বিশ্বম্ভরপুরের করচার হাওরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।।
- আপডেট সময় : ০৬:৫৬:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- / 27
মোঃ আঃ মান্নান, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জবাসীর মুখে একটি প্রচলিত কথা আছে— “মৎস্য–পাথর-ধান, সুনামগঞ্জের প্রাণ।” ছোটবেলা থেকেই দেখা যায়, হাওরবেষ্টিত এই জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে বোরো ধান ঘরে তোলার পর কৃষকের মুখে ফুটে উঠত তৃপ্তির হাসি। কিন্তু আকস্মিক বন্যার আঘাতে সেই হাসি আজ মলিন হয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওরে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিস্তীর্ণ বোরো ধানক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাওরপাড়ের হাজারো কৃষক।
জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে হাওরের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে করচার হাওরের অধিকাংশ জমি ডুবে যায়। কোথাও পাকা ধান কাটার আগেই পানিতে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও কাটা ধান পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। এতে করে কৃষকদের বছরের একমাত্র ফসল হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২৬৬টি হাওর রয়েছে, যার বেশিরভাগই এই আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে জেলার সার্বিক কৃষি ব্যবস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তারা। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ বন্যার পানিতে সবকিছু তলিয়ে যাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দ্রুত পানি না নামলে সম্পূর্ণ ফসলহানির আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে শুধু প্রকৃতির দিকেই আঙুল তুললে হবে না—এমন মত স্থানীয়দের। তারা বলছেন, প্রশ্ন হচ্ছে এই বিপর্যয়ের জন্য শুধুই প্রকৃতি দায়ী, নাকি মানুষের অবহেলাও রয়েছে। অনেকের অভিযোগ, হাওরের বাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়ম, সময়মতো সংস্কারের অভাব এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণেও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। অনেক এলাকায় নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা প্রদান এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সময়োপযোগী পরিকল্পনা ও সঠিক তদারকি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।




















