দীপু চন্দ্র দাস হত্যা: ‘এটি নৃশংস অপরাধ, কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়’ — শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার
- আপডেট সময় : ০৩:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 186
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় নিহত দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার সি আর আবরার বলেছেন, ধর্ম বা বিশ্বাসের পার্থক্য কোনোভাবেই সহিংসতার কারণ হতে পারে না। তিনি বলেন, “দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ। এর কোনো অজুহাত হতে পারে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ কাউকে দেওয়া যাবে না।”
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটায় তারাকান্দা উপজেলার বানিহালা ইউনিয়নের মোকামিয়াকান্দা গ্রামে নিহত দীপুর বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের সান্ত্বনা দেন শিক্ষা উপদেষ্টা। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বহু সম্প্রদায়ের মানুষের সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থানের দেশ। মত ও বিশ্বাস প্রকাশের অধিকার থাকলেও তা অবশ্যই দায়িত্বশীল হতে হবে এবং রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। যারা দায়ী, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নৃশংস এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
সি আর আবরার আরও বলেন, ধর্ম, জাতি বা পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। কিছু দুষ্কৃতকারী সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে—এই অপচেষ্টা প্রতিহত করতে রাষ্ট্র ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “এই পরিবার একা নয়। সরকার তাদের পাশে রয়েছে।” তিনি দ্রুত বিচার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
এসময় তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এস নাজমুস সালেহীন, সহকারী পুলিশ সুপার (ফুলপুর সার্কেল) মো. রাকিবুর রহমান রাকিব, তারাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তানভীর আহমেদসহ শিক্ষা উপদেষ্টার সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় পাইওনিয়ার নিটওয়্যার বিডি লিমিটেড কারখানার সামনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সংঘবদ্ধ জনতা দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে।




















