ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তিন বোনের এক দিনে জন্ম, একসঙ্গে পরীক্ষা জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে উধাও ২০ শতাংশ বাস, ভোগান্তিতে যাত্রীরা প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি আমরা বাস্তবায়ন করবো : প্রধানমন্ত্রী ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম আতঙ্ক: আরও ১ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ৪১ সোমবার থেকে ২০ শতাংশ বেশি বিক্রি হবে অকটেন, পেট্রোল-ডিজেল ১০ শতাংশ তারাকান্দায় উত্তেজনা: বিএনপির দুই গ্রুপের কর্মসূচিকে ঘিরে ১৪৪ ধারা জারি বজ্রপাতে ১৮ দিনে ১৫ জনের মৃত্যু, একদিনেই প্রাণ হারালেন ১২ জন ময়মনসিংহে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ৩৪ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জালিয়াতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দোয়ারাবাজারে সংবাদ সম্মেলন। উলিপুরে বিজ্ঞানচর্চায় নতুন দিগন্ত: জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী উচ্ছ্বাস

প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি আমরা বাস্তবায়ন করবো : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 18
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মানুষ ম্যান্ডেট দিয়েছে বিএনপিকে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য। মানুষ ম্যান্ডেট দিয়েছে বিএনপিকে যেই জুলাই সনদে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য। কাজেই যার ম্যান্ডেট বাংলাদেশের জনগণ আমাদেরকে দিয়েছে, যেই প্রতিশ্রুতি আমরা জনগণকে দিয়েছি, আসুন আমরা শপথ করি- সেই শপথ হবে প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি আমরা বাস্তবায়ন করবো।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। সকল প্রকার রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। হরণ করা হয়েছিল তাদের ভোটের অধিকার। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপিসহ বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকারে বিশ্বাস করে, সেই দলগুলো ধীরে ধীরে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সমগ্র দেশে ছাত্র-জনতাসহ সকল নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। সেই দিন স্বৈরাচার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল এই বাংলাদেশ থেকে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের হারিয়ে যাওয়া ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের তাদের কথা বলার অধিকার- যা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এক যুগেরও বেশি সময় ধরে, সেই অধিকারকে আবার প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ দেখেছিল সেই এক যুগ সময় ধরে, যখন মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না, কথা বলার অধিকার ছিল না। আমরা দেখেছিলাম কীভাবে দেশের উন্নয়নের নাম করে, মেগা প্রজেক্টের নাম করে মেগা দুর্নীতি করা হয়েছিল। দেশের মানুষের লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা কীভাবে বিদেশে পাচার করেছে, দেশের মানুষ দেখেছে সেটি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে—যে অধিকার একসময় কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ স্পষ্ট রায় দিয়েছে, আগামী পাঁচ বছর দেশের দায়িত্ব কাদের হাতে তুলে দিতে চায়। ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষকে বলেছিলাম- দায়িত্ব পেলে কীভাবে দেশ পরিচালনা করব।

