ঢাকা ০৪:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একতারার ইমাম মরমী সাধক উকিল মুন্সী ও তাঁর অবয়ব -ইমতিয়াজ আহমেদ ময়মনসিংহে আইইডি’র উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি টেকনাফে ব্যবসায়ীর ১২ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ: চিহ্নিত ৭ জনসহ অজ্ঞাতনামা ৩- ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ, প্রাণনাশের হুমকিরও দাবি ‘মেসি এবার বিশ্বকাপ জিততে পারবে না’ রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় সরকারি কোয়ার্টারের সামনে এক উত্তেজনাকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। ৫ বছরের শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদে ফেলে হত্যা, ৩ তরুণ আটক অর্থোপেডিক ও স্পাইন চিকিৎসায় আস্থার নাম ডাঃ নাবিল যুনায়েদ সিডনী শরণার্থী শিবিরে জন্ম, ভ্যাঙ্কুভারে গড়লেন ইতিহাস পল্লবীর ইব্রাহিম-রিয়াজ বাহিনীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযান, ১০ গ্রেনেডসহ ২৮ রাউন্ড গোলা উদ্ধার

৫ বছরের শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদে ফেলে হত্যা, ৩ তরুণ আটক

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 21
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কংস নদ থেকে এক শিশুর (৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। কদম ফুল দেওয়ার লোভ দেখিয়ে চার তরুণ মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ করে এবং পরে জীবিত অবস্থাতেই কংস নদে ফেলে হত্যা করেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যেই পুলিশের কাছে অপরাধের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

​আটককৃতরা হলেন- মারুফ হোসেন (২০), আরিফ হোসেন (১৮) ও রাকিব হাসান (১৯)। তারা সবাই ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের বাসিন্দা।

​শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার বিকেল ৫টার দিকে ধোবাউড়া উপজেলার নিজ বাড়ির পাশ থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে স্থানীয় লোকজন কংস নদের একটি বাঁকে শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত ও উদ্ধার করেন।

​রোববার রাতেই শিশুটির মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করাতে নিয়ে যান স্বজনেরা। সে সময় শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে গভীর ক্ষত দেখতে পান তারা। এই অবস্থায় দাফনের প্রস্তুতি স্থগিত রেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

​প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার স্পষ্ট আলামত পাওয়ায় এলাকায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে মারুফ, রাকিব ও আরিফকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আটক হওয়া তিনজনের মধ্যে একজনের ভাষ্য অনুযায়ী চারজন মিলেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। তবে বাকি দুজন এখনো মুখ খোলেনি। এই ঘটনায় মোট চারজন জড়িত ছিল। পলাতক অন্যজনকে আটকের চেষ্টা আমরা চালাচ্ছি।

​তিনি আরও বলেন, ছোট মেয়েটি সন্ধ্যার দিকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে ওই চার তরুণ তাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যায়। পরে নদের পাড়ে জঙ্গলের মতো একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের ফলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে, জীবিত অবস্থাতেই শিশুটিকে নদে ফেলে দেয় তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

৫ বছরের শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদে ফেলে হত্যা, ৩ তরুণ আটক

আপডেট সময় : ০৬:৫৩:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কংস নদ থেকে এক শিশুর (৫) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। কদম ফুল দেওয়ার লোভ দেখিয়ে চার তরুণ মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ করে এবং পরে জীবিত অবস্থাতেই কংস নদে ফেলে হত্যা করেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিন তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যেই পুলিশের কাছে অপরাধের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।

​আটককৃতরা হলেন- মারুফ হোসেন (২০), আরিফ হোসেন (১৮) ও রাকিব হাসান (১৯)। তারা সবাই ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের বাসিন্দা।

​শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার বিকেল ৫টার দিকে ধোবাউড়া উপজেলার নিজ বাড়ির পাশ থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে স্থানীয় লোকজন কংস নদের একটি বাঁকে শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি শনাক্ত ও উদ্ধার করেন।

​রোববার রাতেই শিশুটির মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি হিসেবে গোসল করাতে নিয়ে যান স্বজনেরা। সে সময় শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে গভীর ক্ষত দেখতে পান তারা। এই অবস্থায় দাফনের প্রস্তুতি স্থগিত রেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সোমবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

​প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার স্পষ্ট আলামত পাওয়ায় এলাকায় অভিযান শুরু করে পুলিশ। সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে মারুফ, রাকিব ও আরিফকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের সহকারী পুলিশ সুপার (হালুয়াঘাট সার্কেল) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আটক হওয়া তিনজনের মধ্যে একজনের ভাষ্য অনুযায়ী চারজন মিলেই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। তবে বাকি দুজন এখনো মুখ খোলেনি। এই ঘটনায় মোট চারজন জড়িত ছিল। পলাতক অন্যজনকে আটকের চেষ্টা আমরা চালাচ্ছি।

​তিনি আরও বলেন, ছোট মেয়েটি সন্ধ্যার দিকে চিপস কিনে বাড়ি ফেরার পথে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে ওই চার তরুণ তাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যায়। পরে নদের পাড়ে জঙ্গলের মতো একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের ফলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে, জীবিত অবস্থাতেই শিশুটিকে নদে ফেলে দেয় তারা।