ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে : এমরান সালেহ অনলাইন জুয়ারি ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা সীমান্তে বালু দস্যুতা রোধে চাই কঠোর আইন: শেরপুরে হামলায় বিট কর্মকর্তাসহ আহত ২ যাত্রীসেবা নাকি অনিয়ম? গুলিস্তান-গৌরীপুর রুটে বিআরটিসি এসি বাসে অতিরিক্ত যাত্রী ও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার অভিযোগ অস্ত্রের মুখে ছিনতাই হওয়া প্রাইভেটকার উদ্ধার, কালিয়াকৈরে তিন ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আইভী হবিগঞ্জে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক আর্জেন্টিনা ভক্তদের জন্য বড় সুখবর ড্রোন হামলায় কুয়েতে ৪ বাংলাদেশি আহত তাহিরপুরে কথিত এক সাংবাদিকের চাঁদাবাজি ও অপপ্রচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

যাত্রীসেবা নাকি অনিয়ম? গুলিস্তান-গৌরীপুর রুটে বিআরটিসি এসি বাসে অতিরিক্ত যাত্রী ও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / 10
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর গুলিস্তান থেকে কুমিল্লার গৌরীপুরগামী বিআরটিসি এসি বাস সার্ভিসে যাত্রী হয়রানি, নির্ধারিত আসনসংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং দীর্ঘক্ষণ অযৌক্তিকভাবে বাস আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী একজন যাত্রী জানান, ৪ জুন ২০২৬ তারিখে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে গুলিস্তান থেকে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বাসটি প্রায় ৫০ মিনিটেরও বেশি সময় যাত্রীদের অপেক্ষায় রাখে। বাসটির নম্বর ছিল ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৬৩৯৫।

যাত্রীর ভাষ্যমতে, বাসটিতে মোট আসনসংখ্যা ৪৫টি। শুরুতে কর্তৃপক্ষ জানায়, সব আসন পূর্ণ হলেই বাস ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু ৪৫টি আসন পূর্ণ হওয়ার পরও বাসটি নির্ধারিত সময়ে যাত্রা শুরু করেনি। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন যাত্রীকে বাসে তোলা হয় এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ইঞ্জিন কভারের ওপর বসতে বলা হয়।

অভিযোগকারী বলেন, “প্রতিজনের কাছ থেকে ১৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। টিকিট কেটে একজন যাত্রী কেন ইঞ্জিনের ওপর বসে ভ্রমণ করবে? এটি শুধু অস্বস্তিকর নয়, বরং নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। হঠাৎ ব্রেক করলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীরা গুরুতর আহত হতে পারেন।”

এ বিষয়ে বাসের হেলপার ও চালকের সঙ্গে কথা বললে তারা দাবি করেন, মালিকপক্ষের অনুমতি অনুযায়ী অতিরিক্ত কয়েকজন যাত্রী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা বৈধতার প্রমাণ দেখাতে পারেননি তারা।

অভিযোগকারী আরও জানান, বাস কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বরং তাকে নীরব থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার সকাল ৮টার আগে অফিসে আসবেন না এবং অভিযোগ থাকলে নির্ধারিত নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি বাসের নির্ধারিত আসনসংখ্যা পূর্ণ হওয়ার পরও অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া হয় এবং তাদের অনিরাপদ স্থানে বসিয়ে পরিবহন করা হয়, তাহলে যাত্রীদের নিরাপত্তার দায়ভার কে নেবে? এ ধরনের অনিয়ম কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগোচরে ঘটছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো স্বার্থ জড়িত রয়েছে?

একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে অভিযোগকারী বিআরটিসি, বিআরটিএ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে বিআরটিসির সুনাম রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি ও অনিয়মের কারণে সাধারণ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

বাস সার্ভিস সংক্রান্ত তথ্য:

– রুট: গুলিস্তান – কুমিল্লা গৌরীপুর
– তারিখ: ৪ জুন ২০২৬
– নির্ধারিত যাত্রার সময়: সকাল ৬:১০ মিনিট
– বাস নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৬৩৯৫
– অভিযোগ নম্বর: ০১৮২১-৯৪৪০৪৮, ০১৮১৪-৪৩০০৮৩, ০১৩০৮-৬৯৫১৭৭

