সত্য, না কি সাজানো অপপ্রচার?
ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসানকে ঘিরে বিভ্রান্তির জালে প্রকৃত সত্য খুঁজছে জনমত
- আপডেট সময় : ০১:৪৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
- / 172
ময়মনসিংহ সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসানকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু স্থানীয় পত্রিকায় ঘুষ, অনিয়ম, প্রভাব খাটানোসহ নানা অভিযোগ প্রকাশিত হচ্ছে। একের পর এক ছড়িয়ে পড়া ভিডিও, পোস্ট এবং অভিযোগ নির্ভর প্রতিবেদনে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা।
তবে এসব অভিযোগের পেছনে প্রকৃত সত্য কতটা? নাকি এটি একটি সংঘবদ্ধ অপপ্রচারের অংশ? অনুসন্ধান বলছে—বিষয়টি এত সহজ নয়।
🔍 ঘুষের গল্প, না কি পরিকল্পিত চরিত্রহনন?
একাধিক ফেসবুক পেইজ, ইউটিউব চ্যানেল ও কথিত বিশেষ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে—ময়মনসিংহ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়, দালাল সিন্ডিকেট সক্রিয়, দলিল লেখকদের হুমকি দিয়ে কাজ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং সাব-রেজিস্ট্রার নিজের এলাকায় থেকে প্রভাব খাটিয়ে সম্পদ গড়েছেন।
তবে এতো বড় অভিযোগের বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ, দুদকের নোটিশ, অডিট রিপোর্ট বা সরকারি তদন্ত দল পাঠানোর তথ্য পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ অভিযোগ ভাসা ভাসা, অজ্ঞাত সূত্রভিত্তিক এবং সরাসরি তথ্য প্রমাণশূন্য।
🛡 সাব-রেজিস্ট্রারের অবস্থান: “অসাধু চক্রকে ঠেকাতেই এই ষড়যন্ত্র”
নিজেকে এই অভিযোগের শিকার দাবি করে জাহিদ হাসান বলেন:
> “দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমি রেজিস্ট্রি অফিসে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করেছি। বহু ভুয়া দলিল ও দালাল চক্রকে প্রতিহত করেছি। এরাই এখন আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরে চর ভবানীপুর মৌজার কিছু দাগের দলিল বাতিলের ঘটনাকে বিকৃত করে প্রচার চালানো হচ্ছে।
> “ওই দাগে জমি না থাকায় দলিল বাতিল হয়। এখন সেটি নিয়েই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”
📁 তথ্য যাচাই: বাস্তবতা যা বলছে
✅ ‘অতিরিক্ত খাজনা আদায়’ অভিযোগ খণ্ডনযোগ্য:
দলিলে ভূমির শ্রেণি দেখে বেশি ফি আদায় হচ্ছে—এই অভিযোগের জবাবে রেজিস্ট্রার রুলস বলছে, ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ হয় কর বিভাগ অনুযায়ী, রেজিস্ট্রারের এখতিয়ার সেই শ্রেণি নির্ধারণে নেই।
✅ ঘুষের লেনদেনের কোনো প্রমাণ নেই:
অফিস সহায়ক ও আত্মীয়ের মাধ্যমে টাকা আদায়ের অভিযোগ থাকলেও, এখন পর্যন্ত কোনো সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি বা লিখিত অভিযোগ নেই।
✅ অভিযোগকারীদের পরিচয় সন্দেহজনক:
যিনি ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ছড়িয়েছেন, সেই মফিজুল ইসলাম অতীতে দলিল লেখকদের সংঘর্ষে জড়িয়েছেন ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক তিরস্কারের মুখে পড়েছিলেন। ফলে তার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
🗣 সচেতন নাগরিকদের মতামত: সত্য উদঘাটন হোক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে
ময়মনসিংহ মহানগরের বাসিন্দা রাশেদুল রবিন বলেন:
> “সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কিছু বিষয়ে দুর্বলতা আছে শোনা যায় তবে যথেষ্ঠ প্রমাণ নেই , কিন্তু কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে মিথ্যা প্রচারে হেয় করা রাষ্ট্রীয় সেবার অবমাননা। সত্য উদঘাটনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের।”
🧾 জেলা রেজিস্ট্রারের বক্তব্য: “প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ মানা যায় না”
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা বলেন:
> “সাব-রেজিস্ট্রার জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ যত গুরুতর, তার প্রমাণ ততটাই দুর্বল, ছিদ্রপূর্ণ এবং পক্ষপাতদুষ্ট উৎসনির্ভর। আমি তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে বলছি, এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। কেউ অভিযোগ করতে চাইলে তথ্যপ্রমাণসহ লিখিতভাবে আসুন—আমরা অবশ্যই অফিসিয়াল তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
তিনি আরও বলেন:
> “মিথ্যা অপপ্রচারের মাধ্যমে একজন সরকারি কর্মকর্তার ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা হলে, অপপ্রচারকারীদেরই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। কারণ এটি শুধু ব্যক্তির ক্ষতি নয়, প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থার ওপরও আঘাত।”
✅ উপসংহার: সত্য উদঘাটনে চাই দায়িত্বশীল উদ্যোগ
মো. জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগ যদি সত্য হয়—তা হলে কঠোর তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন। কিন্তু যদি এগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়—তাহলে প্রশাসনের দায়িত্ব হবে এসব অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
✅ এর জন্য চাই তথ্যপ্রমাণ-ভিত্তিক লিখিত অভিযোগ।
✅ প্রয়োজন দুদক, রেজিস্ট্রেশন অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত তদন্ত।
✅ এবং সবচেয়ে জরুরি—জনগণকে বিভ্রান্তি থেকে সচেতন রাখা।
📢 সতর্কতা ও সত্যের পথে থাকা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। অভিযোগ উঠলেই তা সত্য নয়—আর সত্য চাপা থাকলেও একদিন না একদিন বের হবেই।




















