ঢাকা ০৯:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের, বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান কুল্লা ইউনিয়নে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে সবুজায়নের অঙ্গীকার ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে উদ্ধার অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় মিলেছে, স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ দিল বড় ভাই, ত্রিশালে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু নীলক্ষেতে ‘ভোজেশ্বরের ইতিকথা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার কমলগঞ্জে মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। মধুপুরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত অন্তত ২৫ বিতাড়িত হওয়ার দুই দশক পর ফের কলকাতায় তসলিমা নাসরিন ‘আর অনলাইনে আসা হবে না’ পোস্টের পরদিন খালে মিলল গার্মেন্টস কর্মীর মরদেহ

ময়মনসিংহে রুবেল হত্যা: পিবিআইয়ের হাতে ৪ জন গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬
  • / 37
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহ নগরীর আলোচিত রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেল (৩৮) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের এক দিনের মধ্যেই ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তারা সবাই বাড়ির মালিক পারুলের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পিবিআই। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পিবিআই জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন ভোরে ভাড়াটিয়া রুবেলের সঙ্গে বাড়ির মালিক পারুল বেগমের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রুবেল পারুলকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে পারুলের চার ছেলে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে রুবেলকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। তবে পিবিআইয়ের সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণের কোনো অভিযোগ বা তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে, নিহতের বাবা মো. আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় বাড়ির মালিকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করেন এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫ দিন আগে রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেল নগরীর আর কে মিশন রোডের ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একা বসবাস শুরু করেন। বাসা নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়ির মালিক পারুলের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাকে দ্রুত বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তবে কিছু সময় চাইলেও বাড়ির মালিক ও তার ছেলেরা নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিলেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, গত রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাসা ছাড়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে বাড়ির মালিক, তার ছেলেসহ অন্য আসামিরা রুবেলের কক্ষে ঢুকে তাকে চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের মরদেহ শয়নকক্ষের বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজন চন্দ্র পাল বলেন, হত্যা মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রনি ও সজলকে পরে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং পিবিআই সদর দপ্তরের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডের মাত্র এক দিনের মধ্যে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ময়মনসিংহে রুবেল হত্যা: পিবিআইয়ের হাতে ৪ জন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহ নগরীর আলোচিত রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেল (৩৮) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের এক দিনের মধ্যেই ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। তারা সবাই বাড়ির মালিক পারুলের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পিবিআই। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পিবিআই জানায়, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন ভোরে ভাড়াটিয়া রুবেলের সঙ্গে বাড়ির মালিক পারুল বেগমের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রুবেল পারুলকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে পারুলের চার ছেলে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে রুবেলকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। তবে পিবিআইয়ের সংবাদ সম্মেলনে ধর্ষণের কোনো অভিযোগ বা তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে, নিহতের বাবা মো. আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় বাড়ির মালিকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করেন এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় ১৫ দিন আগে রাজিব আহম্মেদ ওরফে রুবেল নগরীর আর কে মিশন রোডের ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একা বসবাস শুরু করেন। বাসা নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়ির মালিক পারুলের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাকে দ্রুত বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তবে কিছু সময় চাইলেও বাড়ির মালিক ও তার ছেলেরা নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিলেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, গত রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাসা ছাড়াকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে বাড়ির মালিক, তার ছেলেসহ অন্য আসামিরা রুবেলের কক্ষে ঢুকে তাকে চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের বাবা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের মরদেহ শয়নকক্ষের বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজন চন্দ্র পাল বলেন, হত্যা মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক রনি ও সজলকে পরে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং পিবিআই সদর দপ্তরের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডের মাত্র এক দিনের মধ্যে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।