শেরপুরের চলাঞ্চলে ব্রিজ ও পাকা রাস্তা নির্মাণের দাবিতে বিশ হাজারের বেশি মানুষ মানববন্ধন ও সমাবেশ অংশগ্রহন করেন
- আপডেট সময় : ০৩:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 24
শেরপুর সদর উপজেলার দুর্গম চলাঞ্চলের চার গ্রামের প্রায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদীর শাখা স্থানীয় দশানী নদীর উপর ব্রিজ ও পাকা রাস্তা নির্মাণসহ নানা উন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন।
১৯ এপ্রিল রোববার দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের কামারের চর বাজার হতে ৪ নং চর পর্যন্ত বন্যামুক্ত উঁচু পাকা রাস্তা নির্মাণ, দশআনী নদীর উপর পাকা ব্রিজ নির্মাণ, গোয়ালপাড়া মোড় থেকে ৬ নং চর তিন নদীর মোহনা হয়ে ভাটিপাড়া খেয়াঘাট পর্যন্ত বন্যামুক্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৬ নং চর, গোয়ালপাড়া ও পয়ান্তির চরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবীতে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দশানী নদীর পাড় থেকে কামারের চর বাজার পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে আবালবৃদ্ধবনিতা ও চরাঞ্চলের একমাত্র বাহন প্রায় আড়াই শতত ঘোড়ার গাড়ি অংশ নেয়।
এ সময় তারা বিভিন্ন ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে চরাঞ্চলের নানা দুর্ভোগ চিত্র তুলে ধরে এবং ব্রিজ ও রাস্তাঘাট সহ নানান উন্নয়নের দাবিতে স্লোগান দেন।
মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের কাছে একটি স্মারক লিপি প্রদান করেন।
কামারের চর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নওয়াব আলীর সভাপতিত্বে দশানি নদীর পাড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক একে এম শরীফুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ, জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা মো: কামরুজ্জামান কামাল, ঢাকা গণপূর্ত প্রকল্প সার্কেল-১ এর এর সহকারী প্রকৌশলী মো: সাফায়েত জামিল, প্রভাষক মো: শাহরিয়ার জামিল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর সেকশন অফিসার মো: মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী সার্জন ডা: কামরুল ইসলাম, এডভোকেট মো: মেহেদী হাসান পাপুল, প্রভাষক শফিউল আলম, সার্জেন্ট (অব) মো: জহুরুল হক, এএসআই মো: আল আমিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের চাকরিজীবী কর্মকর্তাবৃন্দ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা এ সময় বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমাদের বৃহত্তর চলাঞ্চলের মানুষ অবহেলিত হয়ে আসছে। বর্ষায় প্রায় ছয় মাস তলিয়ে থাকে এইসব এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি। বাকি ৬ মাস ব্রিজ ও পাকা রাস্তা না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষের কর্মক্ষেত্র ও স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য শহরে নিয়ে বিক্রি করতে দুর্ভোগ পহাতে হয়। তবে অনেকে আছেন এ অঞ্চলের একমাত্র প্রাচীন বাহক ঘোড়ার গাড়ি করে এসব পণ্য বিক্রি করে। এতে তাদের ফসলের উৎপাদিত খরচ অনেক বেড়ে যায়। বক্তারা আরো বলেন, চল অঞ্চলের চার গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষসহ এই সড়কে পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলার আংশিক কয়েকটি গ্রামের আরো প্রায় বিশ হাজার মানুষ চলাচল করে। ফলে এই সড়ক পাকা করণ এবং ব্রীজ নির্মাণ অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা বর্তমান নতুন সরকারের কাছে দ্রুত এই সড়ক ও ব্রীজ নির্মাণের জোড় দাবি জানায়। অন্যথায় তারা পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেন।



















