ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোজার আগে বাড়তি দামে চাল-ডাল-চিনি, ঊর্ধ্বমুখী মুরগির বাজার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:০১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 132
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আর মাত্র এক মাস পর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতিবছর রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায় না। চলতি বছরও রোজার আগে নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলছে।

আমন মৌসুমের নতুন চাল বাজারে আসতে শুরু করলেও পুরোনো বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরেই ডাল ও চিনির বাজারও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন মাঝারি চাল—বিআর-২৮, বিআর-২৯ ও পাইজাম—কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে একই মানের পুরোনো চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। মানভেদে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৭২ থেকে ৮৬ টাকা; যা ৮-১০ দিন আগেও ৪-৫ টাকা কম দামে পাওয়া যেত।

বাজারে মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩-৮৪ টাকায়। রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা, নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের মিনিকেট কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৮৫-৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নাজিরশাইল চালের দামও বেড়েছে। দেশি নাজিরশাইল চালের দাম মানভেদে কেজিতে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা, যা ৮-১০ দিন আগে ছিল ৭০ থেকে ৮২ টাকা। আমদানি করা নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিক্রেতারা জানান, নতুন মৌসুমে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল চাল বাজারে আসতে শুরু করলেও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই পুরোনো চালের দাম বেড়েছে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আসন্ন রমজান মাসেও চালের দাম বাড়তি থাকতে পারে।

এদিকে রোজার প্রায় এক মাস আগেই চিনি ও ডালজাতীয় পণ্যের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। গত ১৫ থেকে ২০ দিনে চিনির কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা এবং অ্যাংকর ডালের কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে।

কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার পর খোলা চিনির দাম একসময় কেজিতে ৯০ টাকায় নেমে এলেও সম্প্রতি পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে আবার ১০০ টাকার ঘরে উঠেছে। বর্তমানে খোলা চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায় এবং প্যাকেটজাত চিনির দাম ১০০ থেকে ১০৫ টাকা।

অ্যাংকর ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। ছোট দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। তবে মোটা দানার মসুর ডালের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থেকে কেজিতে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে কয়েক মাস সহনীয় থাকার পর মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সোনালি জাতের মুরগির কেজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রোজার আগে বাড়তি দামে চাল-ডাল-চিনি, ঊর্ধ্বমুখী মুরগির বাজার

আপডেট সময় : ০৩:০১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

আর মাত্র এক মাস পর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতিবছর রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে এর প্রতিফলন খুব একটা দেখা যায় না। চলতি বছরও রোজার আগে নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলছে।

আমন মৌসুমের নতুন চাল বাজারে আসতে শুরু করলেও পুরোনো বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরেই ডাল ও চিনির বাজারও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নতুন মাঝারি চাল—বিআর-২৮, বিআর-২৯ ও পাইজাম—কেজিপ্রতি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে একই মানের পুরোনো চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়। মানভেদে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৭২ থেকে ৮৬ টাকা; যা ৮-১০ দিন আগেও ৪-৫ টাকা কম দামে পাওয়া যেত।

বাজারে মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩-৮৪ টাকায়। রশিদ মিনিকেটের দাম ৭২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকা, নন-ব্র্যান্ডের মিনিকেট ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের মিনিকেট কেজিতে ১-২ টাকা বেড়ে ৮৫-৮৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নাজিরশাইল চালের দামও বেড়েছে। দেশি নাজিরশাইল চালের দাম মানভেদে কেজিতে ৭২ থেকে ৮৫ টাকা, যা ৮-১০ দিন আগে ছিল ৭০ থেকে ৮২ টাকা। আমদানি করা নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিক্রেতারা জানান, নতুন মৌসুমে আউশ, আমন ও নাজিরশাইল চাল বাজারে আসতে শুরু করলেও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই পুরোনো চালের দাম বেড়েছে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আসন্ন রমজান মাসেও চালের দাম বাড়তি থাকতে পারে।

এদিকে রোজার প্রায় এক মাস আগেই চিনি ও ডালজাতীয় পণ্যের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। গত ১৫ থেকে ২০ দিনে চিনির কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা এবং অ্যাংকর ডালের কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে।

কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার পর খোলা চিনির দাম একসময় কেজিতে ৯০ টাকায় নেমে এলেও সম্প্রতি পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়ে আবার ১০০ টাকার ঘরে উঠেছে। বর্তমানে খোলা চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায় এবং প্যাকেটজাত চিনির দাম ১০০ থেকে ১০৫ টাকা।

অ্যাংকর ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। ছোট দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। তবে মোটা দানার মসুর ডালের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থেকে কেজিতে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে কয়েক মাস সহনীয় থাকার পর মুরগির বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সোনালি জাতের মুরগির কেজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।