ময়মনসিংহ জয়নুল উদ্যান এখন ‘মরণফাঁদ’: দখল ও বিশৃঙ্খলায় বিপন্ন জননিরাপত্তা
- আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / 87
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ নগরের একমাত্র উন্মুক্ত অবসরস্থল জয়নুল উদ্যান এখন সাধারণ মানুষের জন্য কার্যত এক ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। ঈদের পরদিন বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক পথচারীর মৃত্যু এবং এক শিশু গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যে উদ্যান হওয়ার কথা ছিল শিশুদের স্বস্তি আর নগরবাসীর নিঃশ্বাস নেওয়ার জায়গা, সেখানে এখন প্রতিনিয়ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বেপরোয়া যানবাহন।
দর্শনার্থীদের মতে, জয়নুল উদ্যান এখন আর পার্ক নয়, যেন একটি উন্মুক্ত ‘রেসিং ট্র্যাক’। ঘুরতে আসা অভিভাবক আসাদুজ্জামান রুবেল বলেন, “বাচ্চা নিয়ে এখানে আসা মানেই সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকা। বাইকগুলো এত দ্রুত চলে যে কখন দুর্ঘটনা ঘটবে তা বলা যায় না।” উদ্যানের প্রবেশপথগুলোতে কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা স্থায়ী ব্যারিয়ার না থাকায় যে কেউ যেকোনো যান নিয়ে অনায়াসে ঢুকে পড়ছে। ফলে পুরো উদ্যানটি এখন কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন।
উদ্যানের ভেতরের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষের হাঁটার পথ দখল করে গড়ে উঠেছে শতাধিক অস্থায়ী খাবারের দোকান। এতে চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে বাড়াচ্ছে বিশৃঙ্খলা। সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি এখন উদ্যোনের বদলে একটি অগোছালো বাজারে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই, হাঁটার জায়গা নেই। এর পেছনে একটি চক্র অর্থনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে, যাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
একই সুর ট্রাই অ্যাথলেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তুহিন তালুকদারের কণ্ঠেও। তিনি জানান, বিশৃঙ্খলার কারণে সেখানে নিয়মিত দৌড়ানো বা ব্যায়াম করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে নাগরিকরা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।
জয়নুল উদ্যানের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে রয়েছে জটিলতা। উদ্যানের ভেতরের অংশ সিটি কর্পোরেশনের, সামনের অংশ জেলা প্রশাসনের এবং আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্ব পুলিশের ওপর ন্যস্ত। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই তিন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেই সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. রুকনুজ্জামান রোকন বলেন, “পার্ক সংস্কার ও অবৈধ দখল উচ্ছেদে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৮টি স্পিডব্রেকার বসিয়ে যানের গতি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বাকি সমস্যাগুলোও সমাধান করা হবে।”
নগরবাসীর দাবি, উদ্যানের ভেতর সব ধরনের মোটরযান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। দর্শনার্থী সানজিদা আক্তার বলেন, “মানুষ এখানে শান্তি খুঁজতে আসে, কিন্তু ফিরে যায় আতঙ্ক নিয়ে।”
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, একটি শহরের সভ্যতা বোঝা যায় তার উন্মুক্ত জনপরিসরের অবস্থা দেখে। জয়নুল উদ্যান যদি অনিরাপদ থাকে, তবে তা পুরো নগর ব্যবস্থাপনার ওপরই প্রশ্ন তোলে।




