নাগরিক বার্তা:
অন্যায় যে-ই করুক, যে দলেরই হোক বা যে প্রতিষ্ঠানেরই হোক, তার বিরুদ্ধে সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রতিবাদ জানানো সবার দায়িত্ব। আইনের শাসন ও জনস্বার্থ রক্ষায় সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

যাত্রীসেবা নাকি অনিয়ম? গুলিস্তান-গৌরীপুর রুটে বিআরটিসি এসি বাসে অতিরিক্ত যাত্রী ও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:০২:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | ৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর গুলিস্তান থেকে কুমিল্লার গৌরীপুরগামী বিআরটিসি এসি বাস সার্ভিসে যাত্রী হয়রানি, নির্ধারিত আসনসংখ্যার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং দীর্ঘক্ষণ অযৌক্তিকভাবে বাস আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারী একজন যাত্রী জানান, ৪ জুন ২০২৬ তারিখে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে গুলিস্তান থেকে ছেড়ে যাওয়ার নির্ধারিত সময় থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বাসটি প্রায় ৫০ মিনিটেরও বেশি সময় যাত্রীদের অপেক্ষায় রাখে। বাসটির নম্বর ছিল ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৬৩৯৫।

যাত্রীর ভাষ্যমতে, বাসটিতে মোট আসনসংখ্যা ৪৫টি। শুরুতে কর্তৃপক্ষ জানায়, সব আসন পূর্ণ হলেই বাস ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু ৪৫টি আসন পূর্ণ হওয়ার পরও বাসটি নির্ধারিত সময়ে যাত্রা শুরু করেনি। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন যাত্রীকে বাসে তোলা হয় এবং তাদের মধ্যে কয়েকজনকে ইঞ্জিন কভারের ওপর বসতে বলা হয়।

অভিযোগকারী বলেন, “প্রতিজনের কাছ থেকে ১৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। টিকিট কেটে একজন যাত্রী কেন ইঞ্জিনের ওপর বসে ভ্রমণ করবে? এটি শুধু অস্বস্তিকর নয়, বরং নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। হঠাৎ ব্রেক করলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে যাত্রীরা গুরুতর আহত হতে পারেন।”

এ বিষয়ে বাসের হেলপার ও চালকের সঙ্গে কথা বললে তারা দাবি করেন, মালিকপক্ষের অনুমতি অনুযায়ী অতিরিক্ত কয়েকজন যাত্রী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত নির্দেশনা বা বৈধতার প্রমাণ দেখাতে পারেননি তারা।

অভিযোগকারী আরও জানান, বাস কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। বরং তাকে নীরব থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ম্যানেজার সকাল ৮টার আগে অফিসে আসবেন না এবং অভিযোগ থাকলে নির্ধারিত নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, যদি বাসের নির্ধারিত আসনসংখ্যা পূর্ণ হওয়ার পরও অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া হয় এবং তাদের অনিরাপদ স্থানে বসিয়ে পরিবহন করা হয়, তাহলে যাত্রীদের নিরাপত্তার দায়ভার কে নেবে? এ ধরনের অনিয়ম কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগোচরে ঘটছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো স্বার্থ জড়িত রয়েছে?

একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে অভিযোগকারী বিআরটিসি, বিআরটিএ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে বিআরটিসির সুনাম রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি ও অনিয়মের কারণে সাধারণ যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

বাস সার্ভিস সংক্রান্ত তথ্য:

– রুট: গুলিস্তান – কুমিল্লা গৌরীপুর
– তারিখ: ৪ জুন ২০২৬
– নির্ধারিত যাত্রার সময়: সকাল ৬:১০ মিনিট
– বাস নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৬৩৯৫
– অভিযোগ নম্বর: ০১৮২১-৯৪৪০৪৮, ০১৮১৪-৪৩০০৮৩, ০১৩০৮-৬৯৫১৭৭

নাগরিক বার্তা:
অন্যায় যে-ই করুক, যে দলেরই হোক বা যে প্রতিষ্ঠানেরই হোক, তার বিরুদ্ধে সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রতিবাদ জানানো সবার দায়িত্ব। আইনের শাসন ও জনস্বার্থ রক্ষায় সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।