ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ময়মনসিংহে জাল নোটসহ যুবক আটক, পালিয়েছে নারী সহযোগী ময়মনসিংহে বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যু সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু ময়মনসিংহ মেডিকেলে সংঘর্ষ, এক সপ্তাহ ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ময়মনসিংহে হাম রোগীর চাপ বাড়ছে, এক দিনে ভর্তি ৩৬ পুরান ঢাকার নারিন্দায় সাংবাদিক মোস্তাকের মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জ্বালানি সংকটে বিকল্প পথের আহ্বান, সরকারের কাছে ১৩ দফা সুপারি হজযাত্রীদের কাছে দেশ ও জাতির জন্য দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ‘মুজিবনগরে সরকার গঠন না হলে আমরা স্বাধীনতা আনতে পারতাম না’ মমেক ছাত্রাবাসে তুচ্ছ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আহত ২, গুরুতর একজন ঢাকায় রেফার; আটক ১

জ্বালানি সংকটে বিকল্প পথের আহ্বান, সরকারের কাছে ১৩ দফা সুপারি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 19
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ | ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে দ্রুত বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দুইটি সংগঠন। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় সরকারের কাছে ১৩ দফা সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবার ময়মনসিংহ নগরের গ্রীন পয়েন্ট ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ তুলে ধরে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম, ময়মনসিংহ এবং অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সেলিমা বেগম, নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা এবং প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মো. খায়রুল আলম তুহিন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে জ্বালানি আমদানে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।
সংগঠনগুলোর মতে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন হ্রাস এবং এলএনজির ওপর বাড়তি নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে পড়ছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থাকায় শিল্প উৎপাদনও কমে গেছে।
এছাড়া জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করছে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে। কৃষি, পরিবহন ও শিল্পসহ বিভিন্ন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দেওয়ার বিকল্প নেই বলে মত দেন বক্তারা। তারা বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌরচালিত সেচপাম্প এবং বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—জ্বালানি খাতে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর-প্রণোদনা প্রদান, দ্রুত রুফটপ সোলার কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনে গতি আনা, পরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক যানবাহন চালু এবং সৌরচালিত সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়বে। তাই নতুন কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা মনে করেন, বর্তমান সংকটকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারে। এজন্য সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জ্বালানি সংকটে বিকল্প পথের আহ্বান, সরকারের কাছে ১৩ দফা সুপারি

আপডেট সময় : ১১:১১:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ | ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে দ্রুত বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দুইটি সংগঠন। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় সরকারের কাছে ১৩ দফা সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে।
শনিবার ময়মনসিংহ নগরের গ্রীন পয়েন্ট ট্রেনিং সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ সুপারিশ তুলে ধরে প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম, ময়মনসিংহ এবং অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন অন্যচিত্র ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সেলিমা বেগম, নির্বাহী পরিচালক রেবেকা সুলতানা এবং প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মো. খায়রুল আলম তুহিন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে জ্বালানি আমদানে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।
সংগঠনগুলোর মতে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন হ্রাস এবং এলএনজির ওপর বাড়তি নির্ভরতার কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতে পড়ছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থাকায় শিল্প উৎপাদনও কমে গেছে।
এছাড়া জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি করছে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়াচ্ছে। কৃষি, পরিবহন ও শিল্পসহ বিভিন্ন খাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দেওয়ার বিকল্প নেই বলে মত দেন বক্তারা। তারা বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সৌরচালিত সেচপাম্প এবং বিকেন্দ্রীভূত জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—জ্বালানি খাতে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর-প্রণোদনা প্রদান, দ্রুত রুফটপ সোলার কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনে গতি আনা, পরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক যানবাহন চালু এবং সৌরচালিত সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ালে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়বে। তাই নতুন কয়লাভিত্তিক প্রকল্পের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা মনে করেন, বর্তমান সংকটকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে পারে। এজন্য সরকার, বেসরকারি খাত ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।