ঢাকা ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে গ্যাস সরবরাহে কড়াকড়ি, বন্ধের আশঙ্কায় রেস্তোরাঁ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • / 54
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় প্রাকৃতিক ও রান্নার গ্যাস ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ভারত সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে বহু রেস্তোরাঁ ও হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ ভারত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। রান্না ও শিল্পকারখানার কাজে ব্যবহৃত এসব গ্যাসের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে দেশটি।

মঙ্গলবার ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে গ্যাসের সুষম বণ্টন ও জরুরি খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন এই নিয়ম জারি করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে বাসাবাড়ি, পরিবহন খাত এবং এলপিজি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তবে সার কারখানা, চা শিল্পসহ অন্যান্য খাত তাদের চাহিদার মাত্র ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গ্যাস পাবে, তাও প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে। এই ঘাটতি পূরণ করতে পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা গ্যাস আংশিক বা পুরোপুরি কমিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে ইতোমধ্যে সিরামিক ও টাইলস শিল্পসহ ভারতের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেস্তোরাঁ ও হোটেল মালিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে তাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এর আগে ভারত সরকার বাসাবাড়িতে এলপিজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

সূত্র: এএফপি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভারতে গ্যাস সরবরাহে কড়াকড়ি, বন্ধের আশঙ্কায় রেস্তোরাঁ

আপডেট সময় : ০১:০৬:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় প্রাকৃতিক ও রান্নার গ্যাস ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করেছে ভারত সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে বহু রেস্তোরাঁ ও হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দেশ ভারত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। রান্না ও শিল্পকারখানার কাজে ব্যবহৃত এসব গ্যাসের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে দেশটি।

মঙ্গলবার ভারতের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে গ্যাসের সুষম বণ্টন ও জরুরি খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন এই নিয়ম জারি করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এলএনজি সরবরাহের ক্ষেত্রে বাসাবাড়ি, পরিবহন খাত এবং এলপিজি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তবে সার কারখানা, চা শিল্পসহ অন্যান্য খাত তাদের চাহিদার মাত্র ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গ্যাস পাবে, তাও প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে। এই ঘাটতি পূরণ করতে পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা গ্যাস আংশিক বা পুরোপুরি কমিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে ইতোমধ্যে সিরামিক ও টাইলস শিল্পসহ ভারতের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেস্তোরাঁ ও হোটেল মালিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে তাদের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এর আগে ভারত সরকার বাসাবাড়িতে এলপিজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

সূত্র: এএফপি