ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে মা ও মেয়েকে মারধর ও শ্লীলতাহানি এবং স্বর্নলংকার লুট। কলাপাড়ায় দূর্বৃত্তদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন।

মোয়াজ্জেম হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 108
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের ০৫ নং ওয়ার্ড চিংগড়িয়ায় দিনে দুপুরে মনোতোষ হাওলাদার’র ঘরে ঢুকে বসতঘর ও জমি দখলের চেষ্টা এবং তার স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর, শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী। রবিবার সকাল ১০ টায় কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সামনে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এবং এলাকাবাসী এ মানববন্ধন করেন। এর আগে ইউনিটি’র হল রুমে সাংবাদ সম্মেলনও করেন তারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মনোতোষ হাওলাদারের স্ত্রী অপর্ণা বিশ্বাস। এসময় মনোতোষ হাওলাদার, তার মেয়ে শ্রাবন্তী হাওদালার, সুবল চন্দ্র শীল ও প্রতিবেশী অঞ্জনা মিত্রসহ স্থানীয় আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ভূক্তভোগী মনোতোষ হাওলাদার বলেন, স্থানীয় রবিন বাবুর নিকট থেকে ২০২০ সালে পৌর শহরের চিঙ্গুরিয়ায় ২৭ লক্ষ টাকায় ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন যাবৎ পরিববারসহ বসবাস করছেন। গত শুক্রবার সকালে হঠাৎ প্রফুল্ল ও তপনের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের বাহিনী নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা করে। এতে বাধা দিতে গেলে তার স্ত্রী অপর্ণা বিশ্বাস ও মেয়ে শ্রাবন্তী হাওদালারকে মারধর করে কানের ও গলার স্বর্ণলংকার ছিনিয়ে নেয়। তাদের রক্ষা করতে গেলে মনোতোষ হাওলাদারকে বেদরক মারধর ও রক্তাক্ত জখম করে। স্থানীয় হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা নিতে বাধা দেয় হয়। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় চিকিৎসা নেন ভূক্তভোগীরা।
অপর ভূক্তভোগী সুবল চন্দ্র শীল বলেন, তিনি ১৯৮৫ সনে ওই খতিয়ানে সোয়া এগারো শতাংশ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু সাড়ে দশ শাতাংশ জমি তিনি ভোগদখল করছেন। অথচ ওই ভূমি দস্যুরা ২০২২ সালে ভূয়া একটি দলিল দিয়ে তার নামে হয়রানীমূলক মামলা করেছেন বলে জানান।
প্রতিবেশী অঞ্জনা মিত্র বলেন, চিহ্নিত ভূমি দস্যু প্রফুল্ল ও তপন ওই এলাকার একাধিক লোকদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হয়রানী করে আসছে। তাদের কাছে চাঁদা দাবী করে অন্যথায় মিথ্যা মামলায় হয়রানীর শিকার হতে হয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত তপন বলেন, তাদের সাথে জমি সংক্রান্ত ঝামেলা থাকায় সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে কোন শ্লীলতাহানি বা লুটের ঘটনা হয়নি।
কলাপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, তাদের মধ্যে জমি-জমা নিয়ে দ্বন্ধ হয়। এবিষয়ে অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে মা ও মেয়েকে মারধর ও শ্লীলতাহানি এবং স্বর্নলংকার লুট। কলাপাড়ায় দূর্বৃত্তদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন।

আপডেট সময় : ০৫:২৫:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের ০৫ নং ওয়ার্ড চিংগড়িয়ায় দিনে দুপুরে মনোতোষ হাওলাদার’র ঘরে ঢুকে বসতঘর ও জমি দখলের চেষ্টা এবং তার স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর, শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী। রবিবার সকাল ১০ টায় কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সামনে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এবং এলাকাবাসী এ মানববন্ধন করেন। এর আগে ইউনিটি’র হল রুমে সাংবাদ সম্মেলনও করেন তারা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মনোতোষ হাওলাদারের স্ত্রী অপর্ণা বিশ্বাস। এসময় মনোতোষ হাওলাদার, তার মেয়ে শ্রাবন্তী হাওদালার, সুবল চন্দ্র শীল ও প্রতিবেশী অঞ্জনা মিত্রসহ স্থানীয় আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
ভূক্তভোগী মনোতোষ হাওলাদার বলেন, স্থানীয় রবিন বাবুর নিকট থেকে ২০২০ সালে পৌর শহরের চিঙ্গুরিয়ায় ২৭ লক্ষ টাকায় ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন যাবৎ পরিববারসহ বসবাস করছেন। গত শুক্রবার সকালে হঠাৎ প্রফুল্ল ও তপনের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের বাহিনী নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা করে। এতে বাধা দিতে গেলে তার স্ত্রী অপর্ণা বিশ্বাস ও মেয়ে শ্রাবন্তী হাওদালারকে মারধর করে কানের ও গলার স্বর্ণলংকার ছিনিয়ে নেয়। তাদের রক্ষা করতে গেলে মনোতোষ হাওলাদারকে বেদরক মারধর ও রক্তাক্ত জখম করে। স্থানীয় হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা নিতে বাধা দেয় হয়। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় চিকিৎসা নেন ভূক্তভোগীরা।
অপর ভূক্তভোগী সুবল চন্দ্র শীল বলেন, তিনি ১৯৮৫ সনে ওই খতিয়ানে সোয়া এগারো শতাংশ জমি ক্রয় করেন। কিন্তু সাড়ে দশ শাতাংশ জমি তিনি ভোগদখল করছেন। অথচ ওই ভূমি দস্যুরা ২০২২ সালে ভূয়া একটি দলিল দিয়ে তার নামে হয়রানীমূলক মামলা করেছেন বলে জানান।
প্রতিবেশী অঞ্জনা মিত্র বলেন, চিহ্নিত ভূমি দস্যু প্রফুল্ল ও তপন ওই এলাকার একাধিক লোকদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হয়রানী করে আসছে। তাদের কাছে চাঁদা দাবী করে অন্যথায় মিথ্যা মামলায় হয়রানীর শিকার হতে হয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত তপন বলেন, তাদের সাথে জমি সংক্রান্ত ঝামেলা থাকায় সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে কোন শ্লীলতাহানি বা লুটের ঘটনা হয়নি।
কলাপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, তাদের মধ্যে জমি-জমা নিয়ে দ্বন্ধ হয়। এবিষয়ে অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।