বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট ও পরীক্ষার মধ্যেই মেলার প্রস্তুতি, প্রশাসনের অনুমতি নেই
- আপডেট সময় : ০৬:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
- / 104
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এবং এসএসসি পরীক্ষার চলমান সময়কে তোয়াক্কা না করেই ময়মনসিংহ নগরে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে।
নগরের জয়নুল উদ্যান সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে আয়োজিতব্য এ মেলাকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্যান্ডেল ও গেইট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। অথচ জেলা প্রশাসন বলছে, তারা এ বিষয়ে অবগত নয় এবং কোনো ধরনের অনুমতিও দেওয়া হয়নি।
বর্তমানে একদিকে এসএসসি পরীক্ষা চলছে, অন্যদিকে সামনে এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যেই এমন আয়োজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার অন্তরা বলে, “মেলা আমাদের ভালো লাগে, কিন্তু এই সময়ে নয়। পরীক্ষা চলাকালীন এমন আয়োজন আমাদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।”
চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থী সিনথিয়া আফরিন শিফা বলেন, “পার্কের পাশেই মেলার প্রস্তুতি দেখে হতাশ হয়েছি। অনেকেই পড়াশোনা ছেড়ে সেখানে সময় কাটাতে পারে, যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর।”
অভিভাবক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পূর্ণমাত্রায় মেলা শুরু হলে এর প্রভাব খারাপ হবে। আমরা চাই পরীক্ষার সময় কোনো ধরনের মেলা না হোক।”
সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, সংকটকালীন সময়ে এই ধরনের বাণিজ্যিক আয়োজন জনজীবনে ভোগান্তি বাড়াবে এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট করবে।
ময়মনসিংহ মহানগর সুজনের সহ-সভাপতি তৌহিদুজ্জামান ছোটন বলেন, “দেশ যখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ব্যস্ত, তখন মেলার আলোকসজ্জা মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করছে। প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।”
তবে আয়োজক কমিটির সদস্য বিকাশ রায় দাবি করেন, “পরীক্ষার সময় মেলা বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো সংকট নেই এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদের আগেই মেলা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, “মেলা আয়োজনের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।”
এদিকে প্রশাসনিক কার্যালয়ের অদূরেই এমন আয়োজন ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল মনে করছে, ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও চলমান জাতীয় সংকট বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।










