ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পেলেন সংগীতশিল্পী লায়ন মো. ওমর ফারুক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে দুই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, পুলিশের সোর্স সাগর গ্রেপ্তার নবাবগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার। আইইডিসিআর-এর পরিচালককে নিজ কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ আট বিভাগে বৃষ্টির আভাস, কমবে তাপমাত্রা এসআরবি-১৪, সিপিএসসি, ময়মনসিংহ এর পৃথক অভিযানে হত্যা ও অপহরণ মামলার ০২ আসামি গ্রেফতার। পুরান ঢাকায় এক পঙ্গু হতদরিদ্র ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার উপহার দিলো ছাত্রদল নেতারা  হযরতপুরে চাচা হাজী দুঃখ মিয়া বিরুদ্ধে জাল দলিল ও জমি দখলের অভিযোগ তুলেছে ভাতিজা আলা. পুরান ঢাকার সফল সংগঠক মোস্তাকের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

বাবা-চাচার চুক্তি ঘিরে ১২ বছরের আওসাফকে ফেরত পেতে না পারায় বিপাকে পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • / 152
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিঃসন্তান বড় ভাইয়ের কোল ভরতে ১২ বছরের জন্য সন্তান লালনপালনের শর্তে তুলে দিয়েছিলেন এক দম্পতি। কিন্তু ১২ বছর পরও সন্তান ফেরত পাচ্ছেন না তারা। বরং অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসক বড় ভাই শিশুটিকে নিজের সন্তান দাবি করছেন এবং জন্মনিবন্ধন পরিবর্তন করেছেন।

ভুক্তভোগী গনিউল জাদিদ বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত তার বড় ভাই ডা. আসাদুজ্জামান দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক বিভাগীয় প্রধান। বর্তমানে তিনি রংপুরে নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গনিউল জাদিদের বাবা ওসমান গনির দুই সংসার। প্রথম সংসারে চার ছেলে ও তিন মেয়ে থাকলেও ছেলেদের কেউ সন্তান রাখেননি। দ্বিতীয় সংসারের বড় ছেলে জাদিদের দুই সন্তান ছিল। নিঃসন্তান বড় ভাই ডা. আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রী শিশুটিকে ১২ বছর লালনপালনের জন্য গ্রহণ করেন, শর্ত ছিল—১২ বছর পর শিশুটি ফেরত দেওয়া হবে।

প্রাথমিকভাবে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চললেও ২০২২ সালে আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রী জন্মনিবন্ধন নিজেদের নামে করে শিশুটিকে নিজের সন্তান দাবি করতে শুরু করেন। জাদিদ শিশুটিকে ফেরত নিতে গেলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

২০২৫ সালের মে মাসে হজ্জ্বের আগে শিশু আওসাফকে জাদিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর জাদিদ ও তার স্ত্রী তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে স্কুলে ভর্তি করার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু ট্রান্সফার সার্টিফিকেট সংগ্রহের সময় দেখা যায় জন্মনিবন্ধনে শিশুর বাবা-মা হিসেবে আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। দুই জন্মনিবন্ধনের তারিখ একই থাকলেও বাবা-মায়ের নাম ভিন্ন।

এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আসাদুজ্জামান শিশুকে রংপুরে ডাকেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন স্কুলের প্রয়োজনীয় কাজ শেষে হস্তান্তর করবেন। কিন্তু পরে তারা ফোনে জাদিদকে জানান, “বাচ্চাকে দেব না, পারলে কি কর।” এরপর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

অভিযোগ অনুসারে ১২ অক্টোবর জাদিদ রংপুরে গিয়ে তার সন্তান দেখতে গেলে তার উপর উৎশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও সন্তানের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে জাদিদ দম্পতি মামলা দায়ের করেন।

জাদিদ ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে দিশাহারা। তার স্ত্রী ইলা শারমিন বলেন, “আমার সন্তান এখন কোথায়, কেমন আছে তা জানি না। আমরা তাকে ফেরত চাই।”

অভিযুক্ত ডা. আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি; তারা কল রিসিভ করেননি বা উত্তেজিত হয়ে কল কেটে দেন।

এই ঘটনায় শিশু লালনপালন ও জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও পারিবারিক বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাবা-চাচার চুক্তি ঘিরে ১২ বছরের আওসাফকে ফেরত পেতে না পারায় বিপাকে পরিবার

আপডেট সময় : ০৩:২৫:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

নিঃসন্তান বড় ভাইয়ের কোল ভরতে ১২ বছরের জন্য সন্তান লালনপালনের শর্তে তুলে দিয়েছিলেন এক দম্পতি। কিন্তু ১২ বছর পরও সন্তান ফেরত পাচ্ছেন না তারা। বরং অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসক বড় ভাই শিশুটিকে নিজের সন্তান দাবি করছেন এবং জন্মনিবন্ধন পরিবর্তন করেছেন।

ভুক্তভোগী গনিউল জাদিদ বিশ্ব ব্যাংকের একটি প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত তার বড় ভাই ডা. আসাদুজ্জামান দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সাবেক বিভাগীয় প্রধান। বর্তমানে তিনি রংপুরে নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গনিউল জাদিদের বাবা ওসমান গনির দুই সংসার। প্রথম সংসারে চার ছেলে ও তিন মেয়ে থাকলেও ছেলেদের কেউ সন্তান রাখেননি। দ্বিতীয় সংসারের বড় ছেলে জাদিদের দুই সন্তান ছিল। নিঃসন্তান বড় ভাই ডা. আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রী শিশুটিকে ১২ বছর লালনপালনের জন্য গ্রহণ করেন, শর্ত ছিল—১২ বছর পর শিশুটি ফেরত দেওয়া হবে।

প্রাথমিকভাবে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চললেও ২০২২ সালে আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রী জন্মনিবন্ধন নিজেদের নামে করে শিশুটিকে নিজের সন্তান দাবি করতে শুরু করেন। জাদিদ শিশুটিকে ফেরত নিতে গেলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

২০২৫ সালের মে মাসে হজ্জ্বের আগে শিশু আওসাফকে জাদিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর জাদিদ ও তার স্ত্রী তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে স্কুলে ভর্তি করার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু ট্রান্সফার সার্টিফিকেট সংগ্রহের সময় দেখা যায় জন্মনিবন্ধনে শিশুর বাবা-মা হিসেবে আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। দুই জন্মনিবন্ধনের তারিখ একই থাকলেও বাবা-মায়ের নাম ভিন্ন।

এরপর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আসাদুজ্জামান শিশুকে রংপুরে ডাকেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন স্কুলের প্রয়োজনীয় কাজ শেষে হস্তান্তর করবেন। কিন্তু পরে তারা ফোনে জাদিদকে জানান, “বাচ্চাকে দেব না, পারলে কি কর।” এরপর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

অভিযোগ অনুসারে ১২ অক্টোবর জাদিদ রংপুরে গিয়ে তার সন্তান দেখতে গেলে তার উপর উৎশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। পুলিশও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও সন্তানের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে জাদিদ দম্পতি মামলা দায়ের করেন।

জাদিদ ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে দিশাহারা। তার স্ত্রী ইলা শারমিন বলেন, “আমার সন্তান এখন কোথায়, কেমন আছে তা জানি না। আমরা তাকে ফেরত চাই।”

অভিযুক্ত ডা. আসাদুজ্জামান ও তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি; তারা কল রিসিভ করেননি বা উত্তেজিত হয়ে কল কেটে দেন।

এই ঘটনায় শিশু লালনপালন ও জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও পারিবারিক বিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।