মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার বিএনপি নেতা আবু হানিফ মিয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিল
- আপডেট সময় : ০৪:০৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
- / 143
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর ভাটারা এলাকার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু হানিফ মিয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়ে হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনও বিক্ষোভ সমাবেশে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন তার অলিখিত বক্তব্যে বলেন, ৩৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মঈনুল হক মনা মেম্বার, ৭নং ইউনিট বিএনপির সভাপতি আলামিন, মনা মেম্বারের ছেলে লাহাল উদ্দিন, ৩৯ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সদস্য নূরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগের নেতা মোঃ ইউসুফ ও রায়হান
সহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও জুয়ার ব্যবসা চালিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী দেশ নায়ক তারেক রহমানের ঘোষণা ও নির্দেশনা অনুযায়ী ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু হানিফ মিয়া, আলমাস খন্দকার ও সে এলাকায় মাদক ও জুয়ার ব্যবসার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং ওয়ার্ডের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক জনমত গড়ে তুলে।
মঈনুল হক মনা মেম্বারের নেতৃত্বে গড়ে তোলা জুয়া ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে তারা স্থানীয়ভাবে মানববন্ধনও করে এবং জুয়া ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার ও প্রশাসনের কাছে আহবান জানান। যা দৈনিক দেশ রূপান্তরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল। এই ব্যাপারে মাদক ও জুয়ার ব্যবসায়ীরা তাদের মাদকের ও জুয়ার আসর বন্ধ না করায়; গত ২৮ জুন ২০২৬ ইং আনুমানিক রাত ৮ টায় আবু হানিফ মিয়া, আলমাস খন্দকার ও মোতাহার হোসেন এর নেতৃত্বে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মঈনুল হক মনা মেম্বারের বাড়ির সামনে জুয়ার বোর্ড ও মাদকের আসর ভেঙ্গে দেয়।
কিন্তু মাদক ও জুয়ার ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। তাদের এই প্রাণঘাতী হামলায় আবু হানিফ মিয়া ও আলমাস খন্দকারকে ব্যাপক মারধর ও রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে বীরদর্পে চলে যায়। এ ঘটনার সঙ্গে উপরিউক্ত সকল অভিযুক্ত এবং অজ্ঞাত আরও বেশ কিছু মাদকসেবী ও জুয়াড়িরা জড়িত ছিলেন।
একই সমাবেশে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের আহ্বায়ক আলমাস খন্দকার বলেন, জুয়া ও মাদকের কারণে এলাকার যুবসমাজ ও কিশোররা বিপথে পরিচালিত হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনেই আমরা মাদক ও জুয়ার আসর বন্ধ করতে গিয়েছিলাম। অথচ তারা ভয় না পেয়ে আমাদেরকে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। তার দাবী, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
যুগ্ম আহ্বায়ক ওমরা খান সাকিব বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি, যা তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক নির্মূলে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়াও আওয়ামীলীগের মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়ে নিজেরাই জমজমাট মাদক ও জুয়ার ব্যবসা করে যাচ্ছে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে।
গুলশান থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুবায়ের হোসেন বাবু বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। তিনি মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেন।
সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তারা বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন তারা।
ভুক্তভোগী আবু হানিফ মিয়া দাবি করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বক্তারা জানান, ভাটারা থানার মামলা নং-৫৪, তারিখ ৩০ জুন ২০২৬ (বার্ষিক নং-২৪২)-এ দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ১১৪ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তারা সংঘবদ্ধভাবে হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তাদের ভয়ে অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
উল্লেখ্য, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, সম্প্রতি ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে চলমান একটি জুয়ার আসর বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ায় আবু হানিফ মিয়ার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আলমাস খন্দকার ও আবু হানিফ মিয়াকে ব্যাপক মারধর ও রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। এই প্রাণঘাতী হামলায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।



















