হাজারো শহীদের রক্তে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশের সূচনা: রাষ্ট্রপতি
- আপডেট সময় : ০২:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
- / 147
দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে তাবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন এক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার ১ হাজার ২৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করেছে এবং গুরুতর আহত ১৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে।
শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য দেশের ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ এবং ঢাকায় জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আজ এই মহান সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৩–২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে অর্থনীতি অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যতে আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে অতীতের অনিয়ম তদন্ত এবং সংস্কারের লক্ষ্যে একটি পৃথক কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



















