ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ময়মনসিংহে জাল নোটসহ যুবক আটক, পালিয়েছে নারী সহযোগী ময়মনসিংহে বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যু সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে ৫ কৃষকের মৃত্যু ময়মনসিংহ মেডিকেলে সংঘর্ষ, এক সপ্তাহ ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত ময়মনসিংহে হাম রোগীর চাপ বাড়ছে, এক দিনে ভর্তি ৩৬ পুরান ঢাকার নারিন্দায় সাংবাদিক মোস্তাকের মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জ্বালানি সংকটে বিকল্প পথের আহ্বান, সরকারের কাছে ১৩ দফা সুপারি হজযাত্রীদের কাছে দেশ ও জাতির জন্য দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ‘মুজিবনগরে সরকার গঠন না হলে আমরা স্বাধীনতা আনতে পারতাম না’ মমেক ছাত্রাবাসে তুচ্ছ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ আহত ২, গুরুতর একজন ঢাকায় রেফার; আটক ১

‘মুজিবনগরে সরকার গঠন না হলে আমরা স্বাধীনতা আনতে পারতাম না’

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 25
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কৃষক-শ্রমিক-জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, মুজিবনগর দিবস কারো একার না, কোনো দলের একার না। মুজিবনগর দিবস সকল দল-মতের ও পথের। মুজিবনগর দিবস বর্তমান সরকারের, এমনকি মুজিবনগর দিবস বর্তমান যে বিরোধী দল আছে তাদেরও। মুজিবনগর দিবস তারা পালন করুক, আর না করুক।

শুক্রবার(১৭ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুরে কাদের সিদ্দিকীর নিজ বাসভবন ঐতিহাসিক ম‌ু‌জিবনগর দিবস উদযাপন উপল‌ক্ষ্যে আ‌য়ো‌জিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মুজিবনগরে সরকার গঠন না হলে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনতে পারতাম না। সেজন্য স্পষ্ট করে বলতে চাই, যে কারো এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। মুজিবনগর দিবস আমাদের না তাদের, আমাদের না ওদের। মুজিবনগর দিবস আওয়ামী লীগের বিএনপির না। এটা ঠিক না।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি সত্য। কিন্তু আমরা কখনও স্বাধীনতাকে উপলব্ধি করতে পারিনি। স্বাধীনতা কোনো দলের না, মতের না, স্বাধীনতা সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বাংলাদেশের। যে–যে দলই করুক, সব দলের মানুষের হচ্ছে বাংলাদেশ, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ। আমরা কখনও সার্বিকভাবে এটাকে গ্রহণ করতে পারিনি, সর্বক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।

 

তিনি বলেন, আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ করেছিলাম মানুষের সেবা করার জন্য, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, মানুষের পাহারাদার হওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধুর কোনো চিন্তা-চেতনা, ভাবনা আদর্শ এর সাথে আমাদের কোনো দূরত্ব নেই। আমার দল বঙ্গবন্ধুর দল। আমার দল মওলানা ভাসানীর দল। আমি সেই আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলাম. যে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু বানিয়েছিলেন, যে আওয়ামী লীগ মওলানা ভাসানী বানিয়েছিলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এক দিনের না। ৫২-তে ভাষা আন্দোলন না হলে, ৬ দফা আন্দোলন হতো না। ৬ দফা আন্দোলন না হলে ১১ দফা আন্দোলন হতো না। ১১ দফা আন্দোলন না হলে শেখ মুজিবের মুক্তি হতো না। তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্তি পেয়েছিলাম বলেই বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা ফাঁসি দিতে পারে নাই৷ ৬৯-এর গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৭০-এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনে বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ মানুষ বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন করেছিলেন। তার নৌকাকে সমর্থন করেছিলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি প্রায় ২০ বছর পরে দেখলাম। তাকে আমার খুব ভাল লেগেছে। আমি সামনাসামনি বেগম খালেদা জিয়ার অনেক বক্তব্য শুনেছি। কিন্তু তারেক রহমানের বক্তব্য কালকেই প্রথম শুনলাম। আমার ভালো লেগেছে। তার বক্তব্যে শালীনতা আছে, তার বক্তব্যে গভীরতা আছে, জাতীয় ঐক্যের একটা আকাঙ্ক্ষা আছে। সেজন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এসেছি।

