ঢাকা ১২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ে শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা, বর–কনেসহ নিহত ১৩

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / 86
আজকের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনেসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে মোংলা–খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জলবায়ু, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম-ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলেকে বিয়ে দিয়ে খুলনার কয়রা এলাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী নৌবাহিনীর স্টাফবাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন মারা যান। এছাড়া আহত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় নৌবাহিনীর স্টাফবাসের অন্তত ১৪ জন সদস্যও আহত হয়েছেন এবং তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে, চার নাতি, নববধূ ও তার এক স্বজনসহ মোট ১২ জন এবং মাইক্রোবাসের চালক।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চারটি মরদেহ আনা হয়েছে, তবে তখনও তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহত দুইজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানান, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী এবং তিনজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

ঘটনার পর বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিয়ে শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনা, বর–কনেসহ নিহত ১৩

আপডেট সময় : ০৫:৩৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর–কনেসহ ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে মোংলা–খুলনা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতির খোঁজখবর নিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জলবায়ু, বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম-ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলেকে বিয়ে দিয়ে খুলনার কয়রা এলাকা থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী নৌবাহিনীর স্টাফবাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন মারা যান। এছাড়া আহত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় নৌবাহিনীর স্টাফবাসের অন্তত ১৪ জন সদস্যও আহত হয়েছেন এবং তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে, চার নাতি, নববধূ ও তার এক স্বজনসহ মোট ১২ জন এবং মাইক্রোবাসের চালক।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে চারটি মরদেহ আনা হয়েছে, তবে তখনও তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহত দুইজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ জানান, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ আনা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী এবং তিনজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

ঘটনার পর বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন এবং পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।