যেখানে সংস্কৃতি চর্চার কথা, সেখানে ভুট্টা শুকানো হচ্ছে!
- আপডেট সময় : ০৬:৪৭:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
- / 83
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
যেখানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি চর্চা, সংরক্ষণ ও বিকাশের কথা ছিল, সেখানে এখন ভুট্টা শুকানো হচ্ছে। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার রাংরাপাড়া গ্রামে নির্মিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমির এমন চিত্রই চোখে পড়েছে সরেজমিনে।
প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই একাডেমির কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে এবং শেষ হয় ২০১৮ সালে। একই বছরের ১ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত চালু হয়নি এর কার্যক্রম। ফলে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে ধীরে ধীরে নষ্ট হচ্ছে ভবনের অবকাঠামো ও মূল্যবান সরঞ্জাম।
সম্প্রতি একাডেমি ঘুরে দেখা যায়, আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন মিলনায়তন বন্ধ নষ্ঠ হচ্ছে লাইট,সাউন্ড, এসি সহ অন্যান্য জিনিসপত্র। তার পাশেই মুক্ত মঞ্চে রৌদ্রে ভুট্টা শুকানো হচ্ছে। ভবনের ভেতরে রাখা হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। দীর্ঘদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না থাকায় ভবনের ভেতরে জন্ম নিয়েছে গাছপালা, দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, ভেঙে গেছে জানালার কাঁচ। কোথাও কোথাও পানির কারণে শেওলার আস্তরণ জমে ভবন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতিও অচল হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি মূলধারায় তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই একাডেমি নির্মাণ করা হয়।
এখানে আধুনিক শব্দ, আলোক ও অ্যাকুয়েস্টিক সুবিধাসহ ৩০০ আসনবিশিষ্ট একটি মিলনায়তন, ৫০০ আসনের মুক্তমঞ্চ এবং একটি প্রশিক্ষণ ভবন রয়েছে। কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাবে পুরো স্থাপনাটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত।
জানা যায়, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ১৯৯৬ সালে প্রায় এক একর ৮০ শতক জমি ক্রয় করে এই কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে একাডেমির চারপাশ আগাছায় ভরে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। ব্যবহার না হওয়ায় স্থাপনা ও যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, একাডেমিটি চালু হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।
অনসাম্বল থিয়েটারের সভাপতি আবুল মনসুর বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের সংস্কৃতি চর্চার এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একাডেমিটি চালু হলে শুধু তাদের নয়, মূলধারার মানুষও তাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে ও চর্চা করতে পারবে। একইসঙ্গে উপজেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জায়গার সংকটও অনেকটাই দূর হবে। তিনি দ্রুত একাডেমিটি চালুর দাবি জানান।
একাডেমির পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার প্রলয় স্নাল বলেন, নির্মাণ শেষ হলেও এখনো জনবল নিয়োগ না হওয়ায় একাডেমিটি চালু করা সম্ভব হয়নি। পরিচ্ছন্নতা কর্মী না থাকায় ভবনটি জঙ্গলে পরিণত হয়েছে এবং ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে এবং আগামী জুন-জুলাইয়ের মধ্যে জনবল নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়োগ সম্পন্ন হলেই একাডেমির কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করা যাবে।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া আসনের সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল বলেন, তিনি সম্প্রতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং এখনো একাডেমিটি পরিদর্শন করেননি। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একাডেমিটি চালু করা হবে।










