ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যাসিষ্ট আমলে জেল খাটা গোলাম কিবরিয়া এবার হলেন সাময়িক বরখাস্ত!

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / 21
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যাসিষ্ট আমলে ২৬ টি মামলার শিকার হয়েছেন। গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। দিনের পর দিন পালিয়ে বেরিয়েছেন। ৬ বছর ছিলেন চাকুরীচ্যুত। শুধু তিনি নন, তার বাবা-ভাইসহ আত্মীয়-স্বজন অনেকের নামেই ডজনে ডজন মামলা হয়েছে। সরকারী চাকুরী করেও যিনি আওয়ামী বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সারিতে ছিলেন। জুলাই বিপ্লবে যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, সেই গোলাম কিবরিয়াকে সুনির্দিষ্ট কোন কারণ ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। তিনি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি। ডিএসসিসি একাধিক সূত্র বলেছে, আধিপত্য বিস্তারের জন্য ফ্যাসিষ্ট আমলের কিছু কর্মকর্তা মিলে উপর মহলের কান ভারি করে গোলাম কিবরিয়াকে তাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ফ্যাসিষ্ট আমলে গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে মোট ২৬ টি মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল গ্রেফতার হয়ে তিনি ৪ মাস ৬ দিন জেল খাটেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় ২টি, ওয়ারী থানায় ২টি, যাত্রাবাড়ি থানায় ২টি, পল্টন থানায় ৮টি, শাহবাগ থানায় ৪ টি এবং রমনা থানায় ৮ টি মামলা দায়ের হয়। তার সেজ ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছিলো ২৯ টি মামলা, বাবার বিরুদ্ধে ছিলো ২ টি মামলা। এই মামলায় তার বাবা-ভাইয়েরাও মাসের পর মাস জেল খেটেছেন। এরপরেও সব সময় তিনি ফ্যাসিষ্ট বিরোধী আন্দোলনের সামনের সারিতেই ছিলেন। জুলাই বিপ্লবের সময়ও তিনি ছাত্র-জনতার কাতারেই ছিলেন।
এবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তার বিরুদ্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সকল ধরণের টেন্ডার কাজ নিয়ন্ত্রণ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন মার্কেটের দোকান বরাদ্দ ও পরিচালনায় নানা অনিয়মসহ দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে এ বিভাগের একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। উক্ত তদন্তকার্য সুস্পষ্টভাবে পরিচালনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সদর দপ্তরে সংযুক্ত করে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ যেখানে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি। বা অভিযোগকারীও উল্লেখ করা হয়নি।
একটি সূত্র বলেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে এখন আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে। ফ্যাসিষ্ট আমলে যারা দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন তারা সব জোট হয়েছে। ফ্যাসিষ্ট বিরোধী যেসব কর্মকর্তা কর্মচারীরা ছিলেন তারা এখন অনেকটাই কোনঠাসা। এই অবস্থায় সংস্থার অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতিকে তাড়াতে পারলে তাদের পোয়াবারো। এব্যাপারে গোলাম কিবরিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে; এই মুহুর্তে আমি কিছু বলবো না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফ্যাসিষ্ট আমলে জেল খাটা গোলাম কিবরিয়া এবার হলেন সাময়িক বরখাস্ত!

আপডেট সময় : ০৪:১০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যাসিষ্ট আমলে ২৬ টি মামলার শিকার হয়েছেন। গ্রেফতার হয়ে জেল খেটেছেন। দিনের পর দিন পালিয়ে বেরিয়েছেন। ৬ বছর ছিলেন চাকুরীচ্যুত। শুধু তিনি নন, তার বাবা-ভাইসহ আত্মীয়-স্বজন অনেকের নামেই ডজনে ডজন মামলা হয়েছে। সরকারী চাকুরী করেও যিনি আওয়ামী বিরোধী প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সারিতে ছিলেন। জুলাই বিপ্লবে যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, সেই গোলাম কিবরিয়াকে সুনির্দিষ্ট কোন কারণ ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। তিনি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি। ডিএসসিসি একাধিক সূত্র বলেছে, আধিপত্য বিস্তারের জন্য ফ্যাসিষ্ট আমলের কিছু কর্মকর্তা মিলে উপর মহলের কান ভারি করে গোলাম কিবরিয়াকে তাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
ফ্যাসিষ্ট আমলে গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে মোট ২৬ টি মামলা দায়ের হয়। এই মামলায় ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল গ্রেফতার হয়ে তিনি ৪ মাস ৬ দিন জেল খাটেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তার বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় ২টি, ওয়ারী থানায় ২টি, যাত্রাবাড়ি থানায় ২টি, পল্টন থানায় ৮টি, শাহবাগ থানায় ৪ টি এবং রমনা থানায় ৮ টি মামলা দায়ের হয়। তার সেজ ভাইয়ের বিরুদ্ধে ছিলো ২৯ টি মামলা, বাবার বিরুদ্ধে ছিলো ২ টি মামলা। এই মামলায় তার বাবা-ভাইয়েরাও মাসের পর মাস জেল খেটেছেন। এরপরেও সব সময় তিনি ফ্যাসিষ্ট বিরোধী আন্দোলনের সামনের সারিতেই ছিলেন। জুলাই বিপ্লবের সময়ও তিনি ছাত্র-জনতার কাতারেই ছিলেন।
এবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র থেকে তার বিরুদ্ধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সকল ধরণের টেন্ডার কাজ নিয়ন্ত্রণ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন মার্কেটের দোকান বরাদ্দ ও পরিচালনায় নানা অনিয়মসহ দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে এ বিভাগের একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। উক্ত তদন্তকার্য সুস্পষ্টভাবে পরিচালনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সদর দপ্তরে সংযুক্ত করে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ যেখানে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি। বা অভিযোগকারীও উল্লেখ করা হয়নি।
একটি সূত্র বলেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে এখন আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে। ফ্যাসিষ্ট আমলে যারা দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন তারা সব জোট হয়েছে। ফ্যাসিষ্ট বিরোধী যেসব কর্মকর্তা কর্মচারীরা ছিলেন তারা এখন অনেকটাই কোনঠাসা। এই অবস্থায় সংস্থার অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতিকে তাড়াতে পারলে তাদের পোয়াবারো। এব্যাপারে গোলাম কিবরিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে; এই মুহুর্তে আমি কিছু বলবো না।