ঢাকা ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী কৃষক ছাড়া খাদ্যনিরাপত্তা অসম্ভব: ময়মনসিংহে আলোচনা ও পণ্য প্রদর্শনী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:০২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • / 70
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারী কৃষকদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও তাদের শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি, ভূমির মালিকানা এবং কৃষি সহায়তা প্রাপ্তিতে এখনো নানা বৈষম্য বিদ্যমান—এমন বাস্তবতা উঠে এসেছে ময়মনসিংহে আয়োজিত এক আলোচনা সভায়।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বুধবার ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র চর এলাকার জয়নুল উদ্যানে “নারী কৃষকের ভূমিকা পল্লী জীবন এবং নারী কৃষক সমস্যার উত্তরণের পথ” শীর্ষক আলোচনা সভা, নারী কৃষকদের পণ্য প্রদর্শনী ও সম্মাননা উৎসবের আয়োজন করে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন। এতে সহযোগিতা করে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি বাংলাদেশ। কর্মসূচিতে নারী কৃষক, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিনিধি, স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ প্রায় শতাধিক মানুষ অংশ নেন।


দিনব্যাপী আয়োজনে নারী কৃষকেরা শাকসবজি, ফল, ডাল, মসলা, ধান, ঘরে তৈরি খাদ্যপণ্য ও কারুশিল্পসহ নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পান। এতে স্থানীয় ক্রেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের পণ্যের পরিচিতি এবং বাজারসংযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। পণ্য বিক্রির পাশাপাশি নারী কৃষকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, শ্রম ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার কথাও উপস্থিত সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এবং আন্তর্জাতিক থিম “Give to Gain”—দুটিই নারী কৃষকের বাস্তবতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নারী কৃষকের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও কাঠামোগত বৈষম্যের কারণে তাদের শ্রমের স্বীকৃতি, ভূমির মালিকানা, কৃষিঋণ, প্রণোদনা ও বাজারসংযোগ এখনো সীমিত।
বক্তারা জানান, দেশে মাত্র চার থেকে পাঁচ শতাংশ নারী কৃষকের হাতে কার্যকর ভূমির মালিকানা রয়েছে। ফলে তারা কৃষিঋণ, ভর্তুকি ও সরকারি কৃষি সহায়তা গ্রহণে প্রায়ই বাধার মুখে পড়েন। ঘরে ও ক্ষেতে দ্বৈত শ্রম দেওয়ার পরও তাদের কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকায় মজুরি সমতা, সামাজিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীরা পিছিয়ে থাকেন।

মেলায় অংশ নেওয়া নারী কৃষকেরা বলেন, “আমাদের কাজের তেমন আর্থিক মূল্য বা পারিবারিক স্বীকৃতি নেই। তাই প্রত্যাশা ছাড়াই কাজ করে যাই। তবে আজকের এই আয়োজন আমাদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে—আমাদের কথা নিয়েও ভাবা হচ্ছে, হয়তো ভবিষ্যতে পরিবর্তন আসবে।”

সমাবেশে বক্তারা দেশের খাদ্যব্যবস্থাকে ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে “খাদ্য অধিকার আইন” প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন হলে কৃষি উৎপাদন, বাজার ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার ও শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে স্থানীয় কৃষিখাতে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখা তিনজন নারী কৃষককে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নারী কৃষকদের দৃশ্যমানতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি পল্লী অর্থনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নারী কৃষক ছাড়া খাদ্যনিরাপত্তা অসম্ভব: ময়মনসিংহে আলোচনা ও পণ্য প্রদর্শনী

আপডেট সময় : ০৫:০২:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারী কৃষকদের অবদান অনস্বীকার্য হলেও তাদের শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি, ভূমির মালিকানা এবং কৃষি সহায়তা প্রাপ্তিতে এখনো নানা বৈষম্য বিদ্যমান—এমন বাস্তবতা উঠে এসেছে ময়মনসিংহে আয়োজিত এক আলোচনা সভায়।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বুধবার ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র চর এলাকার জয়নুল উদ্যানে “নারী কৃষকের ভূমিকা পল্লী জীবন এবং নারী কৃষক সমস্যার উত্তরণের পথ” শীর্ষক আলোচনা সভা, নারী কৃষকদের পণ্য প্রদর্শনী ও সম্মাননা উৎসবের আয়োজন করে অন্যচিত্র ফাউন্ডেশন। এতে সহযোগিতা করে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক-খানি বাংলাদেশ। কর্মসূচিতে নারী কৃষক, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, সরকারি প্রতিনিধি, স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ প্রায় শতাধিক মানুষ অংশ নেন।


দিনব্যাপী আয়োজনে নারী কৃষকেরা শাকসবজি, ফল, ডাল, মসলা, ধান, ঘরে তৈরি খাদ্যপণ্য ও কারুশিল্পসহ নিজেদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ পান। এতে স্থানীয় ক্রেতা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের পণ্যের পরিচিতি এবং বাজারসংযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। পণ্য বিক্রির পাশাপাশি নারী কৃষকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, শ্রম ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার কথাও উপস্থিত সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এবং আন্তর্জাতিক থিম “Give to Gain”—দুটিই নারী কৃষকের বাস্তবতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নারী কৃষকের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও কাঠামোগত বৈষম্যের কারণে তাদের শ্রমের স্বীকৃতি, ভূমির মালিকানা, কৃষিঋণ, প্রণোদনা ও বাজারসংযোগ এখনো সীমিত।
বক্তারা জানান, দেশে মাত্র চার থেকে পাঁচ শতাংশ নারী কৃষকের হাতে কার্যকর ভূমির মালিকানা রয়েছে। ফলে তারা কৃষিঋণ, ভর্তুকি ও সরকারি কৃষি সহায়তা গ্রহণে প্রায়ই বাধার মুখে পড়েন। ঘরে ও ক্ষেতে দ্বৈত শ্রম দেওয়ার পরও তাদের কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না থাকায় মজুরি সমতা, সামাজিক মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীরা পিছিয়ে থাকেন।

মেলায় অংশ নেওয়া নারী কৃষকেরা বলেন, “আমাদের কাজের তেমন আর্থিক মূল্য বা পারিবারিক স্বীকৃতি নেই। তাই প্রত্যাশা ছাড়াই কাজ করে যাই। তবে আজকের এই আয়োজন আমাদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে—আমাদের কথা নিয়েও ভাবা হচ্ছে, হয়তো ভবিষ্যতে পরিবর্তন আসবে।”

সমাবেশে বক্তারা দেশের খাদ্যব্যবস্থাকে ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে “খাদ্য অধিকার আইন” প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, খাদ্য অধিকার আইন প্রণয়ন হলে কৃষি উৎপাদন, বাজার ও নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার ও শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে স্থানীয় কৃষিখাতে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রাখা তিনজন নারী কৃষককে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নারী কৃষকদের দৃশ্যমানতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি পল্লী অর্থনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করে।