ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তারাকান্দায় ১ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ​ময়মনসিংহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বড় সাফল্য: একদিনে মাদক, চোরাচালান পণ্য ও চোরচক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ৫৪৯ বোতল মদসহ তিনজন আটক ময়মনসিংহে মোটরসাইকেল চোর চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার অযথা বাইকের হর্ন ও শব্দদূষণ রোধে ময়মনসিংহে মানববন্ধন শেরেবাংলা নগরে সাংবাদিকের ব্যাগ ছিনতাই, মোবাইল-ব্যাংক কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খোয়াছেন বাজেট ২০২৬-২৭ নিত্য পণ্যে কর ছাড়, অস্ত্র ও বিলাসী গাড়িতে বাড়তি কর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল ময়মনসিংহের যুবক রহিমের, লাশ ফেরাতে সরকারের কাছে আকুতি পরিবারের ঈশ্বরগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, গ্রামবাসীর প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে হালুয়াঘাটে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে শতাধিক হেক্টর ফসল তলিয়ে ক্ষতি চরম দুশ্চিন্তায় কৃষক, যোগাযোগ ব্যবস্থাও ঝুঁকিতে

না ফেরার দেশে মঞ্চসারথি আতাউর রহমান: নাট্যাঙ্গনে শোকের ছায়া

মো: আবুল মনসুর | ময়মনসিংহ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • / 26
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য নাট্যজন আতাউর রহমান আর নেই। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আতাউর রহমান বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের বিকাশ ও আধুনিকায়নে নিরলস কাজ করেছেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে নাট্যচর্চাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। নির্দেশক হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ১৯৭২ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকের মাধ্যমে। এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাট্য ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘ঈর্ষা’ ও ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ মঞ্চায়নের মাধ্যমে তিনি কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন। রবীন্দ্র-নাট্যচর্চায় তাঁর মুনশিয়ানা দেখা যায় ‘রক্তকরবী’ নাটকের সার্থক নির্দেশনায়। এছাড়া বিশ্বসাহিত্যের ধ্রুপদী নাটকগুলোকে তিনি দেশীয় দর্শকদের কাছে পরিচিত করান। তাঁর নির্দেশিত শেক্সপিয়ারের ‘হ্যামলেট’, ‘জুলিয়াস সিজার’ (গগননায়ক), ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’ এবং বের্টোল্ট ব্রেশটের ‘গ্যালিলিও’ বাংলাদেশের নাট্য ইতিহাসের মাইলফলক হয়ে থাকবে। ৩৫টিরও বেশি নাটকের সফল নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

আতাউর রহমান কেবল একজন সফল নির্দেশকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও শিক্ষক। নতুন প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং মঞ্চকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর সান্নিধ্যে এসে দেশের বহু শিল্পী আজ দেশ ও বিদেশে প্রতিষ্ঠিত।

মঞ্চসারথির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাংস্কৃতিক মহলে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন শোকবার্তা দিয়েছে।

এই মহান নাট্যব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক সংগঠন অনসাম্বল থিয়েটার। এক শোকবার্তায় সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “মঞ্চসারথি আতাউর রহমান ছিলেন আমাদের আলোকবর্তিকা। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য এক অভিভাবক হারানোর বেদনা। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ভক্ত রেখে গেছেন। তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হবে বলে জানা গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

না ফেরার দেশে মঞ্চসারথি আতাউর রহমান: নাট্যাঙ্গনে শোকের ছায়া

আপডেট সময় : ০৮:৪০:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য নাট্যজন আতাউর রহমান আর নেই। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর প্রয়াণে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে আতাউর রহমান বাংলাদেশের মঞ্চনাটকের বিকাশ ও আধুনিকায়নে নিরলস কাজ করেছেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে নাট্যচর্চাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। নির্দেশক হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ১৯৭২ সালে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ নাটকের মাধ্যমে। এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

সৈয়দ শামসুল হকের কাব্যনাট্য ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘ঈর্ষা’ ও ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ মঞ্চায়নের মাধ্যমে তিনি কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন। রবীন্দ্র-নাট্যচর্চায় তাঁর মুনশিয়ানা দেখা যায় ‘রক্তকরবী’ নাটকের সার্থক নির্দেশনায়। এছাড়া বিশ্বসাহিত্যের ধ্রুপদী নাটকগুলোকে তিনি দেশীয় দর্শকদের কাছে পরিচিত করান। তাঁর নির্দেশিত শেক্সপিয়ারের ‘হ্যামলেট’, ‘জুলিয়াস সিজার’ (গগননায়ক), ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’ এবং বের্টোল্ট ব্রেশটের ‘গ্যালিলিও’ বাংলাদেশের নাট্য ইতিহাসের মাইলফলক হয়ে থাকবে। ৩৫টিরও বেশি নাটকের সফল নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

আতাউর রহমান কেবল একজন সফল নির্দেশকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও শিক্ষক। নতুন প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং মঞ্চকে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর সান্নিধ্যে এসে দেশের বহু শিল্পী আজ দেশ ও বিদেশে প্রতিষ্ঠিত।

মঞ্চসারথির মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সাংস্কৃতিক মহলে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এছাড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন শোকবার্তা দিয়েছে।

এই মহান নাট্যব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক সংগঠন অনসাম্বল থিয়েটার। এক শোকবার্তায় সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “মঞ্চসারথি আতাউর রহমান ছিলেন আমাদের আলোকবর্তিকা। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য এক অভিভাবক হারানোর বেদনা। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ভক্ত রেখে গেছেন। তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার জন্য রাখা হবে বলে জানা গেছে।