ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আদাবর থানা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত তালিকা জমা দিলেন এস এম নুরুল ইসলাম বাবু ———: যাত্রাবাড়ীতে বাসে তল্লাশি, ৬ কেজি গাঁজাসহ দম্পতি গ্রেপ্তার ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল জয়ী ঢাকা–খুলনা–কুষ্টিয়া লং মার্চকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য, ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামী। ময়মনসিংহে কাভার্ডভ্যানের চাপায় প্রাণ গেল ২ বোনের বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার।

ধান উৎপাদনে আধুনিক যন্ত্রের ছোঁয়া, ময়মনসিংহের কৃষিতে নবদিগন্ত

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 223
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রযুক্তির বিশ্বায়নে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের ফলে ধান উৎপাদনে নবদিগন্তের সম্ভাবনা দেখছেন ময়মনসিংহের সদর উপজেলার চকনুজ গ্রামের কৃষকরা। জমি চাষ, ধান রোপণ থেকে শুরু করে সার দেওয়া সবকিছুতেই ব্যবহার হচ্ছে যন্ত্রের। এ কারণে সময় ও খরচ দুটোই কমছে ধান উৎপাদনে। এতে উৎফুল্ল স্থানীয় কৃষকরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার চূড়খাই ইউনিয়নের চকনুজ গ্রামে যন্ত্রের ব্যবহারে কৃষকদের প্রযুক্তি বান্ধব করে গড়ে তুলতেই সরেজমিনে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কৃষকদের এ প্রযুক্তির ব্যবহার প্রদর্শন করা হয়।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়নে (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় একযোগে ৩০ একর জমিতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ের ৩০ জনকে কৃষককে তালিকাভুক্ত করে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে সার-বীজ, সাইবোর্ড, কীটনাশক ও যান্ত্রিক সুবিধা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষিযন্ত্রের প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কৃষকের জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল জাত ব্রি ধান ১০৫-এর চারা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে রোপণ শুরু করা হয়েছে। এর ফলে ধানের চারা রোপণের মাধ্যমে সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং পানি ও অন্যান্য সম্পদের দক্ষ ব্যবহারও নিশ্চিত হচ্ছে। এতে ধান উৎপাদনে প্রকল্প এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে, বলে আশাবাদি তারা।

 

কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহারে খুশি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কৃষক মো. হাসমত আলীসহ অন্যরাও। তারা বলেন, বর্তমানে ধানের চাষের জন্য শ্রমিক পাওয়া যায় না। তা ছাড়া, অতিরিক্ত শ্রমিক খরচে ধান চাষ করে লাভবান হওয়া যায় না। কিন্তু যন্ত্রের মাধ্যমে ধান চাষের ফলে আমাদের সময়, খরচ ও কষ্ট কমে যাচ্ছে। আশা করছি এবার ফলনও ভালো হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আফছানা আনছারী বলেন, বর্তমানে কৃষি কাজে শ্রমিক সংকট চলছে সর্বত্র। এ কারণে শ্রমিক সংকটে যেন কৃষকদের মাঝে কোনো প্রভাব না পড়ে সে লক্ষ্যে কৃষকদের যান্ত্রিকীকরণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আশা করছি, কৃষি কাজে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার বা যন্ত্রের ব্যবহারের সময় ও খরচ বাঁচিয়ে লাভবান হবে কৃষকরা।

এ সময় ধান রোপণ যন্ত্র রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সুবিধা তুলে ধরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনামুল হক বলেন, বর্তমান সময়ে শ্রমিকরা এখন আর অল্প মূল্যে মাঠে কাজ করতে চায় না। তাই ধান রোপণে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে রোপণ করা করা হচ্ছে। এতে এক ঘণ্টায় এক একর জমিতে ধান রোপণ করা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ধান উৎপাদনে আধুনিক যন্ত্রের ছোঁয়া, ময়মনসিংহের কৃষিতে নবদিগন্ত

আপডেট সময় : ০১:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

প্রযুক্তির বিশ্বায়নে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের ফলে ধান উৎপাদনে নবদিগন্তের সম্ভাবনা দেখছেন ময়মনসিংহের সদর উপজেলার চকনুজ গ্রামের কৃষকরা। জমি চাষ, ধান রোপণ থেকে শুরু করে সার দেওয়া সবকিছুতেই ব্যবহার হচ্ছে যন্ত্রের। এ কারণে সময় ও খরচ দুটোই কমছে ধান উৎপাদনে। এতে উৎফুল্ল স্থানীয় কৃষকরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলার চূড়খাই ইউনিয়নের চকনুজ গ্রামে যন্ত্রের ব্যবহারে কৃষকদের প্রযুক্তি বান্ধব করে গড়ে তুলতেই সরেজমিনে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কৃষকদের এ প্রযুক্তির ব্যবহার প্রদর্শন করা হয়।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়নে (এলএসটিডি) প্রকল্পের আওতায় একযোগে ৩০ একর জমিতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ের ৩০ জনকে কৃষককে তালিকাভুক্ত করে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে সার-বীজ, সাইবোর্ড, কীটনাশক ও যান্ত্রিক সুবিধা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষিযন্ত্রের প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কৃষকের জমিতে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল জাত ব্রি ধান ১০৫-এর চারা যান্ত্রিক পদ্ধতিতে রোপণ শুরু করা হয়েছে। এর ফলে ধানের চারা রোপণের মাধ্যমে সময় ও শ্রম সাশ্রয়ের পাশাপাশি ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং পানি ও অন্যান্য সম্পদের দক্ষ ব্যবহারও নিশ্চিত হচ্ছে। এতে ধান উৎপাদনে প্রকল্প এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে, বলে আশাবাদি তারা।

 

কৃষিতে প্রযুক্তি ব্যবহারে খুশি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কৃষক মো. হাসমত আলীসহ অন্যরাও। তারা বলেন, বর্তমানে ধানের চাষের জন্য শ্রমিক পাওয়া যায় না। তা ছাড়া, অতিরিক্ত শ্রমিক খরচে ধান চাষ করে লাভবান হওয়া যায় না। কিন্তু যন্ত্রের মাধ্যমে ধান চাষের ফলে আমাদের সময়, খরচ ও কষ্ট কমে যাচ্ছে। আশা করছি এবার ফলনও ভালো হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আফছানা আনছারী বলেন, বর্তমানে কৃষি কাজে শ্রমিক সংকট চলছে সর্বত্র। এ কারণে শ্রমিক সংকটে যেন কৃষকদের মাঝে কোনো প্রভাব না পড়ে সে লক্ষ্যে কৃষকদের যান্ত্রিকীকরণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। আশা করছি, কৃষি কাজে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার বা যন্ত্রের ব্যবহারের সময় ও খরচ বাঁচিয়ে লাভবান হবে কৃষকরা।

এ সময় ধান রোপণ যন্ত্র রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের সুবিধা তুলে ধরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এনামুল হক বলেন, বর্তমান সময়ে শ্রমিকরা এখন আর অল্প মূল্যে মাঠে কাজ করতে চায় না। তাই ধান রোপণে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে রোপণ করা করা হচ্ছে। এতে এক ঘণ্টায় এক একর জমিতে ধান রোপণ করা সম্ভব।