ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

রড-সিমেন্ট ছাড়াই ৭০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে মোল্লাবাড়ি মসজিদ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • / 187
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বহু প্রাচীন স্থাপনা। তেমনই এক স্থাপনা ময়মনসিংহের ভালুকার মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদ। আধুনিক নির্মাণ সামগ্রী রড ও সিমেন্ট ব্যবহার ছাড়াই প্রায় ৭০ বছর ধরে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি। তিনটি গম্বুজ ও চার কোনায় চারটি মিনার নিয়ে নির্মিত মসজিদটি এখনও এলাকাবাসীর কাছে ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

জানা যায়, বাংলা ১৩৬০ সালে ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের তামাট গ্রামের বাসিন্দা ফজর আলী মোল্লা নিজ উদ্যোগে মসজিদটি নির্মাণ করেন। নির্মাণের সময় তিনি মসজিদের নামে ১৭ একর জমি ওয়াকফ করে দেন। বর্তমানে মসজিদের নামে প্রায় ১৪ একর জমি রয়েছে, আর বাকি ৩ একর জমি সরকারি খাস জমি হিসেবে রয়েছে।

মসজিদের মোতাওয়াল্লী মালেক মোল্লা জানান, তার বাবা ফজর আলী মোল্লা মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সে সময় এলাকায় ইট ও বালুর তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তাই স্থানীয়ভাবে নিজেরাই বাংলা ইটভাটা তৈরি করে মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরি করতেন।

তিনি আরও জানান, পরে পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল জেলা থেকে দক্ষ কারিগর এনে রড-সিমেন্টের পরিবর্তে চুনা ও সুরকি দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইট এনে ধীরে ধীরে সম্পন্ন করা হয় মসজিদটির নির্মাণ কাজ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, মসজিদটা আমার জন্মের আরও আগের। এটি শুধু একটি মসজিদ না, আমাদের এলাকার একটি ঐতিহ্য। বহু বছর ধরে মানুষ এখানে নামাজ আদায় করছে। সরকার যদি এটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই ঐতিহ্য দেখতে পারবে।

আরেক বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রড-সিমেন্ট ছাড়া এত বছর ধরে একটি স্থাপনা টিকে থাকা সত্যিই বিস্ময়কর। এই মসজিদটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে প্রাচীন এই স্থাপনাটি যুগের পর যুগ টিকে থাকবে এবং এলাকার ঐতিহ্য বহন করে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রড-সিমেন্ট ছাড়াই ৭০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে মোল্লাবাড়ি মসজিদ

আপডেট সময় : ১১:৪৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বহু প্রাচীন স্থাপনা। তেমনই এক স্থাপনা ময়মনসিংহের ভালুকার মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদ। আধুনিক নির্মাণ সামগ্রী রড ও সিমেন্ট ব্যবহার ছাড়াই প্রায় ৭০ বছর ধরে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি। তিনটি গম্বুজ ও চার কোনায় চারটি মিনার নিয়ে নির্মিত মসজিদটি এখনও এলাকাবাসীর কাছে ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

জানা যায়, বাংলা ১৩৬০ সালে ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের তামাট গ্রামের বাসিন্দা ফজর আলী মোল্লা নিজ উদ্যোগে মসজিদটি নির্মাণ করেন। নির্মাণের সময় তিনি মসজিদের নামে ১৭ একর জমি ওয়াকফ করে দেন। বর্তমানে মসজিদের নামে প্রায় ১৪ একর জমি রয়েছে, আর বাকি ৩ একর জমি সরকারি খাস জমি হিসেবে রয়েছে।

মসজিদের মোতাওয়াল্লী মালেক মোল্লা জানান, তার বাবা ফজর আলী মোল্লা মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। সে সময় এলাকায় ইট ও বালুর তেমন কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তাই স্থানীয়ভাবে নিজেরাই বাংলা ইটভাটা তৈরি করে মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরি করতেন।

তিনি আরও জানান, পরে পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইল জেলা থেকে দক্ষ কারিগর এনে রড-সিমেন্টের পরিবর্তে চুনা ও সুরকি দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইট এনে ধীরে ধীরে সম্পন্ন করা হয় মসজিদটির নির্মাণ কাজ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, মসজিদটা আমার জন্মের আরও আগের। এটি শুধু একটি মসজিদ না, আমাদের এলাকার একটি ঐতিহ্য। বহু বছর ধরে মানুষ এখানে নামাজ আদায় করছে। সরকার যদি এটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই ঐতিহ্য দেখতে পারবে।

আরেক বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, রড-সিমেন্ট ছাড়া এত বছর ধরে একটি স্থাপনা টিকে থাকা সত্যিই বিস্ময়কর। এই মসজিদটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে প্রাচীন এই স্থাপনাটি যুগের পর যুগ টিকে থাকবে এবং এলাকার ঐতিহ্য বহন করে যাবে।