অবশেষে জাদুঘরে ঠাঁই শতাব্দী প্রাচীন মুদ্রণযন্ত্রের
- আপডেট সময় : ০৬:১৬:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
- / 261
ময়মনসিংহ নগরীর মৃত্যুঞ্জয় স্কুল এলাকায় যুগের পর যুগ অযত্ন-অবহেলায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা শতাব্দী প্রাচীন মুদ্রণযন্ত্রটির অবশেষে ঠাঁই হলো জাদুঘরে। শনিবার (৩০ আগস্ট ২০২৫) বেলা ১১টায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ফিল্ড অফিসার সাবিনা ইয়াসমিনের তত্ত্বাবধানে যন্ত্রটি উদ্ধার করে ময়মনসিংহ জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, ময়মনসিংহ অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ইউরোপে প্ল্যাটেন প্রেস তৈরির ফলে তা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের H.S. Cropper & Co.-র তৈরি প্ল্যাটেন প্রেস ভারতবর্ষের মুদ্রণশিল্পেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর ধারাবাহিকতায় প্রগতিশীল পূর্বসূরিদের হাত ধরে শতাব্দী প্রাচীন এই মুদ্রণযন্ত্রটির ময়মনসিংহে আগমন ঘটে। বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জাদুঘরে সংরক্ষিত অনুরূপ যন্ত্র মুদ্রণশিল্পের অমূল্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সদ্য গঠিত পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটি, ময়মনসিংহ গত ৬ আগস্ট মৃত্যুঞ্জয় স্কুল এলাকার কাছে যন্ত্রটির অবস্থান চিহ্নিত করে এবং তা সংরক্ষণের দাবি তোলে। পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট কমিটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ফিল্ড অফিসারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানায়, যার অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবরও প্রেরণ করা হয়।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ফিল্ড অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন সরেজমিনে যন্ত্রটি পরিদর্শন করেন এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে অনুমোদন পাওয়ার পর আজ (৩০ আগস্ট) যন্ত্রটি উদ্ধার করে জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
মুদ্রণযন্ত্র উদ্ধারের সময় উপস্থিত থেকে পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন—
“ময়মনসিংহে অসংখ্য প্রাচীন পুরাকীর্তি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। যথাযথ সংরক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের অভাবে এসব অমূল্য সম্পদ নষ্ট, বিলীন কিংবা বেহাত হচ্ছে। অস্থাবর পুরাকীর্তি জাদুঘরে সংরক্ষণ এবং স্থাবর পুরাকীর্তি সংশ্লিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।”
এ সময় পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হাসান মাসুদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল কাদের চৌধুরী ও মো: চাঁন মিয়া ফকির, সাংবাদিক শফিয়েল আলম সুমন, মো: রেজাউল ইসলাম, কবি আফতাব আহমেদ মাহবুব, চিত্তরঞ্জন দাস, জিয়া রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


