 

সখীপুর উপ‌জেলা কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপ‌তি আব্দুস সবুর খানের সভাপ‌তি‌ত্বে এসময় উপ‌জেলা কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক জাহাঙ্গীর, আব্বাছ আলী মাস্টার, সাংগঠ‌নিক সম্পাদক তু‌হিন সি‌দ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

‘মুজিবনগরে সরকার গঠন না হলে আমরা স্বাধীনতা আনতে পারতাম না’

আপডেট সময় : ০৭:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কৃষক-শ্রমিক-জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, মুজিবনগর দিবস কারো একার না, কোনো দলের একার না। মুজিবনগর দিবস সকল দল-মতের ও পথের। মুজিবনগর দিবস বর্তমান সরকারের, এমনকি মুজিবনগর দিবস বর্তমান যে বিরোধী দল আছে তাদেরও। মুজিবনগর দিবস তারা পালন করুক, আর না করুক।

শুক্রবার(১৭ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুরে কাদের সিদ্দিকীর নিজ বাসভবন ঐতিহাসিক ম‌ু‌জিবনগর দিবস উদযাপন উপল‌ক্ষ্যে আ‌য়ো‌জিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মুজিবনগরে সরকার গঠন না হলে আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আনতে পারতাম না। সেজন্য স্পষ্ট করে বলতে চাই, যে কারো এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। মুজিবনগর দিবস আমাদের না তাদের, আমাদের না ওদের। মুজিবনগর দিবস আওয়ামী লীগের বিএনপির না। এটা ঠিক না।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি সত্য। কিন্তু আমরা কখনও স্বাধীনতাকে উপলব্ধি করতে পারিনি। স্বাধীনতা কোনো দলের না, মতের না, স্বাধীনতা সামগ্রিকভাবে পুরো দেশের। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বাংলাদেশের। যে–যে দলই করুক, সব দলের মানুষের হচ্ছে বাংলাদেশ, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ। আমরা কখনও সার্বিকভাবে এটাকে গ্রহণ করতে পারিনি, সর্বক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।

 

তিনি বলেন, আমি আমার বন্ধুদের নিয়ে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ করেছিলাম মানুষের সেবা করার জন্য, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, মানুষের পাহারাদার হওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধুর কোনো চিন্তা-চেতনা, ভাবনা আদর্শ এর সাথে আমাদের কোনো দূরত্ব নেই। আমার দল বঙ্গবন্ধুর দল। আমার দল মওলানা ভাসানীর দল। আমি সেই আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলাম. যে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু বানিয়েছিলেন, যে আওয়ামী লীগ মওলানা ভাসানী বানিয়েছিলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ এক দিনের না। ৫২-তে ভাষা আন্দোলন না হলে, ৬ দফা আন্দোলন হতো না। ৬ দফা আন্দোলন না হলে ১১ দফা আন্দোলন হতো না। ১১ দফা আন্দোলন না হলে শেখ মুজিবের মুক্তি হতো না। তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাকে ফাঁসি দেওয়া হতো। ১১ দফা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা মুক্তি পেয়েছিলাম বলেই বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানিরা ফাঁসি দিতে পারে নাই৷ ৬৯-এর গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৭০-এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সেই নির্বাচনে বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের) প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ মানুষ বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন করেছিলেন। তার নৌকাকে সমর্থন করেছিলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি প্রায় ২০ বছর পরে দেখলাম। তাকে আমার খুব ভাল লেগেছে। আমি সামনাসামনি বেগম খালেদা জিয়ার অনেক বক্তব্য শুনেছি। কিন্তু তারেক রহমানের বক্তব্য কালকেই প্রথম শুনলাম। আমার ভালো লেগেছে। তার বক্তব্যে শালীনতা আছে, তার বক্তব্যে গভীরতা আছে, জাতীয় ঐক্যের একটা আকাঙ্ক্ষা আছে। সেজন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এসেছি।

 

সখীপুর উপ‌জেলা কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপ‌তি আব্দুস সবুর খানের সভাপ‌তি‌ত্বে এসময় উপ‌জেলা কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক জাহাঙ্গীর, আব্বাছ আলী মাস্টার, সাংগঠ‌নিক সম্পাদক তু‌হিন সি‌দ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।