ত্যাগী ও তৃণমূলের তীব্র অসন্তোষ, ভাঙনের আশঙ্কা
বান্দরবান কৃষক দলের শীর্ষ পদে ‘হাইব্রিড’ নেতা অহিদুর!
- আপডেট সময় : ০৩:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 14
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বান্দরবান জেলা বিএনপিতে অনুপ্রবেশ ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বিরোধী কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ অর্থায়ন ও নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতার আপন ছোট ভাই অহিদুর রহমান চৌধুরী ওরফে (মেহেদী) রাতারাতি জেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে তুমুল সমালোচনা। দ্রুত তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে জেলা বিএনপিতেও বড় ধরনের ভাঙন ধরতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মাঠপর্যায়ের ত্যাগী নেতারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের মালিকানাধীন ‘বীর বাহাদুর ফাউন্ডেশন’-এর উপদেষ্টা ছিলেন আনিসুর রহমান ওরফে সুজন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম কারিগর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগ ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে যে প্রত্যক্ষ অবস্থান নিয়েছিল, তার মূল অর্থ যোগানদাতা ও নেপথ্য কারিগর ছিলেন এই আনিসুর রহমান সুজন। আর সে সময় সুজনের সব ধরনের অপকর্ম ও আন্দোলনের বিরুদ্ধে মাঠপর্যায়ে সরাসরি সহযোগিতা করেন তার আপন ছোট ভাই ওহিদুর রহমান চৌধুরী ওরফে মেহেদী।
তবে গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঘটে এক চমকপ্রদ ঘটনা। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে অহিদুর রহমান চৌধুরী ওরফে (মেহেদী) বিএনপির একটি অসাধু চক্রকে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান বিরোধী সেই সহযোগী রাতারাতি বান্দরবান জেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন।
বর্তমানে বান্দরবান জেলা বিএনপির রাজনীতিতে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন এই ‘হাইব্রিড’ নেতা ওহিদুর রহমান চৌধুরী (মেহেদী)। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের পদ বঞ্চিত করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরোধিতাকারীকে দলে পদ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতারা দৈনিক আলো জগৎতকে জানান, চব্বিশের আন্দোলনের সময় যারা ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতন ও অর্থ যোগান দিয়েছে, তাদেরই একজন আজ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ পদে। এটি শহীদদের রক্তের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা। দ্রুত এই বিতর্কিত নেতাকে বহিষ্কার ও পদ বঞ্চিত না করলে পুরো বান্দরবান জেলা বিএনপিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও ভাঙন সৃষ্টি হওয়া স্রেফ সময়ের ব্যাপার।
এই ব্যাপারে জানতে বান্দরবান সাবেক ছাত্রদল নেতা, কৃষক দলের সভাপতি সঙ্গে যোগাযোগ করে দৈনিক আলোর জগৎত। মুঠোফোনে তিনি বলেন, আমাদের কাছে সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী’র সেরকম কোনো তথ্য প্রমাণ নাই। আপনাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ থাকলে আমাদের কৃষক দলের কাছে পাঠান। সেগুলো যাচ্ছাই বাচ্ছাই করে দেখব।
অন্যদিকে অহিদুর রহমান চৌধুরী ওরফে মেহেদী ব্যাপারে জানতে বান্দরবান কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক, যুব উন্নয়নের সাবেক বাবুর্চি মনির হোসেন ভুঁইয়াকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মন্ত্রী, বীর বাহাদুর উশৈসিং এর আর্শিবাদপুষ্ট হারুন রকি ঠিকাদার সিন্ডিকেট সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন বিএনপির বর্তমান বান্দরবান কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন ভুঁইয়া ওরফে বার্বুচি ভুঁইয়া। বিএনপির রাজনীতিতে আগে পরে তার সরাসরি ভূমিকা না থাকলেও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পর মনির হোসেন ভুঁইয়া কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন।
এ নিয়ে বান্দরবান জেলা বিএনপিতে ত্যাগি ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের আলোচনা সমালোচনা যেন থামছেই না। ত্যাগী ও তৃণমূলদের দাবি, যোগ্যরা শীর্ষ নেতৃত্বে আসুক। তবুও হাইব্রিড নেতাদের বিএনপিতে স্থান না হোক।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক বান্দরবান জেলা বিএনপির নেতারা দৈনিক আলোর জগৎতকে বলেন, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় কৃষক দল ও বিএনপি হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে বিএনপির রাজনীতির মিশন ভিশন বাস্তব রূপ দেখবে না।
এই বিষয়ে জানতে বান্দরবান জেলার কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক অহিদুর রহমান চৌধুরী ওরফে (মেহেদী) কে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।