তিনি বলেন, আজ বগুড়ার গাবতলীতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের মায়েদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। আল্লাহর রহমতে সরকার গঠনের পরপরই আমরা সেই কাজ শুরু করেছি। শুধু তাই নয়, আমরা বলেছিলাম কৃষকদের পাশেও দাঁড়াব। যেমন মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, তেমনি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। সেই কাজও আমরা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আমরা আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ আছে, সেই ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। আল্লাহর রহমতে সরকার গঠনের প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই আমরা সেই কাজ সম্পন্ন করেছি। এর ফলে সারা দেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ হয়েছে। আমরা আরও বলেছিলাম- মসজিদ, এতিমখানা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানজনক ভাতা নিশ্চিত করা হবে। আপনাদের দোয়ায় আমরা সেই কাজও বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করব। কারণ, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে বর্ষায় বন্যা হয়, মানুষ কষ্ট পায়, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল নষ্ট হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব দেখা দেয়। এই সমস্যা সমাধানে আমরা আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি এবং সেই কাজ শুরু করেছি। বিএনপি আপনাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি কাজ বাস্তবায়ন করছি। এই কাজগুলো দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ-এসব বাস্তবায়ন হলে দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর আমরা বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়েও কাজ শুরু করেছি, যাতে কম খরচে দেশের তরুণরা বিদেশে চাকরি পেতে পারে। ইনশাআল্লাহ, শিগগিরই এ বিষয়ে সুখবর দেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি আমরা বাস্তবায়ন করবো : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৪১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, মানুষ ম্যান্ডেট দিয়েছে বিএনপিকে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য। মানুষ ম্যান্ডেট দিয়েছে বিএনপিকে যেই জুলাই সনদে বিএনপি স্বাক্ষর করেছে সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার জন্য। কাজেই যার ম্যান্ডেট বাংলাদেশের জনগণ আমাদেরকে দিয়েছে, যেই প্রতিশ্রুতি আমরা জনগণকে দিয়েছি, আসুন আমরা শপথ করি- সেই শপথ হবে প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি আমরা বাস্তবায়ন করবো।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। সকল প্রকার রাজনৈতিক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। হরণ করা হয়েছিল তাদের ভোটের অধিকার। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপিসহ বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দল, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকারে বিশ্বাস করে, সেই দলগুলো ধীরে ধীরে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সমগ্র দেশে ছাত্র-জনতাসহ সকল নারী-পুরুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। সেই দিন স্বৈরাচার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল এই বাংলাদেশ থেকে।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের হারিয়ে যাওয়া ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ তাদের তাদের কথা বলার অধিকার- যা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এক যুগেরও বেশি সময় ধরে, সেই অধিকারকে আবার প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ দেখেছিল সেই এক যুগ সময় ধরে, যখন মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না, কথা বলার অধিকার ছিল না। আমরা দেখেছিলাম কীভাবে দেশের উন্নয়নের নাম করে, মেগা প্রজেক্টের নাম করে মেগা দুর্নীতি করা হয়েছিল। দেশের মানুষের লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা কীভাবে বিদেশে পাচার করেছে, দেশের মানুষ দেখেছে সেটি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি এই দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে—যে অধিকার একসময় কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ স্পষ্ট রায় দিয়েছে, আগামী পাঁচ বছর দেশের দায়িত্ব কাদের হাতে তুলে দিতে চায়। ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষকে বলেছিলাম- দায়িত্ব পেলে কীভাবে দেশ পরিচালনা করব।

তিনি বলেন, আজ বগুড়ার গাবতলীতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেছি। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের মায়েদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। আল্লাহর রহমতে সরকার গঠনের পরপরই আমরা সেই কাজ শুরু করেছি। শুধু তাই নয়, আমরা বলেছিলাম কৃষকদের পাশেও দাঁড়াব। যেমন মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, তেমনি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। সেই কাজও আমরা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আমরা আরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ আছে, সেই ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। আল্লাহর রহমতে সরকার গঠনের প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই আমরা সেই কাজ সম্পন্ন করেছি। এর ফলে সারা দেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ হয়েছে। আমরা আরও বলেছিলাম- মসজিদ, এতিমখানা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানজনক ভাতা নিশ্চিত করা হবে। আপনাদের দোয়ায় আমরা সেই কাজও বাস্তবায়ন করতে পেরেছি।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করব। কারণ, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে বর্ষায় বন্যা হয়, মানুষ কষ্ট পায়, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল নষ্ট হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব দেখা দেয়। এই সমস্যা সমাধানে আমরা আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি এবং সেই কাজ শুরু করেছি। বিএনপি আপনাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি কাজ বাস্তবায়ন করছি। এই কাজগুলো দেশের খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ-এসব বাস্তবায়ন হলে দেশের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।

তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর আমরা বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়েও কাজ শুরু করেছি, যাতে কম খরচে দেশের তরুণরা বিদেশে চাকরি পেতে পারে। ইনশাআল্লাহ, শিগগিরই এ বিষয়ে সুখবর দেওয়া হবে।