ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদযাত্রায় চলন্ত ট্রেনে সন্তানের জন্ম, মা-শিশু সুস্থ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • / 73
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদযাত্রার ভিড়ের মধ্যেই ময়মনসিংহে চলন্ত ট্রেনে এক প্রসূতি সন্তান প্রসব করেছেন। শারমীন আক্তার (২৪) নামে ওই নারী মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন জানান, রাত পৌনে ২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে প্রস্তুতি নেয়।

তিনি জানান, ট্রেনটি ময়মনসিংহ স্টেশনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে শারমীন আক্তার সন্তান প্রসব করেন। পরে ট্রেনে থাকা দুই নারী যাত্রীর সহায়তায় তাকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে তুলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, শারমীন আক্তার ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন। তার সঙ্গে চার বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান ছিল। গফরগাঁও স্টেশন অতিক্রম করার পর তার তীব্র প্রসব ব্যথা শুরু হয়।

এ সময় ট্রেনে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান হোসাইন রবি দ্রুত সহায়তায় এগিয়ে আসেন। তিনি দুই নারী যাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রসব কার্য সম্পন্ন করতে সাহায্য করেন এবং ময়মনসিংহ স্টেশনে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।

সোলায়মান হোসাইন রবি বলেন, “প্রায় দেড় ঘণ্টা প্রসব ব্যথার পর ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই শিশুটির জন্ম হয়। পুরো স্টেশনে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাক্রমে ওই নারীর স্বামী সাগরও স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে স্ত্রী ও নবজাতকের সঙ্গে মিলিত হন। পরিবারটি নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা, আর শারমীনের বাড়ি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায়।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের লিডার সাইফুল ইসলাম বলেন, “৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর দ্রুত স্টেশনে পৌঁছে মা ও নবজাতককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারা দুজনেই ভালো আছেন।”

ঈদযাত্রার ব্যস্ততার মধ্যেও মানবিক সহায়তা ও দ্রুত উদ্যোগের ফলে মা ও নবজাতকের নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করছেন অনেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঈদযাত্রায় চলন্ত ট্রেনে সন্তানের জন্ম, মা-শিশু সুস্থ

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঈদযাত্রার ভিড়ের মধ্যেই ময়মনসিংহে চলন্ত ট্রেনে এক প্রসূতি সন্তান প্রসব করেছেন। শারমীন আক্তার (২৪) নামে ওই নারী মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জগামী হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন জানান, রাত পৌনে ২টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে প্রস্তুতি নেয়।

তিনি জানান, ট্রেনটি ময়মনসিংহ স্টেশনে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগে শারমীন আক্তার সন্তান প্রসব করেন। পরে ট্রেনে থাকা দুই নারী যাত্রীর সহায়তায় তাকে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে তুলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, শারমীন আক্তার ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠেন। তার সঙ্গে চার বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান ছিল। গফরগাঁও স্টেশন অতিক্রম করার পর তার তীব্র প্রসব ব্যথা শুরু হয়।

এ সময় ট্রেনে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান হোসাইন রবি দ্রুত সহায়তায় এগিয়ে আসেন। তিনি দুই নারী যাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে প্রসব কার্য সম্পন্ন করতে সাহায্য করেন এবং ময়মনসিংহ স্টেশনে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।

সোলায়মান হোসাইন রবি বলেন, “প্রায় দেড় ঘণ্টা প্রসব ব্যথার পর ট্রেন স্টেশনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই শিশুটির জন্ম হয়। পুরো স্টেশনে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাক্রমে ওই নারীর স্বামী সাগরও স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন এবং পরে স্ত্রী ও নবজাতকের সঙ্গে মিলিত হন। পরিবারটি নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা, আর শারমীনের বাড়ি জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায়।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের লিডার সাইফুল ইসলাম বলেন, “৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর দ্রুত স্টেশনে পৌঁছে মা ও নবজাতককে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারা দুজনেই ভালো আছেন।”

ঈদযাত্রার ব্যস্ততার মধ্যেও মানবিক সহায়তা ও দ্রুত উদ্যোগের ফলে মা ও নবজাতকের নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করছেন অনেকে।