সময় টিভির মিথ্যা সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে খাগাউড়া গ্রামে দফায় দফায় মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ১১:২৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 132
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের খাগাউড়া গ্রামের নারীরা বাদুরের মাংস খান— এমন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৫) বিকেল ৪টায় রফিনগর ইউনিয়নের খাগাউড়া গ্রামের শিব মন্দিরের পাশে খাগাউড়া কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় দফায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন গীতিকার ও সুরকার মুকুল আচার্য এবং সঞ্চালনা করেন সত্য তালুকদার।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রফিনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শৈলেন্দ্র কুমার তালুকদার, রফিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক অমরেন্দ্র বিশ্বাস, পঞ্চায়েত বিচারক নিখিল তালুকদার, দ্বিজেন্দ্র মজুমদার ও ভূপেন্দ্র তালুকদারসহ অনেকে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হৃদি রঞ্জন তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা দেবেন্দ্র তালুকদার, শিক্ষক পরিমল তালুকদার, প্রণয় তালুকদার, উপেন্দ্র তালুকদার, এবং রফিনগর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য দুলালী তালুকদারসহ আশপাশের তিন গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ।
বক্তারা বলেন, রফিনগর ইউনিয়ন একটি ঐতিহ্যবাহী এলাকা— যেখানে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা, অসংখ্য শিক্ষক ও উচ্চশিক্ষিত মানুষ রয়েছেন। এমন সম্মানিত এলাকার মানুষ বাদুরের মাংস খায়— সময় টিভির এমন সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর।
তারা আরও জানান, খাগাউড়া গ্রামের শিব মন্দিরের পাশে বড় বড় গাছে প্রতিদিন কলাবাদুরের ঝাঁক দেখা যায়, কিন্তু তাই বলে গ্রামের মানুষ বাদুরের মাংস খায়— এমন ধারণা সম্পূর্ণ হাস্যকর ও বিভ্রান্তিকর।
বক্তারা প্রশ্ন তোলেন— “সময় টিভির মতো একটি সুনামধন্য মাধ্যম কীভাবে যাচাই-বাছাই ছাড়াই এমন বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করল?”
মানববন্ধনে বক্তারা সময় টিভির প্রকাশিত “ঔষধ হিসেবে বাদুরের মাংস খান নারীরা” শিরোনামের প্রতিবেদনটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা বলেন, এটি খাগাউড়া গ্রামের নারীদের উদ্দেশ্য করে করা একটি মানহানিকর সংবাদ, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
এ সময় সুনামগঞ্জের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও জানান, সময় টিভির এই সংবাদে তারা হতবাক হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিনের বরাত দিয়ে বক্তারা বলেন, “বাদুরের মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও গত ১০ বছরে জেলার কোনো হাসপাতালে বাদুরের মাংস খাওয়ার কারণে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মেলেনি।”
গ্রামবাসীরা দাবি জানান— অবিলম্বে সময় টিভি তাদের ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ওই প্রতিবেদন মুছে দিয়ে সত্যতা যাচাই করে সংশোধনী সংবাদ প্রকাশ করবে। অন্যথায় সময় টিভির সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।



















