ঢাকা ০৩:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একতারার ইমাম মরমী সাধক উকিল মুন্সী ও তাঁর অবয়ব -ইমতিয়াজ আহমেদ ময়মনসিংহে আইইডি’র উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি টেকনাফে ব্যবসায়ীর ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ: চিহ্নিত ৭ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৩- ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকিরও দাবি ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’ রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সরকারি কোয়ার্টারের সামনে এক উত্তেজনাকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। ৫ বছরের শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদে ফেলে হত্যা, ৩ তরুণ আটক অর্থোপেডিক ও স্পাইন চিকিৎসায় আস্থার নাম ডাঃ নাবিল যুনায়েদ সিডনী শরণার্থী শিবিরে জন্ম, ভ্যাঙ্কুভারে গড়লেন ইতিহাস পল্লবীর ইব্রাহিম-রিয়াজ বাহিনীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযান, ১০ গ্রেনেডসহ ২৮ রাউন্ড গোলা উদ্ধার

তিন বছরের হয়রানি, হামলা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ: বিচার চেয়ে মৌলভীবাজারে সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / 15
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
দীর্ঘ তিন বছর ধরে হয়রানি, হামলা, হুমকি ও মিথ্যা মামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম ও তাঁর পরিবার। মঙ্গলবার মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর স্থানীয় ব্যক্তি রুমন মিয়া তাঁকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। তিনি ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় রুমন মিয়া ও তাঁর সহযোগী আফজল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন।
ফাতেমা বেগমের দাবি, পরবর্তীতে তিনি হাবিব মিয়াকে বিয়ে করলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে, তাঁর স্বামী, ভাই মেরাজ মিয়া এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে হুমকি দেওয়া হয়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে নানা অপতৎপরতা চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ফাতেমা বেগমকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে স্থানীয়ভাবে বিচার চাইলেও অভিযুক্তদের প্রভাবের কারণে কেউ কার্যকর ভূমিকা রাখেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফাতেমা বেগম আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। তাঁর দাবি, রুমন মিয়া কখনও আওয়ামী লীগ, আবার কখনও বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে মামলায় জড়িয়ে আপসের নামে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কমলগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও যথাযথ তদন্ত ও আইনগত অগ্রগতি হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে মামলার কার্যক্রম প্রভাবিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তিন বছরের হয়রানি, হামলা ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ: বিচার চেয়ে মৌলভীবাজারে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৭:২০:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
দীর্ঘ তিন বছর ধরে হয়রানি, হামলা, হুমকি ও মিথ্যা মামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ এনে বিচার ও নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন কমলগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম ও তাঁর পরিবার। মঙ্গলবার মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর স্থানীয় ব্যক্তি রুমন মিয়া তাঁকে বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দেন। তিনি ওই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় রুমন মিয়া ও তাঁর সহযোগী আফজল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন।
ফাতেমা বেগমের দাবি, পরবর্তীতে তিনি হাবিব মিয়াকে বিয়ে করলে অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে, তাঁর স্বামী, ভাই মেরাজ মিয়া এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে হুমকি দেওয়া হয়। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে নানা অপতৎপরতা চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ফাতেমা বেগমকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে স্থানীয়ভাবে বিচার চাইলেও অভিযুক্তদের প্রভাবের কারণে কেউ কার্যকর ভূমিকা রাখেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফাতেমা বেগম আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। তাঁর দাবি, রুমন মিয়া কখনও আওয়ামী লীগ, আবার কখনও বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে মামলায় জড়িয়ে আপসের নামে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, কমলগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলেও যথাযথ তদন্ত ও আইনগত অগ্রগতি হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে মামলার কার্যক্রম প্রভাবিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।