টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওরে গান-বাজনা ও পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা
- আপডেট সময় : ১১:০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫
- / 159
দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওর ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষায় নতুন নির্দেশনা জারি করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সোমবার (১০ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাওর দুটিতে হাউসবোট বা নৌযানে উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও পার্টি আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ নির্দেশনা ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ’ নামে জারি করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রণীত এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ সুরক্ষা অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে কার্যকর হবে।
মূল নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা
১️⃣ হাওরে বা আশেপাশে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, পার্টি আয়োজন এবং শব্দদূষণকারী যন্ত্র (ইঞ্জিন/জেনারেটর) ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
২️⃣ পাখি বা পরিযায়ী পাখি শিকার, গাছ কাটা, জলজ বন (হিজল, করচ ইত্যাদি) ধ্বংস এবং ডাল কেটে মাছের আশ্রয় তৈরি করা যাবে না।
৩️⃣ পর্যটক ও হাউসবোট জেলা প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত বা সংবেদনশীল এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না।
৪️⃣ সরকারের অনুমতি ছাড়া হাওরের ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন, জলস্রোতের প্রবাহ ব্যাহত করা বা প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট করা যাবে না।
৫️⃣ শিক্ষা সফর ও বিদেশি পর্যটনের জন্য জেলা প্রশাসনের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক, এবং নির্ধারিত সীমার বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না।
৬️⃣ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক, নিষিদ্ধ জাল বা বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ।
৭️⃣ বালু, পাথর বা মাটি উত্তোলন যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া করা যাবে না।
৮️⃣ শুষ্ক মৌসুমে কোনো জলাধারের পানি সম্পূর্ণরূপে নিঃশেষ করা নিষিদ্ধ।
৯️⃣ ১০০ ফুটের বেশি দৈর্ঘ্যের নৌযান বা হাউসবোট পরিচালনা করা যাবে না।
🔟 হাওরের আশেপাশের বসতবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে তরল বা কঠিন বর্জ্য হাওরে ফেলা যাবে না।
১️⃣১️⃣ হাওর অঞ্চলে পাকা সড়ক নির্মাণ পরিহার করতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন হলে অনুমতি নিয়ে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করতে হবে।
শাস্তির বিধান
মন্ত্রণালয় জানায়, এ আদেশ অমান্য করলে তা বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















