পারিবারিক রেষারেষির বলি মাদ্রাসা শিক্ষার্থী রাফি অপহরণের পর হত্যা, লাশ গুম—মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় মূল আসামী গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ১২:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
- / 80
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় পারিবারিক বিরোধের জেরে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী আন্দালিব সাদমান রাফি (৮) নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মূল আসামী খোকন (২১)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে মুক্তাগাছা উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের জমিনপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম রনির ছেলে রাফি নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পরপরই অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা শিশুটির পরিবারের কাছে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
ঘটনার পর জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা খোকনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত খোকনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বাড়ির স্যানিটারি টয়লেটের স্লাবের নিচ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রাফির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নাইলনের রশি এবং মুক্তিপণ দাবির কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে খোকন পুলিশকে জানান, রাফির বাবা জহিরুল ইসলাম রনির সঙ্গে তার পূর্বের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে রাফিকে কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। তাকে পানিতে ডুবিয়ে, ঘাড় মটকিয়ে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ বস্তায় ভরে টয়লেটের স্লাবের নিচে গুম করা হয় এবং পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় চারজনকে আসামী করে মুক্তাগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দ্রুত সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হবে।










