রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় মাদকের ভয়ানক আগ্রাসন: প্রচেষ্টায় প্রশাসন!
- আপডেট সময় : ১২:১৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
- / 775
মোঃ ফয়সাল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি রাজশাহী :-রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলা জুড়ে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন লোভ পেয়েছে। যে কোন দেশের উন্নতির প্রধান নিয়ামক হলো কর্মক্ষম বিপুল যুবশক্তি। ভবিষ্যতে উন্নত এবং সফল রাষ্ট্রের কাতারে উপনীত হতে হলে আমাদের এই তরুণ সমাজকে অবশ্যই মাদক থেকে মুক্ত রাখতে হবে। মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনের কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তরুণ ও যুব সমাজকে বাঁচার জন্য প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এখনই উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। মাদকের ভয়ানক ছোবল থেকে তরুণ ও যুব সমাজকে বাঁচাতে হবে। মোহনপুর উপজেলায় মাদকের বিস্তৃতি আজ ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। তরুণ ও যুব সমাজ ব্যাপক হারে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদকের মরণ ছোবলে আক্রান্ত তরুণ ও যুব সমাজ ধ্বংসের গহ্বরে নিমজ্জিত। বর্তমান সমাজে মাদক জন্ম দিচ্ছে একের পর এক অপরাধ। মাদকের ছোঁয়ায় সম্ভাবনাময় তারুণ্য শক্তি অধঃপতনের চরম শিখরে উপনীত হচ্ছে। এখন শহর-নগর নয়,উপজেলার গ্রামের মফস্বল এলাকায়ও হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় মাদক। মোহনপুর উপজেলার মাদক এখন সহজলভ্য।
তারুণ্যের মধ্যে এক ভয়াবহ মহামারি রুপ নিয়েছে। মাদকের মধ্যে রয়েছে ফেনসিডিল,
ইয়াবা,টাপেন্টাডল,এ ছাড়া গাঁজা,চোলাইমদ,বাংলা মদ,হেরোইনসহ রকমারি মাদকের সঙ্গে তরুণদের সংশ্লিষ্টতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বিধ্বংসকারী মাদকের বিস্তার সমাজে যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে সচেতন অভিভাবক মহল উদ্বিগ্ন। দেশের আগামী ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাময় তারুণ্যশক্তি বিপর্যয়ের মুখে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত এক জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৮ বছরের ওপরে শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ মানুষ মাদকাসক্ত। মাদকাসক্তদের মধ্যে ৮৫ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। অথচ এই সকল তরুণ ও যুবকেরাই আজ নানা ধরনের মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। না বুঝেই অনেক তরুণ এ পথে পা দিয়ে বিপথগামী হয়ে যাচ্ছে। একজন মাদকাসক্ত সন্তানের কারণে একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাদকাসক্ত সন্তানকে নিয়ে পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জরিপে পাওয়া গেছে গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও মাদকাসক্ত। ইদানীং শিশু-কিশোরদের মধ্যে নানা ধরনের মাদক সেবনের প্রবণতা বাড়ছে। প্রতিনিয়িত বসছে নেশার আড্ডা। অনেকে নেশার টাকা জোগাড় করতে নেমে পড়ছে অপরাধ জগতে।
মাদকের চাহিদা মেটাতে তরুণ-তরুণীরা ক্রমেই অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছেন। অনেক শিক্ষার্থী নেশার মোহে পড়ে সম্ভাবনাময় জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছেন। আজ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে এসেছে যে, মরণনেশা মাদকের ছোবলে দেশ ও জাতির আশা-ভরসাস্থল তারুণ্যশক্তি অন্ধকারের অতল গহব্বরে তলিয়ে যাচ্ছে। চলার পথে ঘোর আঁধার নেমে আসছে। “র্যাবের সূত্রমতে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ মাদকসেবী রয়েছে, সে মাদকসেবীদের শতকরা ৯১ ভাগই কিশোর ও তরুণ। এরমধ্যে ৪৫ দশমিক ৭৪ ভাগ বেকার, ৬৫ দশমিক ১ ভাগ আন্ডার গ্র্যাজুয়েট, ১৫ ভাগ উচ্চ শিক্ষার্থী, ২২ দশমিক ৬২ ভাগ ব্যবসায়ী, ১০ দশমিক ৬৭ ভাগ চাকরিজীবী, ৬ দশমিক ৬৭ ভাগ ছাত্র এবং ৬ দশমিক ৮০ ভাগ শ্রমিক। এর পেছনে ব্যয় হওয়া টাকার অংশও কম নয়। ৬০ লাখ মাদকসেবীর পেছনে খরচ করে ৯১,১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তন্মধ্যে কেবলমাত্র ফেনসিডিলই বছরে আমদানি হয় ১৭০০ কোটি টাকা; যা সীমান্ত পথে, যশোর, রাজশাহী, বেনাপোল, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, আখাউড়া ও সিলেট হয়ে দেশে ঢুকছে।
