পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে হালুয়াঘাট-ধোবাউড়ায় বিপর্যয়, ডুবেছে শত একর ফসল
- আপডেট সময় : ০৬:৪২:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / 62
নিজস্ব প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অন্তত ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি পাশের ধোবাউড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হওয়ায় বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে পাহাড়ি ঢলের পানি হালুয়াঘাট উপজেলার বোরারঘাট নদীর বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে ঢুকে গাজীরভিটা ইউনিয়নের গাজীরভিটা, বোয়ালমারা, মহাজনীকান্দা, পাগলাবাজার, পূর্ব কালিনিকান্দা ও আনচেংগ্রী গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান, ভুট্টা ও বাদাম ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যায়।
হঠাৎ করে নিচু এলাকার ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা। অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। গবাদিপশু নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন খামারিরা।
অন্যদিকে ধোবাউড়া উপজেলার নেতাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গামারীতলা ইউনিয়নের কলসিন্দুর গ্রামের রনশিংহপুড় এলাকায় একটি রাবার ডেম সড়ক ভেঙে যায়। এতে রনশিংহপুড় ও দক্ষিণ বাঘবেড় এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে বোরারঘাট বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পরও তা স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ি ঢলে মসজিদ, কবরস্থান, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আনচেংগ্রী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, “আর কয়েক দিনের মধ্যে বোরো ধানে শীষ বের হতো। এখন সব পানির নিচে, কী হবে বুঝতে পারছি না।”
বোয়ালমারা গ্রামের বাসিন্দা মোকলেছুর রহমান বলেন, “নদীর বাঁধ কয়েক বছর আগে ভেঙেছে, কিন্তু এখনো মেরামত হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ঢুকে পড়ে।”
ধোবাউড়ার রনশিংহপুড় এলাকার বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, “হঠাৎ করে রাবার ডেম সড়ক ভেঙে পানি ঢুকে পড়েছে। কয়েকদিন পানি থাকলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক মো. এনামুল হক জানান, হালুয়াঘাটে অন্তত ২০০ একর এবং ধোবাউড়ায় প্রায় ১০০ একর জমির ফসল পানির নিচে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাত বলেন, বোরারঘাট বাঁধটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, ভেঙে যাওয়া রাবার ডেম সড়ক সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত এলাকাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অনেক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।




















