ইরাকের বসরা উপকূলের কাছে জলসীমায় একটি মার্কিন মালিকানাধীন তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় ট্যাঙ্কারটিতে কর্মরত ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার বসরার কাছে মার্কিন মালিকানাধীন অপরিশোধিত তেলবাহী একটি ট্যাঙ্কারে হামলার ঘটনায় ওই ক্রু সদস্য নিহত হন। বাগদাদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দূতাবাস জানায়, মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘সেফসি বিষ্ণু’ নামের ওই ট্যাঙ্কারে থাকা বাকি ১৫ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই দিনে হরমুজ প্রণালিতে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজেও হামলা চালায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এতে জাহাজটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং তিনজন নাবিক নিখোঁজ হন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জাহাজটি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের কান্দলা বন্দরের দিকে যাচ্ছিল এবং নিখোঁজ তিন নাবিকের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।
পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দুইটি ট্যাঙ্কার জাহাজকে নিরাপত্তা প্যাসেজ দিয়েছে ইরান। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশ্বে প্রতিদিন চলাচলকারী তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজের প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ ব্যবহার করে। এ কারণে হরমুজ প্রণালিকে অনেক সময় ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ বলা হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটে। ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে ১৩টির বেশি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।
সূত্র: এএফপি, আল জাজিরা।




















