ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো দ্য গ্র্যান্ড মাওলিদ ২০২৬ ‘যেখানে আমি, সেখানেই পরিচ্ছন্নতা’: আনন্দমোহন কলেজে পরিচ্ছন্নতা অভিযান কেরানীগঞ্জে ২,০১০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার *রাজধানীর জুরাইন হতে র‌্যাব-১০ কর্তৃক প্রায় ৭ লক্ষ টাকার ২৩০০ পিস ইয়াবা’সহ ০১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার: পুলিশের লুন্ঠিত ১৭ টি শটগানের গুলি ও ০৩ টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার।* রাণীশংকৈল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই একটি হুইলচেয়ারও।চিকিৎসার আশায় এসে চলাচলেই বাধা। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ‘গুম ফেরত’ পলাশকে চান এলাকাবাসী *মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানা এলাকা হতে ৬০ (ষাট) পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০।* রেজুখাল বিজিবি চেকপোস্টে নারীর কাছ থেকে ৫,২০০ ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শ্যামপুর খানকায়ে চিশতীয়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দয়াগঞ্জে ওরাল কলেরা টিকা খাওয়ানো ক্যাম্পেইন, বিনামূল্যে দুই ডোজ টিকা

রাণীশংকৈল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই একটি হুইলচেয়ারও।চিকিৎসার আশায় এসে চলাচলেই বাধা।

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩০:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 15
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

‎মোঃফিরোজ উপজেলা প্রতিনিধি রাণীশংকৈল

‎হাসপাতাল মানেই অসুস্থ মানুষের শেষ ভরসার জায়গা। কিন্তু সেই ভরসার জায়গাতেই যদি শারীরিকভাবে অক্ষম একজন রোগী চলাচলের জন্য একটি হুইলচেয়ার না পান, তাহলে তার ভোগান্তির শেষ কোথায়?

‎ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি হুইলচেয়ারও নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা পঙ্গু, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও চলাচলে অক্ষম রোগীদের হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ থেকে শুরু করে চিকিৎসকের কক্ষ পর্যন্ত যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

‎হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো অচল রোগীকে দেখলে বিষয়টির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হাঁটতে না পারা রোগীকে হুইলচেয়ারে করে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় স্বজনদেরই তাকে ধরে, কাঁধে তুলে কিংবা কোলে করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে হয়। এতে রোগীর শারীরিক কষ্ট যেমন বাড়ে, তেমনি অসহায় হয়ে পড়েন তার স্বজনরাও।

‎হুইলচেয়ার কি বিলাসিতা, নাকি প্রয়োজনীয় সেবা?

‎একজন সুস্থ মানুষের কাছে হাসপাতালের কয়েক ধাপ সিঁড়ি বা কয়েক গজ পথ অতিক্রম করা হয়তো খুব সহজ। কিন্তু যে মানুষটি পঙ্গু, প্রতিবন্ধী কিংবা অসুস্থতার কারণে নিজের পায়ে দাঁড়াতেই পারেন না, তার কাছে এই সামান্য পথটুকুই হয়ে ওঠে বড় বাধা।

‎হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একজন রোগীর জন্য হুইলচেয়ার কোনো বিলাসী সুবিধা নয়; বরং চলাচলে অক্ষম রোগীর জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সহায়ক ব্যবস্থা। অথচ রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

‎স্বজনদের কাঁধেই ভরসা

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো রোগী হাঁটতে না পারলে তার পরিবারের সদস্যদের ওপরই পুরো দায়িত্ব পড়ে যায়। রোগীকে ধরে হাসপাতালের ভেতরে নেওয়া, চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অন্য বিভাগে নিয়ে যাওয়ার সময় স্বজনদের চরম কষ্ট করতে হয়।

‎বিশেষ করে বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। একজন রোগীকে কোলে বা ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।

‎প্রতিবন্ধীবান্ধব হাসপাতাল চান স্থানীয়রা

‎সচেতন নাগরিকদের দাবি, রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আরও বেশি রোগীবান্ধব ও প্রতিবন্ধীবান্ধব করা প্রয়োজন। শুধু হুইলচেয়ার সরবরাহ করলেই হবে না, সেটি যেন সবসময় ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় থাকে এবং রোগীর প্রয়োজনের সময় সহজেই পাওয়া যায়—সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

‎একই সঙ্গে হাসপাতালের প্রবেশপথে প্রতিবন্ধী ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ চলাচলের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় র‍্যাম্প ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎দেশের প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হুইলচেয়ার নিশ্চিতের দাবি

‎রাণীশংকৈলের এই চিত্র শুধু একটি হাসপাতালের সমস্যা হিসেবে না দেখে সারাদেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধীবান্ধব সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে ভাবার দাবি উঠেছে।

‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত সংখ্যক হুইলচেয়ার রাখা হবে। কারণ চিকিৎসা নিতে আসা একজন মানুষকে হাসপাতালের দরজায় এসে যদি নিজের চলাচলের জন্য অন্যের করুণার ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সেটি কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা হতে পারে না।