“৫ ই আগস্টের পরে” মাদকাসক্তির পেছনে বহু কারণের মধ্যে রয়েছে দলীয় প্রভাব,সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতা। দারিদ্র্যতার কষাঘাত। বেকারত্বের নৈরাশ্যতা। মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা। মাদকের এই ভয়ানক ছোবল থেকে “মোহনপুর উপজেলার তরুণ ও যুব সমাজকে বাঁচাতে সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ তৈরী ও মটিভেশনাল প্রোগ্রামের মাধ্যমে তরুণ ও যুব সমাজের মনে মাদকের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করতে হবে। ইসলামী জীবন যাপনের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা আরো বাড়াতে হবে। উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টায়
মাদক আগ্রাসন প্রতিরোধে মাদক পাচার ও ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মাদক পাচার রোধ ও মাদকের সহজপ্রাপ্যতা বন্ধ করতে হবে। আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করতে হবে। দেশের অভ্যন্তরে মাদকের উৎপাদন এবং পার্শ্ববর্তী দেশের মাদক চোরাচালানের সব পথ বন্ধ করতে হবে। অভিভাবক নিজ সন্তানদের প্রতি কঠোর যত্নশীল হতে হবে। শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। কেবল রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং সামাজিক ও পারিবারিকভাবেও সচেতন হতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার থেকে রাষ্ট্র পর্যায় সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষ করে মাদকদ্রব্য আমদানি, উৎপাদন, মজুদ, বিপনন ও সেবন সকল পর্যায়েই সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মাদক নিরাময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাদক নিয়ন্ত্রণ কারো একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন এবং কমপ্রেহেনসিভ একটি অ্যাকশন প্ল্যান দরকার।
মাদকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা ও
মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনি যুদ্ধ শুরু করতে হবে। “আইনজীবীসহ অনেকের অভিযোগ” পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জানেন, মাদক ব্যবসা কাদের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু তাদের ধরা হয় না। ধরা পড়ে চুনোপুঁটি, যারা পরিবহন বা সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে। এছাড়া আদালতে বিচারের মাধ্যমে অপরাধী প্রমাণিত না হলে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না।
“এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও)আয়শা সিদ্দিকা ” সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষই নানাভাবে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আমাদের দেশে মাদক চোরাচালানের একটি ভয়াবহ বিষয় হলো নারী, শিশু এবং কিশোরদেরকে এ গর্হিত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে তাদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা যেমন বাড়ছে, তেমনি তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন এছাড়াও, মাদক বিরোধী কার্যক্রমে সমাজের সকল স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
মাদকদ্রব্যের অফিসারগন সহ আমাদের এসিল্যান্ড মহোদয় সাথে থেকে পরপর অভিযান দিচ্ছেন,আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। এবিষয়ে মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)আতাউর রহমান বলেন সচেতন মানুষ আশা করছে, এখন যেহেতু নতুন আইন হয়েছে, মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে এই আইন কার্যকর ভূমিকা রাখতাই দেশে এখন মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনি যুদ্ধ প্রয়োজন। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে। অনেক সময় আমি সহ আমার অফিসারদের নিয়ে মাদকের অভিযান পরিচালনা করি আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। মিডিয়া সম্পর্কে বলেন মাদক বিরোধী প্রচারণা ও সচেতনতা তৈরিতে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


























