“ধর্ম নয়, মানুষই পরিচয়” নিজের টাকায় ১০ বছর ধরে ইফতার করাচ্ছেন সনাতনী তরুণ অজিত বনিক
- আপডেট সময় : ০৮:৫৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
- / 81
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
ধর্মীয় পরিচয়ে তিনি সনাতন ধর্মের অনুসারী। কিন্তু কাজের পরিচয়ে তিনি শুধু একজন মানুষ। আর এই ‘মানুষ’ পরিচয়কেই জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি বানিয়ে নিয়েছেন ময়মনসিংহের তরুণ অজিত বণিক।
ধর্মীয় বিভাজনে ক্লান্ত এই সময়ে অজিত যেন এক নীরব প্রতিবাদ। কোনো স্লোগান নয়, কোনো বক্তৃতা নয় কাজ দিয়েই তিনি বলে দিচ্ছেন, মানুষই সবার আগে।

দীর্ঘ ১০ বছর ধরে পবিত্র রমযান মাসের শেষের দিকে একদিন, ময়মনসিংহ নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে সম্পূর্ণ নিজের জমানো অর্থে ছিন্নমূল মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করে আসছেন তিনি।
চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬) প্রায় দুই শতাধিক ছিন্নমূল মানুষের হাতে তিনি তুলে দেন ভালোবাসায় ভরা ইফতার। এই আয়োজনের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক এখানে নেই কোনো দাতা সংস্থা, নেই কোনো স্পন্সর, নেই প্রচারণার ঝলক।
আছে শুধু নিজের কষ্টার্জিত অর্থ, পরিবার-পরিজনের সহযোগিতা, আর নিখাদ মানবিকতা।

অনসাম্বল থিয়েটারের কর্মী ইফতেখারুল আলম বলেন, “যেখানে ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভাজন বাড়ছে, সেখানে অজিত বণিকের মতো তরুণরা এমন কাজ করে সমাজকে নতুন করে পথ দেখাচ্ছেন মানবতাই সবচেয়ে বড় ধর্ম।”
শুধু রমযান নয়, বছরজুড়েই এতিমখানা, পথশিশু ও অসহায় মানুষের পাশে দেখা যায় তাকে। তার প্রতিটি কাজেই যেন একটি বার্তা স্পষ্ট মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত মানবতা।
এ বিষয়ে অজিত বণিক বলেন, “আমার কাছে মানুষ পরিচয়টাই মূখ্য। ধর্ম নয়, মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই আমি তৃপ্তি পাই। যতদিন বেঁচে থাকবো, এভাবেই মানুষের পাশে থাকতে চাই।”
সমাজ সচেতন মহলের মতে, এটি একটি শক্তিশালী সামাজিক বার্তা। যেখানে অসাম্প্রদায়িক চেতনা কথায় নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। আজকের বিভাজিত সময়ে অজিত বণিকদের মতো মানুষই হয়তো নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছেন মানুষ হওয়াটাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।




















