ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

যখন সমাজ নিঃশ্বাস হারায়, শিল্পই হয়ে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা, অনসাম্বল থিয়েটারের ‘আই কান্ট ব্রিদ’ যেনো সময়ের আয়না

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
  • / 94
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

ময়মনসিংহের অন্যতম নাট্যসংগঠন অনসাম্বল থিয়েটারের প্রযোজনা ‘আই কান্ট ব্রিদ’-এর সপ্তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায়। রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে দর্শকসমাগমে নাটকটির প্রদর্শনী হয়।

দলের ৪৬তম প্রযোজনা হিসেবে নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন জুয়েল কবির। তমাল শেখর দে’র ছায়া-কবিতা অবলম্বনে নির্মিত এই নাটকে একক অভিনয় করেন মো. আবুল মনসুর।

নাটকের সেট ও লাইট ডিজাইন করেছেন ফজলে রাব্বি সূকর্ন, কস্টিউম ডিজাইন করেছেন রিবন খন্দকার, সংগীত পরিচালনায় ছিলেন এ বি এম তানভীর আলম সজিব, মেকআপে শুভাশিস দত্ত তন্ময়, এবং শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন ড. আইরিন পারভীন লোপা।

‘আই কান্ট ব্রিদ’ নাটকটি নিপীড়িত ও প্রান্তিক মানুষের শ্বাসরুদ্ধ বাস্তবতার এক তীব্র প্রতীক। সমাজে বেড়ে ওঠা বৈষম্য, অন্যায়, দুর্নীতি ও দমবন্ধ মানসিক অবস্থাকে নাটকটি মঞ্চে রূপ দিয়েছে এক অনন্য প্রতীকী ভাষায়। আলো, শব্দ, সংগীত ও একক অভিনয়ের শক্তিশালী মেলবন্ধনে জীবন্ত হয়ে ওঠে প্রতিবাদের এক আবেগঘন চিত্র।

দর্শকদের অনেকেই জানিয়েছেন, নাটকটি “নিঃশ্বাস নিতে না-পারা মানুষের জীবন্ত চিৎকার”। এক দর্শকের ভাষায়, “এই নাটক আমাদের সময়ের নির্মম আয়না।”

নাট্যসমালোচকরা বলছেন, জীবনের চরম সত্য ও মানুষের অস্তিত্ব সংকটকে শিল্পের গভীর ভাষায় প্রকাশ করেছে এই প্রযোজনা। একক অভিনয়ে আবুল মনসুর তাঁর অসাধারণ মঞ্চ উপস্থিতি, কণ্ঠ ও শরীরী ভাষার সংবেদন দিয়ে নাটকটিকে করেছেন আরও প্রাণবন্ত ও চিন্তাপ্রবণ।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘আই কান্ট ব্রিদ’ কেবল রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নয়—এই প্রযোজনা বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ধারাবাহিকভাবে মঞ্চায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দলটি বলছে, “এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সাংস্কৃতিক অনুরাগী, প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল নাগরিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।”

প্রায় দুই দশকের নাট্যযাত্রায় অনসাম্বল থিয়েটার মঞ্চে এনেছে ৪৮টি প্রযোজনা। দলের মূল দর্শন প্রতিবাদ, সত্য উচ্চারণ ও সংস্কৃতির মুক্তি।
‘আই কান্ট ব্রিদ’ সেই ধারাবাহিকতারই এক শক্তিশালী সম্প্রসারণ, যা সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করছে এক প্রজন্মের নিঃশ্বাসরুদ্ধ চিৎকার।

নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়েছিল গত ৩০ এপ্রিল, একই মঞ্চে। প্রথম প্রদর্শনী থেকেই নাটকটি নাট্যপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়, প্রতিটি মঞ্চায়নে দর্শকের গভীর আবেগ ও প্রতিক্রিয়া অর্জন করে।

নাট্যজগতের বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, ‘আই কান্ট ব্রিদ’ বর্তমান সমাজের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতি এক সাহসী শিল্প প্রতিক্রিয়া।
তাদের মতে, এটি আমাদের সময়, সমাজ ও মানবিক বিবেকের প্রতিচ্ছবি, যা বাংলাদেশের সমকালীন নাট্যচর্চায় এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