‎রাণীশংকৈলবাসীর প্রত্যাশা—দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হুইলচেয়ার সরবরাহ করা হবে। যাতে কোনো পঙ্গু, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক কিংবা অচল রোগী চিকিৎসার জন্য এসে শুধু চলাচলের একটি মাধ্যমের অভাবে অসহায় হয়ে না পড়েন।

‎একটি হুইলচেয়ার হয়তো হাসপাতালের জন্য ছোট একটি ব্যবস্থা—কিন্তু একজন অচল মানুষের কাছে সেটিই হতে পারে চিকিৎসার পথে সবচেয়ে বড় সহায়তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রাণীশংকৈল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই একটি হুইলচেয়ারও।চিকিৎসার আশায় এসে চলাচলেই বাধা।

আপডেট সময় : ০৭:৩০:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

 

‎মোঃফিরোজ উপজেলা প্রতিনিধি রাণীশংকৈল

‎হাসপাতাল মানেই অসুস্থ মানুষের শেষ ভরসার জায়গা। কিন্তু সেই ভরসার জায়গাতেই যদি শারীরিকভাবে অক্ষম একজন রোগী চলাচলের জন্য একটি হুইলচেয়ার না পান, তাহলে তার ভোগান্তির শেষ কোথায়?

‎ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি হুইলচেয়ারও নেই বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা পঙ্গু, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও চলাচলে অক্ষম রোগীদের হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ থেকে শুরু করে চিকিৎসকের কক্ষ পর্যন্ত যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

‎হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো অচল রোগীকে দেখলে বিষয়টির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হাঁটতে না পারা রোগীকে হুইলচেয়ারে করে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় স্বজনদেরই তাকে ধরে, কাঁধে তুলে কিংবা কোলে করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে হয়। এতে রোগীর শারীরিক কষ্ট যেমন বাড়ে, তেমনি অসহায় হয়ে পড়েন তার স্বজনরাও।

‎হুইলচেয়ার কি বিলাসিতা, নাকি প্রয়োজনীয় সেবা?

‎একজন সুস্থ মানুষের কাছে হাসপাতালের কয়েক ধাপ সিঁড়ি বা কয়েক গজ পথ অতিক্রম করা হয়তো খুব সহজ। কিন্তু যে মানুষটি পঙ্গু, প্রতিবন্ধী কিংবা অসুস্থতার কারণে নিজের পায়ে দাঁড়াতেই পারেন না, তার কাছে এই সামান্য পথটুকুই হয়ে ওঠে বড় বাধা।

‎হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একজন রোগীর জন্য হুইলচেয়ার কোনো বিলাসী সুবিধা নয়; বরং চলাচলে অক্ষম রোগীর জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সহায়ক ব্যবস্থা। অথচ রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

‎স্বজনদের কাঁধেই ভরসা

‎স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো রোগী হাঁটতে না পারলে তার পরিবারের সদস্যদের ওপরই পুরো দায়িত্ব পড়ে যায়। রোগীকে ধরে হাসপাতালের ভেতরে নেওয়া, চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অন্য বিভাগে নিয়ে যাওয়ার সময় স্বজনদের চরম কষ্ট করতে হয়।

‎বিশেষ করে বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও ঝুঁকিপূর্ণ। একজন রোগীকে কোলে বা ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে।

‎প্রতিবন্ধীবান্ধব হাসপাতাল চান স্থানীয়রা

‎সচেতন নাগরিকদের দাবি, রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আরও বেশি রোগীবান্ধব ও প্রতিবন্ধীবান্ধব করা প্রয়োজন। শুধু হুইলচেয়ার সরবরাহ করলেই হবে না, সেটি যেন সবসময় ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় থাকে এবং রোগীর প্রয়োজনের সময় সহজেই পাওয়া যায়—সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

‎একই সঙ্গে হাসপাতালের প্রবেশপথে প্রতিবন্ধী ও হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ চলাচলের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় র‍্যাম্প ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎দেশের প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হুইলচেয়ার নিশ্চিতের দাবি

‎রাণীশংকৈলের এই চিত্র শুধু একটি হাসপাতালের সমস্যা হিসেবে না দেখে সারাদেশের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিবন্ধীবান্ধব সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে ভাবার দাবি উঠেছে।

‎স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত সংখ্যক হুইলচেয়ার রাখা হবে। কারণ চিকিৎসা নিতে আসা একজন মানুষকে হাসপাতালের দরজায় এসে যদি নিজের চলাচলের জন্য অন্যের করুণার ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সেটি কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা হতে পারে না।

‎রাণীশংকৈলবাসীর প্রত্যাশা—দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হুইলচেয়ার সরবরাহ করা হবে। যাতে কোনো পঙ্গু, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক কিংবা অচল রোগী চিকিৎসার জন্য এসে শুধু চলাচলের একটি মাধ্যমের অভাবে অসহায় হয়ে না পড়েন।

‎একটি হুইলচেয়ার হয়তো হাসপাতালের জন্য ছোট একটি ব্যবস্থা—কিন্তু একজন অচল মানুষের কাছে সেটিই হতে পারে চিকিৎসার পথে সবচেয়ে বড় সহায়তা।