জ্বালানি সংকট মেটাতে মার্কিন তেলের দিকে ঝুঁকছে এশিয়া
- আপডেট সময় : ০২:৩০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
- / 33
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর জ্বালানি নির্ভরতা কমাতে বিকল্প উৎস হিসেবে এখন মার্কিন তেল ও গ্যাসের দিকে ঝুঁকছে এশিয়ার দেশগুলো। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে মার্কিন জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান Argus Media-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর এশিয়ায় সরবরাহকৃত মার্কিন ‘লাইট সুইট ক্রুড’ তেলের দাম ৪৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মার্কিন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের ভাড়া প্রায় চার গুণ বেড়েছে। এমনকি ইউরোপমুখী অন্তত চারটি এলএনজিবাহী জাহাজ ঘুরিয়ে এশিয়ার দিকে পাঠানো হয়েছে।
আর্গাস মিডিয়ার এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ফাবিয়ান এনজি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর জাপানের শোধনাগারগুলো জুন মাসে সরবরাহের জন্য প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল মার্কিন অপরিশোধিত তেল কিনেছে। তবে বাড়তি দামের কারণে অনেক দেশ এখনই বড় চুক্তি করতে আগ্রহী নয়; তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে এশিয়ার দেশগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আসে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz দিয়ে, যেখানে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার ওই জলপথের কাছে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। এ বিষয়ে সতর্ক করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সামাজিক মাধ্যমে বলেন, প্রণালিতে মাইন স্থাপনের পরিণাম ভালো হবে না।
সংঘাতের কারণে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো এখন তাদের মজুত করা তেলের ওপর নির্ভর করছে, যা মাত্র কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে।
গবেষণা সংস্থা Energy Aspects-এর বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ঘাটতি পূরণের মতো উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নেই। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্ব গ্যাস বিষয়ক প্রধান লিভিয়া গ্যালারাতি বলেন, এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় এশিয়ার অনেক দেশ মজুত জ্বালানি ব্যবহার করছে। পাশাপাশি কেউ কেউ বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার বা শিল্প উৎপাদন কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সূত্র: CNN.




















