ট্রাম্পের নতুন আদেশ: বিদেশি ডিজিটাল করের বিরুদ্ধে শুল্কের হাতছানি
- আপডেট সময় : ১১:০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
- / 98
ওয়াশিংটনে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন, যার মাধ্যমে বিদেশি দেশগুলো যারা মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ডিজিটাল কর আরোপ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করা হবে।
এই সিদ্ধান্তে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয়কে (USTR) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শুরু করা ডিজিটাল পরিষেবা করের তদন্ত পুনরায় চালু করতে। মূল উদ্দেশ্য হলো সেই দেশগুলোর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, যাদের ডিজিটাল করের কারণে অ্যাপল, গুগল, মেটা, অ্যামাজনসহ মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টরা বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
ডিজিটাল পরিষেবা কর হলো সেই কর, যা বিদেশি দেশগুলো সফটওয়্যার, গান, ভিডিও গেম ও অন্যান্য ডিজিটাল সামগ্রী যা দেশের অভ্যন্তরে ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা হয় থেকে আদায় করে। এই কর ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে আসছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, “বিদেশি সরকারগুলো নিজেদের উন্নয়নের পরিবর্তে ক্রমশ মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে। এর ফলে, কোম্পানিগুলোর সাফল্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সেই রাজস্ব, যা আমাদের জাতির কল্যাণে ব্যয় হওয়া উচিত, তা বিদেশি সরকারের কাছে চলে যাচ্ছে।”
ট্রাম্প পূর্বেই জানান যে, কানাডা ও ফ্রান্স যারা প্রতি বছর মার্কিন কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ডিজিটাল কর সংগ্রহ করে—এ বিষয়ে তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। হোয়াইট হাউসের তথ্যপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, “শুধুমাত্র আমেরিকা আমেরিকান কোম্পানিগুলোর ওপর কর আরোপ করতে পারে।”
এছাড়াও, ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, কানাডা, তুরস্ক, ভারত ও অস্ট্রিয়া সহ বিভিন্ন দেশ ডিজিটাল পরিষেবার রাজস্ব থেকে কর আদায় করছে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে, কর আরোপকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত আরম্ভ এবং প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এরপর, ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশাসনও ছয়টি দেশের ২ বিলিয়ন ডলারের আমদানির ওপর ২৫% শুল্ক ঘোষণা করেছিল, তবে আলোচনা চলাকালীন সময়ে তা স্থগিত রাখে।
এই পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তি খাতে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও প্রযুক্তি কোম্পানির ভবিষ্যত নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

























