ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইকনিক ময়মনসিংহের ‘ঈদ সদাই’ আয়োজন: মানবিক উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:২০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • / 92
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক আয়োজন ‘ঈদ সদাই’। সামাজিক সংগঠন Iconic Mymensingh-এর উদ্যোগে ১৮ মার্চ (বুধবার) শহরের টাউন হলে আয়োজিত এই কর্মসূচি নগরজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
রমজানের শেষ প্রান্তে আয়োজিত এই উদ্যোগে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মুখে ঈদের হাসি ফোটাতে নেওয়া হয় নানা আয়োজন। সুপার শপের আদলে সাজানো ভেন্যুতে আগত সুবিধাবঞ্চিত মানুষজন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ পান, যা উপস্থিত সবার কাছে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করে।


আয়োজনে ছিল ২৫টিরও বেশি ঈদ উপহার সামগ্রী। প্রতিটি উপহার ব্যাগের সঙ্গে দেওয়া হয় পবিত্র কোরআন শরীফ। পাশাপাশি ছিল নগদ অর্থ (ঈদ সালামি), খাসির গোশত, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, পোশাক ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য দ্রব্য। নারী ও শিশুদের জন্য ফ্রি মেহেদী আর্ট সেবাও ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
অনুষ্ঠানস্থলে দেখা যায়, শত শত মানুষ শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করছেন। অনেকের মুখেই ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি।

উপকারভোগী সত্তরোর্ধ্ব সালাউদ্দিন মুন্না বলেন,
“এভাবে নিজের পছন্দে জিনিস নেওয়ার সুযোগ আগে কখনো পাইনি। মনে হচ্ছে সত্যিই ঈদ চলে এসেছে।”

সংগঠনের সভাপতি আবু সাইদ মো. তসলিম বলেন, পুরো আয়োজনটি সংগঠনের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে খরচের হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, Iconic Mymensingh এর আগে পথচলা মুসাফিরদের মাঝে ইফতার বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ‘ঈদ সদাই’ আয়োজন সেই ধারাবাহিকতারই একটি বৃহৎ পরিসরের উদ্যোগ।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলী আহসান ভূঁইয়া বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আমি যা নিজে খাই না, তা অন্যকে দেবো না। তাই মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হয়নি। আমাদের লক্ষ্য একটাই গরিবের মুখে ঈদের হাসি ফুটানো।”
এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আইকনিক ময়মনসিংহের ‘ঈদ সদাই’ আয়োজন: মানবিক উদ্যোগে ব্যাপক সাড়া

আপডেট সময় : ১০:২০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত হলো ব্যতিক্রমধর্মী মানবিক আয়োজন ‘ঈদ সদাই’। সামাজিক সংগঠন Iconic Mymensingh-এর উদ্যোগে ১৮ মার্চ (বুধবার) শহরের টাউন হলে আয়োজিত এই কর্মসূচি নগরজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
রমজানের শেষ প্রান্তে আয়োজিত এই উদ্যোগে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মুখে ঈদের হাসি ফোটাতে নেওয়া হয় নানা আয়োজন। সুপার শপের আদলে সাজানো ভেন্যুতে আগত সুবিধাবঞ্চিত মানুষজন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ পান, যা উপস্থিত সবার কাছে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করে।


আয়োজনে ছিল ২৫টিরও বেশি ঈদ উপহার সামগ্রী। প্রতিটি উপহার ব্যাগের সঙ্গে দেওয়া হয় পবিত্র কোরআন শরীফ। পাশাপাশি ছিল নগদ অর্থ (ঈদ সালামি), খাসির গোশত, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, পোশাক ও ব্যক্তিগত ব্যবহার্য দ্রব্য। নারী ও শিশুদের জন্য ফ্রি মেহেদী আর্ট সেবাও ছিল অন্যতম আকর্ষণ।
অনুষ্ঠানস্থলে দেখা যায়, শত শত মানুষ শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করছেন। অনেকের মুখেই ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি।

উপকারভোগী সত্তরোর্ধ্ব সালাউদ্দিন মুন্না বলেন,
“এভাবে নিজের পছন্দে জিনিস নেওয়ার সুযোগ আগে কখনো পাইনি। মনে হচ্ছে সত্যিই ঈদ চলে এসেছে।”

সংগঠনের সভাপতি আবু সাইদ মো. তসলিম বলেন, পুরো আয়োজনটি সংগঠনের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে খরচের হিসাবও প্রকাশ করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা বাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, Iconic Mymensingh এর আগে পথচলা মুসাফিরদের মাঝে ইফতার বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ‘ঈদ সদাই’ আয়োজন সেই ধারাবাহিকতারই একটি বৃহৎ পরিসরের উদ্যোগ।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলী আহসান ভূঁইয়া বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আমি যা নিজে খাই না, তা অন্যকে দেবো না। তাই মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হয়নি। আমাদের লক্ষ্য একটাই গরিবের মুখে ঈদের হাসি ফুটানো।”
এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে ঘিরে শহরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।