নাফ নদী থেকে ১৩ জেলেকে জেলে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি
- আপডেট সময় : ০৬:৩০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
- / 140
ভোর ৪টার সময় তাদের ঘাটের ইঞ্জিন চালিত কিছু নৌকা নাফ নদীর মোহনায় মাছ শিকারে যায়।
কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে তিনটি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার সকাল ৭টার সময় শাহপরীর দ্বীপ ঘোলারচর সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় মাছ শিকারের সময় তাদের ধরে নিয়ে গেছে বলে জানান সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান।
স্থানীয়রা জানান, ‘আরাকান আর্মির কারণে জেলেরা খুব আতঙ্কের মধ্যে আছেন। নাফ নদীতে মাছ শিকারে নেমে প্রায় সময় জেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে আরাকান আর্মির সদস্যরা।
স্হানীয়রা আরও বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো নৌকা নিয়ে দুই জেলে ওই এলাকায় মাছ ধরতে যায়। এ সময় মিয়ানমার থেকে এসে আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নৌকাসহ তাদের ধরে নিয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনায় জেলেদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অপহৃত জেলেরা হলেন-
মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আম্মদ (৩৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন, মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. মলা কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের ( ৪০), মো. আবদুল খালেক ও মো. জাবের মিয়া (২৪)।
অপহৃত জেলেদের সবার বাড়ি শাহপরীর দ্বীপ মাঝর পাড়া ও ডাংঙ্গর পাড়া গ্রামে বলে জানা যায়।
পূর্বের ফিরে আসা জেলেদের বরাত দিয়ে শাহ পরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর জানান, আজ শনিবার ভোর ৪টার সময় তাদের ঘাটের ইঞ্জিন চালিত কিছু নৌকা নাফ নদীর মোহনায় মাছ শিকারে যায়। সকাল ৭টার দিকে বেশ কয়েকটি নৌকাকে স্পিড বোট নিয়ে ধাওয়া করে আরাকান আর্মি। পরে অস্ত্রের মুখে ৩টি নৌকাসহ ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় তারা।
এই বিষয়টি বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাছ ধরার নৌকার মালিক ও জেলেরা আতঙ্কের মধ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান জানান, আরাকান আর্মির কারণে নাফনদী-সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলে-নৌকার মালিকদের আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাবে এবং পরিবার নিয়ে অভাবে জীবন যাপন করতে হবে। তাই এ ঘটনা বন্ধে সরকারে সহযোগিতা কামনা করছি।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইনামুল হাফিজ নাদিম জানান, নৌকার মালিক ও জেলে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের ফেরত আনতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় জেলে সমিতির সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় বছরে অন্তত চার শতাধিক জেলেকে বিভিন্ন সময় আরকান আর্মি সীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগে ধরে নিয়ে গেছে। যাদের মধ্যে প্রায় আড়াই শতাধিক জেলেকে সরকারি ভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেরত আসেন ৭৩ জেলে। আরও ৩২টি ট্রলার ও ১৭২ জন জেলে রাখাইন রাজ্যের কারাগারে আটকা রয়েছেন।




















