না।

ভালুকার মেদুয়ারী এলাকার বাসিন্দা মোখলেস অভিযোগ করেন, পাম্পে তেল না থাকায় বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একই অভিযোগ করেছেন ত্রিশালের আমিরাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রমজান। তিনি বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রায় সব পাম্প ঘুরেও তেল পাওয়া যায়নি। দ্রুত সংকট নিরসনে সরকারি উদ্যোগ জরুরি।

ময়মনসিংহ সদর এলাকার রায়হান হাবিব জানান, তারাকান্দা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত কোথাও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না, যদিও খোলা বাজারে তা সহজলভ্য।

ভালুকার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী মোস্তফা বলেন, গ্যাস ও ডিজেল পাওয়া গেলেও অকটেনের সরবরাহ নেই। সহকারী অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার শাওন জানান, সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকদের অকটেন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ময়মনসিংহে জ্বালানি সংকট: পাম্পে তেল নেই, খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:২২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:

ঈদুল ফিতরের ছুটিকে ঘিরে ময়মনসিংহ জেলায় দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। কোথাও “স্টক শেষ” বা “তেল নেই” সাইনবোর্ড ঝুলছে, আবার কোথাও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে চালকদের।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) নগরীর পুলিশ লাইন, বাইপাস মোড়সহ নান্দাইল, মুক্তাগাছা, ফুলবাড়িয়া, ত্রিশাল ও ভালুকা উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ঈদের ছুটিতে নতুন করে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের আগে মজুত করা তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন করে তেল আনতে ডিপোতে গাড়ি পাঠানো হয়েছে; সরবরাহ পেলেই আবার বিক্রি শুরু হবে।

এদিকে জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও পরিবহন শ্রমিকরা। হাজারীবাগ এলাকার ট্রাকচালক রিয়াজ জানান, পটুয়াখালী থেকে তরমুজ নিয়ে ভালুকায় আসার পথে প্রায় ৩৫টি পাম্প ঘুরেও তিনি তেল পাননি। কোথাও পাওয়া গেলেও ৫ লিটারের বেশি দেওয়া হচ্ছে না।

ভালুকার মেদুয়ারী এলাকার বাসিন্দা মোখলেস অভিযোগ করেন, পাম্পে তেল না থাকায় বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

একই অভিযোগ করেছেন ত্রিশালের আমিরাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রমজান। তিনি বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের প্রায় সব পাম্প ঘুরেও তেল পাওয়া যায়নি। দ্রুত সংকট নিরসনে সরকারি উদ্যোগ জরুরি।

ময়মনসিংহ সদর এলাকার রায়হান হাবিব জানান, তারাকান্দা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত কোথাও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না, যদিও খোলা বাজারে তা সহজলভ্য।

ভালুকার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী মোস্তফা বলেন, গ্যাস ও ডিজেল পাওয়া গেলেও অকটেনের সরবরাহ নেই। সহকারী অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার শাওন জানান, সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকদের অকটেন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।