ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আদাবর থানা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত তালিকা জমা দিলেন এস এম নুরুল ইসলাম বাবু ———: যাত্রাবাড়ীতে বাসে তল্লাশি, ৬ কেজি গাঁজাসহ দম্পতি গ্রেপ্তার ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল জয়ী ঢাকা–খুলনা–কুষ্টিয়া লং মার্চকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামী। ময়মনসিংহে কাভার্ডভ্যানের চাপায় প্রাণ গেল ২ বোনের বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার।

ছাতক ওয়াপদায় অনিয়ম–দুর্নীতির কেলেঙ্কারি: ঘুষ বাণিজ্যের দুর্গে পরিণত সরকারি বিদ্যুৎ অফিস

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৪৯:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
  • / 174
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (বিউবো) অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে কথিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে—এই সিন্ডিকেটের কারণে অফিসটি এখন দুর্নীতি, হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের দুর্গে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ অফিসে এখন ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না।

দুর্নীতির অভিযোগ ও গ্রাহক হয়রানি

প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ যোগদানের পর থেকেই ঠিকাদার ও অসাধু কর্মচারীদের নিয়ে গঠিত এই সিন্ডিকেট আরও সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, মেরামত, নতুন সংযোগ ও বিল সংশোধনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের ঘুষ। ঘুষ না দিলে হয়রানি ও বিলম্বের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ভুল বিল ও মিথ্যা মামলা

অভিযোগ রয়েছে—মিটার রিডিং ছাড়াই অতিরিক্ত বিল প্রদান, ভুল বকেয়া দেখানো এবং অভিযোগ করলেই মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ঘটনা ঘটছে।
ইসলামপুর ইউনিয়নের গণেশপুরের বাসিন্দা জাহিদ হাসান মোহাম্মদ রুহেলকে ২৬ অক্টোবর ‘বকেয়া বিলের মামলা’য় পুলিশ গ্রেপ্তার করে। অথচ তার নামে কোনো বকেয়া বিল ছিল না; প্রকৃত বকেয়া গ্রাহক ছিলেন নাজমুল হুদা। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ অফিসের অসৎ উদ্দেশ্য ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

মিটার চেকিংয়ে অনিয়ম ও সাংবাদিক হুমকি

গত ৭ নভেম্বর মন্ডলীভোগ এলাকায় মিটার চেকের নামে বেসরকারি কর্মচারীরা স্থানীয়দের সঙ্গে অসদাচরণ ও ভাঙচুর করে। ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উদ্যোগ নেয় অফিস কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রথমে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রেখে পরে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং পুলিশ ডেকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘুষ বাণিজ্যের প্রমাণ

তদন্তে জানা গেছে, নতুন সংযোগ ও লাইন মেরামতের নামে সিন্ডিকেট বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। হাসনাবাদ–ইলামেরগাঁও এলাকায় নতুন লাইনের প্রকল্পে অগ্রিম ১ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার ভিডিও পাওয়া গেছে। অর্থ না দিলে কাজ বন্ধ রাখা হয়।
এর আগে সেনাবাহিনীর হাতে ঘুষসহ ধরা পড়া দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধেও পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে সাক্ষী পরিবর্তন করা হয়। ফলে সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

ভয়ভীতি ও প্রতিশোধ

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বললে মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও ভয়ভীতির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিনই ছাতক ওয়াপদার দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে পোস্ট ভাইরাল হচ্ছে।

পূর্ব ইতিহাস ও বিতর্ক

এর আগেও অনিয়মের অভিযোগে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মালেককে বদলি করা হয়েছিল। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদও এর আগে বান্দরবানে শাস্তিমূলক বদলি হয়েছিলেন।

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

বিষয়টি জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির বলেন, “সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ছাতক ওয়াপদায় অনিয়ম–দুর্নীতির কেলেঙ্কারি: ঘুষ বাণিজ্যের দুর্গে পরিণত সরকারি বিদ্যুৎ অফিস

আপডেট সময় : ১০:৪৯:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (বিউবো) অফিসে নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে কথিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে—এই সিন্ডিকেটের কারণে অফিসটি এখন দুর্নীতি, হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের দুর্গে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ অফিসে এখন ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না।

দুর্নীতির অভিযোগ ও গ্রাহক হয়রানি

প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ যোগদানের পর থেকেই ঠিকাদার ও অসাধু কর্মচারীদের নিয়ে গঠিত এই সিন্ডিকেট আরও সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, মেরামত, নতুন সংযোগ ও বিল সংশোধনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের ঘুষ। ঘুষ না দিলে হয়রানি ও বিলম্বের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ভুল বিল ও মিথ্যা মামলা

অভিযোগ রয়েছে—মিটার রিডিং ছাড়াই অতিরিক্ত বিল প্রদান, ভুল বকেয়া দেখানো এবং অভিযোগ করলেই মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ঘটনা ঘটছে।
ইসলামপুর ইউনিয়নের গণেশপুরের বাসিন্দা জাহিদ হাসান মোহাম্মদ রুহেলকে ২৬ অক্টোবর ‘বকেয়া বিলের মামলা’য় পুলিশ গ্রেপ্তার করে। অথচ তার নামে কোনো বকেয়া বিল ছিল না; প্রকৃত বকেয়া গ্রাহক ছিলেন নাজমুল হুদা। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ অফিসের অসৎ উদ্দেশ্য ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

মিটার চেকিংয়ে অনিয়ম ও সাংবাদিক হুমকি

গত ৭ নভেম্বর মন্ডলীভোগ এলাকায় মিটার চেকের নামে বেসরকারি কর্মচারীরা স্থানীয়দের সঙ্গে অসদাচরণ ও ভাঙচুর করে। ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করলে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উদ্যোগ নেয় অফিস কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রথমে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রেখে পরে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং পুলিশ ডেকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘুষ বাণিজ্যের প্রমাণ

তদন্তে জানা গেছে, নতুন সংযোগ ও লাইন মেরামতের নামে সিন্ডিকেট বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। হাসনাবাদ–ইলামেরগাঁও এলাকায় নতুন লাইনের প্রকল্পে অগ্রিম ১ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার ভিডিও পাওয়া গেছে। অর্থ না দিলে কাজ বন্ধ রাখা হয়।
এর আগে সেনাবাহিনীর হাতে ঘুষসহ ধরা পড়া দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধেও পরবর্তীতে প্রভাব খাটিয়ে সাক্ষী পরিবর্তন করা হয়। ফলে সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

ভয়ভীতি ও প্রতিশোধ

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বললে মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও ভয়ভীতির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিনই ছাতক ওয়াপদার দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে পোস্ট ভাইরাল হচ্ছে।

পূর্ব ইতিহাস ও বিতর্ক

এর আগেও অনিয়মের অভিযোগে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মালেককে বদলি করা হয়েছিল। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদও এর আগে বান্দরবানে শাস্তিমূলক বদলি হয়েছিলেন।

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

বিষয়টি জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মজিদের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির বলেন, “সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।”