ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত, একজোট হলেন প্রযোজকেরা

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
  • / 207
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গেল কয়েকবছর ধরে দেশের সিনেমা জগতে দেখা গেছে আমুল পরিবর্তন। প্রতি বছর শুধু ঈদকে কেন্দ্র করেই যেমন ডজন ডজন সিনেমা নির্মাণ হয়েছে, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দর্শকের সাড়া। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অধিকাংশ সিনেমা ছিল বেশ ব্যবসাসফল। কিন্তু সিনেমার বাজারে এমন সুবাতাস বইলেও এক ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত দেশের চলচ্চিত্র প্রযোজকেরা।

বিষয়টি খোলাসা করে বললে, সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে, দেশের প্রথম সারির প্রেক্ষাগৃহগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মেটাতে গিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ কেটে নিচ্ছে, ফলে এ থেকে ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সিনেমার প্রযোজকেরা; তাই তো প্রেক্ষাগৃহগুলো থেকে ন্যায্য হিসাব চান।

বুধবার সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেন প্রযোজকেরা। দেখা যায়, এখনকার সময়ের ছবি বানানো প্রযোজক ও পরিচালকদের প্রায় সকলে একত্রিত রয়েছেন। একফ্রেমে দেখা মেলে তুফান, দাগি, সুড়ঙ্গ ছবির প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, বরবাদের প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি, আজিম হারুন, জংলি ছবির প্রযোজক জাহিদ হাসান অভি, ৮৪০-এর প্রযোজক নুসরাত ইমরোজ তিশাসহ নির্মাতা রায়হান রাফী, রেদওয়ান রনি, শিহাব শাহীন, শরাফ আহমেদ জীবন, সঞ্জয় সমদ্দারকে।

তারা সকলেই প্রেক্ষাগৃহের মানি শেয়ারিংয়ের ন্যায্য হিস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। প্রযোজকদের দাবি, সিনেপ্লেক্স বা মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা প্রদর্শনের পর অন্যান্য দেশের তুলনায় অতিরিক্ত চার্জ কাটা হয়, যা একজন প্রযোজকদের জন্য রীতিমত গলা কাটা হয়ে দাঁড়ায়।

এ নিয়ে প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল গণমাধ্যমে বলেন, ‘বর্তমানে সিনেপ্লেক্স যে রেভিনিউ রেশিও প্রযোজকদের প্রদান করছে, তা বাস্তবতা ও শিল্পের স্বার্থে সঙ্গত নয়। এই ধরনের রেশিও-এর আওতায় বড় কিংবা ছোট—কোনো বাজেটের চলচ্চিত্রই নির্মাণ করা বা লগ্নিকৃত অর্থ উঠানো সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে, প্রযোজক ও পরিবেশক একে অপরের পরিপূরক।’

বরবাদ প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি বলেন, ‘প্রযোজকদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা সবাই মিলিত হয়েছি। সিনেপ্লেক্সের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কীভাবে কমানো যায় তা নিয়ে আমাদের সবার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। দেশের সিনেমার স্বার্থে আমরা পাশাপাশি মিলে কাজ করবো।’

নির্মাতা সঞ্জয় সমদ্দার বলেন, ‘সিনেপ্লেক্স থেকে প্রযোজকরা যে টাকা পান সেটা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় খুবই কম। আশা করছি, উভয় পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান হবে। এই সমস্যার সমাধান হলে প্রযোজকরা আরও সিনেমা বানাবেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত, একজোট হলেন প্রযোজকেরা

আপডেট সময় : ০৪:১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ মে ২০২৫

গেল কয়েকবছর ধরে দেশের সিনেমা জগতে দেখা গেছে আমুল পরিবর্তন। প্রতি বছর শুধু ঈদকে কেন্দ্র করেই যেমন ডজন ডজন সিনেমা নির্মাণ হয়েছে, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দর্শকের সাড়া। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অধিকাংশ সিনেমা ছিল বেশ ব্যবসাসফল। কিন্তু সিনেমার বাজারে এমন সুবাতাস বইলেও এক ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত দেশের চলচ্চিত্র প্রযোজকেরা।

বিষয়টি খোলাসা করে বললে, সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে, দেশের প্রথম সারির প্রেক্ষাগৃহগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মেটাতে গিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ কেটে নিচ্ছে, ফলে এ থেকে ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সিনেমার প্রযোজকেরা; তাই তো প্রেক্ষাগৃহগুলো থেকে ন্যায্য হিসাব চান।

বুধবার সামাজিক মাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করেন প্রযোজকেরা। দেখা যায়, এখনকার সময়ের ছবি বানানো প্রযোজক ও পরিচালকদের প্রায় সকলে একত্রিত রয়েছেন। একফ্রেমে দেখা মেলে তুফান, দাগি, সুড়ঙ্গ ছবির প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, বরবাদের প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি, আজিম হারুন, জংলি ছবির প্রযোজক জাহিদ হাসান অভি, ৮৪০-এর প্রযোজক নুসরাত ইমরোজ তিশাসহ নির্মাতা রায়হান রাফী, রেদওয়ান রনি, শিহাব শাহীন, শরাফ আহমেদ জীবন, সঞ্জয় সমদ্দারকে।

তারা সকলেই প্রেক্ষাগৃহের মানি শেয়ারিংয়ের ন্যায্য হিস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। প্রযোজকদের দাবি, সিনেপ্লেক্স বা মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা প্রদর্শনের পর অন্যান্য দেশের তুলনায় অতিরিক্ত চার্জ কাটা হয়, যা একজন প্রযোজকদের জন্য রীতিমত গলা কাটা হয়ে দাঁড়ায়।

এ নিয়ে প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল গণমাধ্যমে বলেন, ‘বর্তমানে সিনেপ্লেক্স যে রেভিনিউ রেশিও প্রযোজকদের প্রদান করছে, তা বাস্তবতা ও শিল্পের স্বার্থে সঙ্গত নয়। এই ধরনের রেশিও-এর আওতায় বড় কিংবা ছোট—কোনো বাজেটের চলচ্চিত্রই নির্মাণ করা বা লগ্নিকৃত অর্থ উঠানো সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে, প্রযোজক ও পরিবেশক একে অপরের পরিপূরক।’

বরবাদ প্রযোজক শাহরিন আক্তার সুমি বলেন, ‘প্রযোজকদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা সবাই মিলিত হয়েছি। সিনেপ্লেক্সের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কীভাবে কমানো যায় তা নিয়ে আমাদের সবার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। দেশের সিনেমার স্বার্থে আমরা পাশাপাশি মিলে কাজ করবো।’

নির্মাতা সঞ্জয় সমদ্দার বলেন, ‘সিনেপ্লেক্স থেকে প্রযোজকরা যে টাকা পান সেটা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় খুবই কম। আশা করছি, উভয় পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে সমস্যার সমাধান হবে। এই সমস্যার সমাধান হলে প্রযোজকরা আরও সিনেমা বানাবেন।’