যখন সমাজ নিঃশ্বাস হারায়, শিল্পই হয়ে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা, অনসাম্বল থিয়েটারের ‘আই কান্ট ব্রিদ’ যেনো সময়ের আয়না

আপডেট সময় : ০৪:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | শনিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৫

ময়মনসিংহের অন্যতম নাট্যসংগঠন অনসাম্বল থিয়েটারের প্রযোজনা ‘আই কান্ট ব্রিদ’-এর সপ্তম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায়। রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার স্টুডিও থিয়েটার হলে দর্শকসমাগমে নাটকটির প্রদর্শনী হয়।

দলের ৪৬তম প্রযোজনা হিসেবে নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন জুয়েল কবির। তমাল শেখর দে’র ছায়া-কবিতা অবলম্বনে নির্মিত এই নাটকে একক অভিনয় করেন মো. আবুল মনসুর।

নাটকের সেট ও লাইট ডিজাইন করেছেন ফজলে রাব্বি সূকর্ন, কস্টিউম ডিজাইন করেছেন রিবন খন্দকার, সংগীত পরিচালনায় ছিলেন এ বি এম তানভীর আলম সজিব, মেকআপে শুভাশিস দত্ত তন্ময়, এবং শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন ড. আইরিন পারভীন লোপা।

‘আই কান্ট ব্রিদ’ নাটকটি নিপীড়িত ও প্রান্তিক মানুষের শ্বাসরুদ্ধ বাস্তবতার এক তীব্র প্রতীক। সমাজে বেড়ে ওঠা বৈষম্য, অন্যায়, দুর্নীতি ও দমবন্ধ মানসিক অবস্থাকে নাটকটি মঞ্চে রূপ দিয়েছে এক অনন্য প্রতীকী ভাষায়। আলো, শব্দ, সংগীত ও একক অভিনয়ের শক্তিশালী মেলবন্ধনে জীবন্ত হয়ে ওঠে প্রতিবাদের এক আবেগঘন চিত্র।

দর্শকদের অনেকেই জানিয়েছেন, নাটকটি “নিঃশ্বাস নিতে না-পারা মানুষের জীবন্ত চিৎকার”। এক দর্শকের ভাষায়, “এই নাটক আমাদের সময়ের নির্মম আয়না।”

নাট্যসমালোচকরা বলছেন, জীবনের চরম সত্য ও মানুষের অস্তিত্ব সংকটকে শিল্পের গভীর ভাষায় প্রকাশ করেছে এই প্রযোজনা। একক অভিনয়ে আবুল মনসুর তাঁর অসাধারণ মঞ্চ উপস্থিতি, কণ্ঠ ও শরীরী ভাষার সংবেদন দিয়ে নাটকটিকে করেছেন আরও প্রাণবন্ত ও চিন্তাপ্রবণ।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘আই কান্ট ব্রিদ’ কেবল রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নয়—এই প্রযোজনা বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ধারাবাহিকভাবে মঞ্চায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দলটি বলছে, “এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সাংস্কৃতিক অনুরাগী, প্রতিষ্ঠান ও দায়িত্বশীল নাগরিকদের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।”

প্রায় দুই দশকের নাট্যযাত্রায় অনসাম্বল থিয়েটার মঞ্চে এনেছে ৪৮টি প্রযোজনা। দলের মূল দর্শন প্রতিবাদ, সত্য উচ্চারণ ও সংস্কৃতির মুক্তি।
‘আই কান্ট ব্রিদ’ সেই ধারাবাহিকতারই এক শক্তিশালী সম্প্রসারণ, যা সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করছে এক প্রজন্মের নিঃশ্বাসরুদ্ধ চিৎকার।

নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়েছিল গত ৩০ এপ্রিল, একই মঞ্চে। প্রথম প্রদর্শনী থেকেই নাটকটি নাট্যপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়, প্রতিটি মঞ্চায়নে দর্শকের গভীর আবেগ ও প্রতিক্রিয়া অর্জন করে।

নাট্যজগতের বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, ‘আই কান্ট ব্রিদ’ বর্তমান সমাজের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতি এক সাহসী শিল্প প্রতিক্রিয়া।
তাদের মতে, এটি আমাদের সময়, সমাজ ও মানবিক বিবেকের প্রতিচ্ছবি, যা বাংলাদেশের সমকালীন নাট্যচর্চায় এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে থাকবে।