ঢাকা ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উন্নয়নের মহাসড়কে ঠাকুরগাঁও, কথা রেখেছেন মির্জা ফখরুল

রিপোর্ট: এম মাসুদ রানা | নিজস্ব প্রতিবেদক, জাতীয় খবর
  • আপডেট সময় : ০২:০৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • / 24
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁও। একসময় উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে থাকা এ জেলার মানুষ আজ নতুন স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও পরিবর্তনের আলোচনায় মুখর। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, শিল্পায়ন এবং প্রশাসনিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে একের পর এক বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বদলে যেতে শুরু করেছে জেলার সামগ্রিক চিত্র।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে প্রত্যাশা। নির্বাচিত হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম। ফলে গ্রাম থেকে শহর, হাট-বাজার থেকে চায়ের দোকান—সবখানেই এখন একটি কথাই উচ্চারিত হচ্ছে, “প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুলে যাননি, কথা রেখেছেন মির্জা ফখরুল।”

গত ১৩ মে জারি হওয়া এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলায় “ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ” প্রতিষ্ঠার সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

শুধু মেডিকেল কলেজই নয়, ঠাকুরগাঁওকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট জেলায় রূপ দিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে একাধিক মেগা প্রকল্প। জেলার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে একটি নার্সিং কলেজেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নাগরিক সেবা প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে “রুহিয়া” ও “ভূল্লী” নামে দুটি নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘোষণায় এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে।

এদিকে বিসিক শিল্প নগরী-২ এর কাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কর্মসংস্থানের নতুন আশা তৈরি হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা। সেই স্বপ্নও এখন বাস্তবের পথে। আগামী ২০ মে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসছেন। মন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমানবন্দর চালু হলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরব রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তার নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভাকেও আধুনিক মডেল শহরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলায় আনা হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাট আধুনিকায়নের জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।

ভূল্লী এলাকার বাসিন্দা শাহীন ইসলাম বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও সময়মতো কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা গেলে ঠাকুরগাঁও কৃষিক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাবে। তিনি এ বিষয়ে তারেক রহমান-এর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

গত বুধবার জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ এবং খাসজমি বণ্টনসহ নানা উদ্যোগের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁও এখন উন্নয়নের অভিযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মেরাজুল হোসেন বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও বিমানবন্দর চালুর দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করা হয়েছে। আজ তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পেয়ে মানুষ আনন্দিত।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন তাজু বলেন, “উন্নয়নের ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছে, এখন শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান মেগা প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ঠাকুরগাঁও উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

উন্নয়নের মহাসড়কে ঠাকুরগাঁও, কথা রেখেছেন মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০২:০৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁও। একসময় উন্নয়নের দৌড়ে পিছিয়ে থাকা এ জেলার মানুষ আজ নতুন স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও পরিবর্তনের আলোচনায় মুখর। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, শিল্পায়ন এবং প্রশাসনিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে একের পর এক বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বদলে যেতে শুরু করেছে জেলার সামগ্রিক চিত্র।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে প্রত্যাশা। নির্বাচিত হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম। ফলে গ্রাম থেকে শহর, হাট-বাজার থেকে চায়ের দোকান—সবখানেই এখন একটি কথাই উচ্চারিত হচ্ছে, “প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুলে যাননি, কথা রেখেছেন মির্জা ফখরুল।”

গত ১৩ মে জারি হওয়া এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও জেলায় “ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ” প্রতিষ্ঠার সরকারি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

শুধু মেডিকেল কলেজই নয়, ঠাকুরগাঁওকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট জেলায় রূপ দিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে একাধিক মেগা প্রকল্প। জেলার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে একটি নার্সিং কলেজেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নাগরিক সেবা প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সদর উপজেলাকে বিভক্ত করে “রুহিয়া” ও “ভূল্লী” নামে দুটি নতুন উপজেলা গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘোষণায় এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে।

এদিকে বিসিক শিল্প নগরী-২ এর কাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কর্মসংস্থানের নতুন আশা তৈরি হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়া বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা। সেই স্বপ্নও এখন বাস্তবের পথে। আগামী ২০ মে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পরিদর্শনে আসছেন। মন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমানবন্দর চালু হলে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরব রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তার নির্বাচনি এলাকার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঠাকুরগাঁও পৌরসভাকেও আধুনিক মডেল শহরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনে বাস টার্মিনালকে শৃঙ্খলায় আনা হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাট আধুনিকায়নের জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।

ভূল্লী এলাকার বাসিন্দা শাহীন ইসলাম বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও সময়মতো কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা গেলে ঠাকুরগাঁও কৃষিক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যাবে। তিনি এ বিষয়ে তারেক রহমান-এর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

গত বুধবার জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ এবং খাসজমি বণ্টনসহ নানা উদ্যোগের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর নেতৃত্বে ঠাকুরগাঁও এখন উন্নয়নের অভিযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মেরাজুল হোসেন বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও বিমানবন্দর চালুর দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করা হয়েছে। আজ তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পেয়ে মানুষ আনন্দিত।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন তাজু বলেন, “উন্নয়নের ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়েছে, এখন শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান মেগা প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ঠাকুরগাঁও উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত হবে।