ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে ফুয়েল কার্ড ছাড়া মিলবে না তেল: সময় ও মাইলেজ নির্ধারণসহ জেলা প্রশাসনের কড়া নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 66
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ জেলায় জ্বালানি তেলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রথা চালু করেছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে জেলা প্রশাসনের সিল ও স্বাক্ষর সম্বলিত নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো ফিলিং স্টেশন বা ডিলার পয়েন্ট থেকে মোটরযানে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না।
​সম্প্রতি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কার্ড ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা, মাইলেজ এবং সংগ্রহের নিয়মাবলি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

​নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধুমাত্র মোটরযানের জন্য জেলার সকল ফিলিং স্টেশন থেকে ভোর ৬:০০টা হতে রাত ৮:০০টা পর্যন্ত (সরবরাহ সাপেক্ষে) জ্বালানি সংগ্রহ করা যাবে। নির্ধারিত এই সময়ের বাইরে কোনো পাম্প বা ডিলার পয়েন্ট থেকে তেল সরবরাহ করা হবে না। এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেন বিহীন কোনো মোটরযানে তেল মিলবে না।

​জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনের জন্য গড় মাইলেজ নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রশাসন:
​মোটরসাইকেল:
‘ল’ সিরিজের বাইকের জন্য ৩০-৪০ কিমি/লিটার এবং ‘হ’ সিরিজের জন্য ৫০-৬০ কিমি/লিটার বিবেচনায় জ্বালানি দেওয়া হবে। তেল নেওয়ার সময় ট্যাংকে ৩০-৪০ কিমি চলার মতো তেল অবশিষ্ট থাকা অবস্থায় নতুন করে তেল নেওয়া যাবে।
​অন্যান্য যানবাহন:
‘ক’ ও ‘খ’ সিরিজের জন্য ১০ কিমি/লিটার, ‘গ’ ও ‘চ’ সিরিজের জন্য ৯ কিমি/লিটার, ‘ছ’ সিরিজের জন্য ৮ কিমি/লিটার এবং ‘ঘ’ সিরিজের জন্য ৭ কিমি/লিটার মাইলেজ ধরা হবে। এক্ষেত্রে ট্যাংকে ৬০-৭০ কিমি চলার মতো জ্বালানি অবশিষ্ট থাকতে হবে।

​ফুয়েল কার্ডের আবেদন ফরম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ওয়েবসাইট অথবা ডিসি অফিস ও ইউএনও কার্যালয়ে পাওয়া যাবে। আবেদনের সাথে নিম্নোক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে:
১. ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি।
২. গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ফটোকপি।
৩. ফিটনেস সনদের ফটোকপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
৪. এনআইডি (NID) কার্ডের ফটোকপি।
৫. ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৬. চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে অফিস প্রধানের প্রত্যয়ন বা চাকরির প্রমাণক।
​আবেদন জমা দেওয়ার স্থান:-
​সিটি কর্পোরেশন এলাকা: বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ময়মনসিংহ বরাবর।
​উপজেলা পর্যায়: সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর।

​যেহেতু গ্রাহকদের তথ্য ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে, তাই একটি যানবাহনের বিপরীতে একাধিক ফুয়েল কার্ড গ্রহণ করা যাবে না। যদি কোনো দ্বৈততা বা জালিয়াতি পরিলক্ষিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কার্ডটি বাতিলসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জেলা প্রশাসন।
​জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং অপব্যবহার রোধে নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেছে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ময়মনসিংহে ফুয়েল কার্ড ছাড়া মিলবে না তেল: সময় ও মাইলেজ নির্ধারণসহ জেলা প্রশাসনের কড়া নির্দেশনা

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

 

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ জেলায় জ্বালানি তেলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রথা চালু করেছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে জেলা প্রশাসনের সিল ও স্বাক্ষর সম্বলিত নির্ধারিত ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো ফিলিং স্টেশন বা ডিলার পয়েন্ট থেকে মোটরযানে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না।
​সম্প্রতি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কার্ড ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা, মাইলেজ এবং সংগ্রহের নিয়মাবলি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

​নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধুমাত্র মোটরযানের জন্য জেলার সকল ফিলিং স্টেশন থেকে ভোর ৬:০০টা হতে রাত ৮:০০টা পর্যন্ত (সরবরাহ সাপেক্ষে) জ্বালানি সংগ্রহ করা যাবে। নির্ধারিত এই সময়ের বাইরে কোনো পাম্প বা ডিলার পয়েন্ট থেকে তেল সরবরাহ করা হবে না। এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, ফিটনেস সনদ ও ট্যাক্স টোকেন বিহীন কোনো মোটরযানে তেল মিলবে না।

​জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহনের জন্য গড় মাইলেজ নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রশাসন:
​মোটরসাইকেল:
‘ল’ সিরিজের বাইকের জন্য ৩০-৪০ কিমি/লিটার এবং ‘হ’ সিরিজের জন্য ৫০-৬০ কিমি/লিটার বিবেচনায় জ্বালানি দেওয়া হবে। তেল নেওয়ার সময় ট্যাংকে ৩০-৪০ কিমি চলার মতো তেল অবশিষ্ট থাকা অবস্থায় নতুন করে তেল নেওয়া যাবে।
​অন্যান্য যানবাহন:
‘ক’ ও ‘খ’ সিরিজের জন্য ১০ কিমি/লিটার, ‘গ’ ও ‘চ’ সিরিজের জন্য ৯ কিমি/লিটার, ‘ছ’ সিরিজের জন্য ৮ কিমি/লিটার এবং ‘ঘ’ সিরিজের জন্য ৭ কিমি/লিটার মাইলেজ ধরা হবে। এক্ষেত্রে ট্যাংকে ৬০-৭০ কিমি চলার মতো জ্বালানি অবশিষ্ট থাকতে হবে।

​ফুয়েল কার্ডের আবেদন ফরম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ওয়েবসাইট অথবা ডিসি অফিস ও ইউএনও কার্যালয়ে পাওয়া যাবে। আবেদনের সাথে নিম্নোক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে:
১. ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি।
২. গাড়ির রেজিস্ট্রেশনের ফটোকপি।
৩. ফিটনেস সনদের ফটোকপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
৪. এনআইডি (NID) কার্ডের ফটোকপি।
৫. ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
৬. চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে অফিস প্রধানের প্রত্যয়ন বা চাকরির প্রমাণক।
​আবেদন জমা দেওয়ার স্থান:-
​সিটি কর্পোরেশন এলাকা: বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ময়মনসিংহ বরাবর।
​উপজেলা পর্যায়: সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর।

​যেহেতু গ্রাহকদের তথ্য ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে, তাই একটি যানবাহনের বিপরীতে একাধিক ফুয়েল কার্ড গ্রহণ করা যাবে না। যদি কোনো দ্বৈততা বা জালিয়াতি পরিলক্ষিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কার্ডটি বাতিলসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জেলা প্রশাসন।
​জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং অপব্যবহার রোধে নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেছে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন।